১১:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত: বিশ্বজুড়ে খাদ্যদামের উত্থান অপতথ্য রোধে পুরোনো কাঠামোতে আমূল সংস্কার জরুরি: তথ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রথমবারের বৈঠক—গঠিত হচ্ছে ‘বেসরকারি খাত উপদেষ্টা পরিষদ’ জ্বালানি সংকটে অফিসঘণ্টা বদল, সন্ধ্যা ৬টার পর মার্কেট বন্ধের নির্দেশ ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জে অর্থনীতি: জ্বালানি, মূল্যস্ফীতি ও ডলারের চাপ জ্বালানি সঙ্কটে অফিস সময় বদল — সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা জ্বালানি সাশ্রয়ে রাত ৮টার মধ্যে দোকান-শপিংমল বন্ধের ঘোষণা হরমুজ এড়িয়ে ইয়ানবু থেকে বিকল্প পথে ১ লক্ষ টন তেল চট্টগ্রামে আসছে সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর যুব কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী নিযুক্ত দেশে ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র, মোট ক্ষমতা ২৮,৯১৯ মেগাওয়াট: বিদ্যুৎমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত: বিশ্বজুড়ে খাদ্যদামের উত্থান

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। মূলত জ্বালানি ও সারসহ উৎপাদনমূল্যের ঊর্ধ্বগতিই এ তাড়াহুড়োর প্রধান কারণ — এমন তথ্য জানানো হয়েছে সংস্থার খাদ্যমূল্য সূচক (ফুড প্রাইস ইনডেক্স)–এ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) প্রকাশিত ওই সূচকে মার্চ মাসে খাবারের গড় দাম ফেব্রুয়ারির তুলনায় ২.৪ শতাংশ বেড়েছে।

এফএও’র প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেছেন, ‘‘যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে পরিমিত পর্যায়ে রয়েছে। তবে এই সংঘাত ৪০ দিনের বেশি স্থায়ী হলে এবং সারসহ উৎপাদনখরচ উচুতেই থাকলে কৃষকরা কষ্টের মুখে পড়বেন।’’

তোরেরো আরো বলেছেন, কৃষকরা সার কম ব্যবহার করে একই জমিতে চাষ চালানো, উৎপাদন কমিয়ে নেওয়া বা এমন ফসল বেছে নেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন। এর ফলে ভবিষ্যতে ফলন কমে আসবে এবং চলতি বছরের বাকি সময় ও আগামী বছরের খাদ্যসরবরাহ ও দাম নির্ধারণে বড় প্রভাব পড়বে।

সূচকের উপাত্ত অনুযায়ী তেলজাত দ্রব্যের মধ্যে উদ্ভিজ্জ তেলের দাম সবচেয়ে বেশি বাড়েছে — ফেব্রুয়ারির তুলনায় ৫.১ শতাংশ। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় পাম অয়েল প্রথম দিকে বাড়তে শুরু করে, এখন তা ২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে গেছে।

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে ছেঁড়াঝাঁড়ি তৈরি করেছে এবং লাখ লাখ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলেছে। লড়াই বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করে অর্থনৈতিক ও শিল্পকেন্দ্রগুলোতে আঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকেও দুর্বল করে তুলছে। যুদ্ধের প্রভাব কেবল সামরিক এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকা নয় — তা রণক্ষেত্রের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে।

তবে এখনও কোনো পক্ষ থেকে উত্তেজনা প্রশমনের স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলেনি। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অথবা ইরানের মধ্যে বিরোধকৃত পরিস্থিতি কাটছাঁট হচ্ছে না; বরং কিছু ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপের হুমকিও দেখা গেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। 이에 পালটা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ‘‘সেতুসহ বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনে ইরানিদের আত্মসমর্পণ করানো যাবে না।’’

ফলত, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারমূল্য স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত খাদ্যদামের ওঠানামা চলতে পারে এবং তা গরিব ও মধ্যবিত্ত ভোক্তাদের উপর বিশেষভাবে প্রভাব ফেলবে। আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সরবরাহশৃঙ্খলের ঝঞ্ঝাট কেমন রকম প্রভাব ফেলে তা নিরীক্ষণ করে চলতে হবে, বলছে বিশ্লেষকরা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

অপতথ্য রোধে পুরোনো কাঠামোতে আমূল সংস্কার জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত: বিশ্বজুড়ে খাদ্যদামের উত্থান

প্রকাশিতঃ ০৭:২৭:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফএও জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। মূলত জ্বালানি ও সারসহ উৎপাদনমূল্যের ঊর্ধ্বগতিই এ তাড়াহুড়োর প্রধান কারণ — এমন তথ্য জানানো হয়েছে সংস্থার খাদ্যমূল্য সূচক (ফুড প্রাইস ইনডেক্স)–এ। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) প্রকাশিত ওই সূচকে মার্চ মাসে খাবারের গড় দাম ফেব্রুয়ারির তুলনায় ২.৪ শতাংশ বেড়েছে।

এফএও’র প্রধান অর্থনীতিবিদ ম্যাক্সিমো তোরেরো বলেছেন, ‘‘যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মূল্যবৃদ্ধি তুলনামূলকভাবে পরিমিত পর্যায়ে রয়েছে। তবে এই সংঘাত ৪০ দিনের বেশি স্থায়ী হলে এবং সারসহ উৎপাদনখরচ উচুতেই থাকলে কৃষকরা কষ্টের মুখে পড়বেন।’’

তোরেরো আরো বলেছেন, কৃষকরা সার কম ব্যবহার করে একই জমিতে চাষ চালানো, উৎপাদন কমিয়ে নেওয়া বা এমন ফসল বেছে নেওয়ার মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন। এর ফলে ভবিষ্যতে ফলন কমে আসবে এবং চলতি বছরের বাকি সময় ও আগামী বছরের খাদ্যসরবরাহ ও দাম নির্ধারণে বড় প্রভাব পড়বে।

সূচকের উপাত্ত অনুযায়ী তেলজাত দ্রব্যের মধ্যে উদ্ভিজ্জ তেলের দাম সবচেয়ে বেশি বাড়েছে — ফেব্রুয়ারির তুলনায় ৫.১ শতাংশ। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় পাম অয়েল প্রথম দিকে বাড়তে শুরু করে, এখন তা ২০২২ সালের মাঝামাঝি থেকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে গেছে।

এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে ছেঁড়াঝাঁড়ি তৈরি করেছে এবং লাখ লাখ মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলেছে। লড়াই বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লক্ষ্যবস্তুকে নিশানা করে অর্থনৈতিক ও শিল্পকেন্দ্রগুলোতে আঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকেও দুর্বল করে তুলছে। যুদ্ধের প্রভাব কেবল সামরিক এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকা নয় — তা রণক্ষেত্রের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ছে।

তবে এখনও কোনো পক্ষ থেকে উত্তেজনা প্রশমনের স্পষ্ট ইঙ্গিত মেলেনি। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল অথবা ইরানের মধ্যে বিরোধকৃত পরিস্থিতি কাটছাঁট হচ্ছে না; বরং কিছু ক্ষেত্রে কঠোর পদক্ষেপের হুমকিও দেখা গেছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানের বিরুদ্ধে আরও কড়া অবস্থান নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। 이에 পালটা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, ‘‘সেতুসহ বেসামরিক স্থাপনায় আঘাত হেনে ইরানিদের আত্মসমর্পণ করানো যাবে না।’’

ফলত, বিশ্ববাজারে জ্বালানি ও সারমূল্য স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত খাদ্যদামের ওঠানামা চলতে পারে এবং তা গরিব ও মধ্যবিত্ত ভোক্তাদের উপর বিশেষভাবে প্রভাব ফেলবে। আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সরবরাহশৃঙ্খলের ঝঞ্ঝাট কেমন রকম প্রভাব ফেলে তা নিরীক্ষণ করে চলতে হবে, বলছে বিশ্লেষকরা।