১০:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তামাক কর কাঠামো সংস্কারের দাবি, টেকসই ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতির অনুরোধ

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, তামাক খাতে করনীতি ভালোভাবে সহজ, স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হওয়া প্রয়োজন। এমন একটি বাস্তবমুখী কর কাঠামো দাবি করা হয়েছে যা রাজস্ব বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা ও সামগ্রিক অর্থনীতিকেও সহায়ক হবে।

বুধবার (১ মার্চ) রাজধানীর বনানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত ‘তামাক কর: স্বল্পমেয়াদি রাজস্ব বনাম দীর্ঘমেয়াদি টেকসইতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা উঠে আসে। ইভেন্টে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের প্রতিনিধিরাও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পিআরআইয়ের গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার উদ্বোধনী বক্তব্য দেন এবং পিআরআইর মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান আলোচনা সঞ্চালনা করেন।

প্রবন্ধে বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে তামাক পণ্যের কর ও মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হলেও রাজস্বে বাস্তব বৃদ্ধির পরিমাণ কমেছে। ২০২৪ সালের জুন ও ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে কর ও মূল্য বৃদ্ধির ফলে বাজারে সিগারেটের বিক্রি হ্রাস পায়, যার ফলে রাজস্ব বৃদ্ধিও সীমিত থাকে।

তথ্য অনুযায়ী, দেশে তামাকের ওপর কার্যকর করের হার প্রায় ৮৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে অন্যতম উচ্চ। এই অবস্থায় কেবল করের হার বাড়িয়েই রাজস্ব বাড়ানোর সুযোগ অনেকটাই সঙ্কুচিত। পাশাপাশি, বারবার ও হঠাৎ কর ও মূল্য সমন্বয় বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে এবং অবৈধ বাণিজ্যের সুযোগ বাড়াচ্ছে।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন, রাজস্ব আহরণ ও বাজার স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে একটি পরিপক্ক, কাঠামোগত ও পূর্বানুমানযোগ্য করনীতি প্রয়োজন। ঘন ঘন কর পরিবর্তন ভোক্তাদের কোথায় যাবে তা অনিশ্চিত করে এবং নিম্নমূল্যের পণ্যের প্রতি ঝোঁক সৃষ্টি করে, যা বাজারকে অবাঞ্ছিতভাবে বিকৃত করে।

উপস্হিতরা উপস্থিত মুসলেছে, বিদ্যমান বহুস্তর কর কাঠামো জটিল হলে রাজস্ব পূর্বাভাস দুর্বল হয়। তাই ধাপে ধাপে মূল্যভিত্তিক বা অ্যান-ভ্যালোর ভিত্তিক কর পদ্ধতি থেকে সুনির্দিষ্ট (per unit) কর পদ্ধতিতে রূপান্তরের সুপারিশ করা হয়েছে—যা বাস্তবায়নে সহজ ও রাজস্ব আদায়ে সহায়ক হবে।

অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো, বাজার তদারকি জোরদার করা এবং উৎপাদন পর্যায়ে আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি চালুর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বক্তারা সতর্ক করেন যে বর্তমান কাঠামোর কারণে বৈধ উৎপাদকদের মুনাফা কমে যাওয়ায় অবৈধ ব্যবসা তুলনামূলকভাবে বেশি লাভজনক হয়ে উঠছে।

সামগ্রিকভাবে বক্তারা মনে করেন, টেকসই প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ সহায়তা ও খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এখনই একটি ভারসাম্যপূর্ণ, স্বচ্ছ ও দূরদর্শী তামাক কর কাঠামো গ্রহণের সময়। এর মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানো, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধ—এই তিনটি লক্ষ্যই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

তামাক কর কাঠামো সংস্কারের দাবি, টেকসই ও পূর্বানুমানযোগ্য নীতির অনুরোধ

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, তামাক খাতে করনীতি ভালোভাবে সহজ, স্বচ্ছ, পূর্বানুমানযোগ্য এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হওয়া প্রয়োজন। এমন একটি বাস্তবমুখী কর কাঠামো দাবি করা হয়েছে যা রাজস্ব বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশাসনিক দক্ষতা ও সামগ্রিক অর্থনীতিকেও সহায়ক হবে।

বুধবার (১ মার্চ) রাজধানীর বনানীতে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই) আয়োজিত ‘তামাক কর: স্বল্পমেয়াদি রাজস্ব বনাম দীর্ঘমেয়াদি টেকসইতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা উঠে আসে। ইভেন্টে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আর্নস্ট অ্যান্ড ইয়ংয়ের প্রতিনিধিরাও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পিআরআইয়ের গবেষণা পরিচালক ড. বজলুল হক খন্দকার উদ্বোধনী বক্তব্য দেন এবং পিআরআইর মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. আশিকুর রহমান আলোচনা সঞ্চালনা করেন।

প্রবন্ধে বলা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছর থেকে তামাক পণ্যের কর ও মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হলেও রাজস্বে বাস্তব বৃদ্ধির পরিমাণ কমেছে। ২০২৪ সালের জুন ও ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে কর ও মূল্য বৃদ্ধির ফলে বাজারে সিগারেটের বিক্রি হ্রাস পায়, যার ফলে রাজস্ব বৃদ্ধিও সীমিত থাকে।

তথ্য অনুযায়ী, দেশে তামাকের ওপর কার্যকর করের হার প্রায় ৮৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে অন্যতম উচ্চ। এই অবস্থায় কেবল করের হার বাড়িয়েই রাজস্ব বাড়ানোর সুযোগ অনেকটাই সঙ্কুচিত। পাশাপাশি, বারবার ও হঠাৎ কর ও মূল্য সমন্বয় বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে এবং অবৈধ বাণিজ্যের সুযোগ বাড়াচ্ছে।

আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন, রাজস্ব আহরণ ও বাজার স্থিতিশীলতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে একটি পরিপক্ক, কাঠামোগত ও পূর্বানুমানযোগ্য করনীতি প্রয়োজন। ঘন ঘন কর পরিবর্তন ভোক্তাদের কোথায় যাবে তা অনিশ্চিত করে এবং নিম্নমূল্যের পণ্যের প্রতি ঝোঁক সৃষ্টি করে, যা বাজারকে অবাঞ্ছিতভাবে বিকৃত করে।

উপস্হিতরা উপস্থিত মুসলেছে, বিদ্যমান বহুস্তর কর কাঠামো জটিল হলে রাজস্ব পূর্বাভাস দুর্বল হয়। তাই ধাপে ধাপে মূল্যভিত্তিক বা অ্যান-ভ্যালোর ভিত্তিক কর পদ্ধতি থেকে সুনির্দিষ্ট (per unit) কর পদ্ধতিতে রূপান্তরের সুপারিশ করা হয়েছে—যা বাস্তবায়নে সহজ ও রাজস্ব আদায়ে সহায়ক হবে।

অবৈধ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বাড়ানো, বাজার তদারকি জোরদার করা এবং উৎপাদন পর্যায়ে আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি চালুর ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বক্তারা সতর্ক করেন যে বর্তমান কাঠামোর কারণে বৈধ উৎপাদকদের মুনাফা কমে যাওয়ায় অবৈধ ব্যবসা তুলনামূলকভাবে বেশি লাভজনক হয়ে উঠছে।

সামগ্রিকভাবে বক্তারা মনে করেন, টেকসই প্রবৃদ্ধি, বিনিয়োগ সহায়তা ও খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এখনই একটি ভারসাম্যপূর্ণ, স্বচ্ছ ও দূরদর্শী তামাক কর কাঠামো গ্রহণের সময়। এর মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানো, বাজার নিয়ন্ত্রণ ও অবৈধ বাণিজ্য প্রতিরোধ—এই তিনটি লক্ষ্যই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।