০৮:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ১৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আইওএম সহযোগিতায় তেহরান থেকে ১৮৬ বাংলাদেশিকে ফেরত আনা হয়েছে: শামা ওবায়েদ ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ার ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার সারাদেশে অভিযান: অবৈধভাবে মজুত করা ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার প্রধানমন্ত্রী: খেলোয়াড়রা রাজনীতিতে না এসে ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ে তুলুন ৩০ এপ্রিল সিলেট থেকে শুরু হচ্ছে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ অবৈধ জ্বালানি তেল মজুত-পাচার রোধে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা মার্চের প্রথম ২৮ দিনে রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড: ৩.৩৩ বিলিয়ন ডলার বিদ্যুৎমন্ত্রী ঘোষণা: প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ বাতিল সরকার ১১ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ করেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরু

জয়দেবপুর রেলক্রসিং দখলমুক্ত, নগরবাসীর স্বস্তি

গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলক্রসিং এলাকায় সোমবার (৩০ মার্চ) গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও রেলওয়ের যৌথ অভিযানে পুনরায় দখল উচ্ছেদ করে ওই স্থান দখলমুক্ত করা হয়েছে। অভিযানে রেলক্রসিং ঘিরে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান, অস্থায়ী স্থাপনা ও হকাররা সরিয়ে দেওয়া হয়, যাতে নাগরিক চলাচল স্বাচ্ছন্দ্য ফিরে আসে।

দীর্ঘদিন ধরে হকার, অবৈধ দখল ও অটোরিকশার অনিয়ম জনজীবন ব্যাহত করায় এখানকার ক্ষোভ বেড়ে গিয়েছিল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি উঠে আসার পরপরই সিটি প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে এ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল হাসান, জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘গাজীপুরকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব একটি গ্রীন সিটি হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার প্রতি আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো থেকে অবৈধ দখল অপসারণ করা হচ্ছে। এই অভিযান একদিনের নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।’

তিনি আরও জানান, ‘উচ্ছেদের পর যেন পুনরায় দখল না হয়—তার জন্য নিয়মিত তদারকি করা হবে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দখল প্রতিরোধে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং চাঁদাবাজি যে কোনো ক্ষেত্রে কড়াভাবে দমন করা হবে।’

শওকত হোসতনের বরাতে প্রশাসন ব্যবসায়ীদের মানবিকভাবে দেখভালের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি জানান, আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের আয়োজন করা হবে, যাতে তারা সুশৃঙ্খল পরিবেশে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল হাসান বলেন, ‘জয়দেবপুর রেলক্রসিং গাজীপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র; এখানে প্রতিদিন ব্যাপকসংখ্যক মানুষ চলাচল করে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করতে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি। এই উচ্ছেদ অভিযান নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন শৃঙ্খলা আনবে।’ তিনি আরও জানান, রেলক্রসিং ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, ফুটপাত সংস্কার ও নাগরিক চলাচল সহজ করার মতো একটি সমন্বিত আধুনিকায়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অভিযানের পর স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং বলেন, রেলক্রসিং এলাকাটি দীর্ঘদিন পর স্বাভাবিক চেহারা ফিরে পাচ্ছে। তথাপি তারা এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার দাবি তুলেছেন, যাতে পুনরায় কেউ জায়গা দখল করতে না পারে।

অপর দিকে উচ্ছেদ হওয়া ভাসমান ব্যবসায়ীরা দ্রুত পুনর্বাসনের অনুরোধ করেছেন। তারা বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকলে হঠাৎ উচ্ছেদে তাদের জীবিকায় সমস্যা দেখা দেবে এবং অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে হবে। প্রশাসন জানিয়েছে যে উচ্ছেদ এবং পুনর্বাসন—দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় রেখে আইনমাফিক উপায়ে কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।

জয়দেবপুর রেলক্রসিং, একসময় যা গাজীপুরবাসীর কষ্টের জায়গা হিসেবে পরিচিত ছিল—এখানকার পরিবেশ পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের ধারাবাহিক উদ্যোগ কতটা স্থায়ী সমাধান দিতে পারবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে গড়ার ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার

জয়দেবপুর রেলক্রসিং দখলমুক্ত, নগরবাসীর স্বস্তি

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলক্রসিং এলাকায় সোমবার (৩০ মার্চ) গাজীপুর সিটি করপোরেশন ও রেলওয়ের যৌথ অভিযানে পুনরায় দখল উচ্ছেদ করে ওই স্থান দখলমুক্ত করা হয়েছে। অভিযানে রেলক্রসিং ঘিরে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকান, অস্থায়ী স্থাপনা ও হকাররা সরিয়ে দেওয়া হয়, যাতে নাগরিক চলাচল স্বাচ্ছন্দ্য ফিরে আসে।

দীর্ঘদিন ধরে হকার, অবৈধ দখল ও অটোরিকশার অনিয়ম জনজীবন ব্যাহত করায় এখানকার ক্ষোভ বেড়ে গিয়েছিল। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি উঠে আসার পরপরই সিটি প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে এ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্ব দেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার। অভিযানে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল হাসান, জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘গাজীপুরকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব একটি গ্রীন সিটি হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার প্রতি আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো থেকে অবৈধ দখল অপসারণ করা হচ্ছে। এই অভিযান একদিনের নয়, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।’

তিনি আরও জানান, ‘উচ্ছেদের পর যেন পুনরায় দখল না হয়—তার জন্য নিয়মিত তদারকি করা হবে। মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দখল প্রতিরোধে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং চাঁদাবাজি যে কোনো ক্ষেত্রে কড়াভাবে দমন করা হবে।’

শওকত হোসতনের বরাতে প্রশাসন ব্যবসায়ীদের মানবিকভাবে দেখভালের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি জানান, আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের আয়োজন করা হবে, যাতে তারা সুশৃঙ্খল পরিবেশে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল হাসান বলেন, ‘জয়দেবপুর রেলক্রসিং গাজীপুর শহরের প্রাণকেন্দ্র; এখানে প্রতিদিন ব্যাপকসংখ্যক মানুষ চলাচল করে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করতে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি। এই উচ্ছেদ অভিযান নগর ব্যবস্থাপনায় নতুন শৃঙ্খলা আনবে।’ তিনি আরও জানান, রেলক্রসিং ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, ফুটপাত সংস্কার ও নাগরিক চলাচল সহজ করার মতো একটি সমন্বিত আধুনিকায়ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অভিযানের পর স্থানীয়রা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এবং বলেন, রেলক্রসিং এলাকাটি দীর্ঘদিন পর স্বাভাবিক চেহারা ফিরে পাচ্ছে। তথাপি তারা এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার দাবি তুলেছেন, যাতে পুনরায় কেউ জায়গা দখল করতে না পারে।

অপর দিকে উচ্ছেদ হওয়া ভাসমান ব্যবসায়ীরা দ্রুত পুনর্বাসনের অনুরোধ করেছেন। তারা বলেন, বিকল্প ব্যবস্থা না থাকলে হঠাৎ উচ্ছেদে তাদের জীবিকায় সমস্যা দেখা দেবে এবং অর্থনৈতিক সংকটে পড়তে হবে। প্রশাসন জানিয়েছে যে উচ্ছেদ এবং পুনর্বাসন—দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় রেখে আইনমাফিক উপায়ে কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হবে।

জয়দেবপুর রেলক্রসিং, একসময় যা গাজীপুরবাসীর কষ্টের জায়গা হিসেবে পরিচিত ছিল—এখানকার পরিবেশ পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের ধারাবাহিক উদ্যোগ কতটা স্থায়ী সমাধান দিতে পারবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।