১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জে অর্থনীতি: জ্বালানি, মূল্যস্ফীতি ও ডলারের চাপ জ্বালানি সঙ্কটে অফিস সময় বদল — সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা জ্বালানি সাশ্রয়ে রাত ৮টার মধ্যে দোকান-শপিংমল বন্ধের ঘোষণা হরমুজ এড়িয়ে ইয়ানবু থেকে বিকল্প পথে ১ লক্ষ টন তেল চট্টগ্রামে আসছে সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর যুব কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী নিযুক্ত দেশে ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র, মোট ক্ষমতা ২৮,৯১৯ মেগাওয়াট: বিদ্যুৎমন্ত্রী এলপি গ্যাসের দাম একলাফে বাড়ল, ১২ কেজি সিলিন্ডার এখন ১,৭২৮ টাকা বিজন কান্তি সরকার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিযুক্ত আগামী ঈদে সড়ক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হবে: সেতু ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ত্রয়োদশ সংসদের সংসদ কমিটির তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত

যশোরে উলাসী-যদুনাথপুর ‘জিয়া খাল’ পুনখননের দাবি

যশোরের শার্শা উপজেলার উলাসী-যদুনাথপুর খাল — এককালে এলাকার পানির নিষ্কাশন ও কৃষিকে বদলে দেওয়ার প্রতীক — দীর্ঘদিনের অবহেলায় আজ প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। স্থানীয় মানুষ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন বলছে, খালটি পুনরায় খনন ও সংস্কার করা না হলে আবারও কৃষি বিপর্যয় এবং জলাবদ্ধতার শিকার হবে পুরো এলাকা।

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মেজর (অব.) জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমে এই খালের খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খননে হাজার হাজার স্থানীয় মানুষ অংশ নেন; তখনকার উদ্যোগটি গণমুখী ও সাফল্যমণ্ডিত বলে বিবেচিত হয়েছে। ফলকে খোদিত লেখাও স্থানীয়দের স্মৃতিতে রয়ে গেছে।

খননের আগে উত্তর শার্শার পাঁচটি বড় বিল থেকে পানির নিস্কাশন ঠিকমত হতো না। ফলে প্রায় ২২ হাজার একর জমি বর্ষার বেশিরভাগ সময় পানিতে ডুবে থাকত এবং লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চাষবাস সম্ভব হতো না। খাল চালু হলে বিলগুলোর পানি সহজেই বেতনা নদীতে নেমে যেতে শুরু করে এবং জমি আবাদযোগ্য হওয়ায় কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। খালের পানি ব্যবহার করে সেচ ব্যবস্থাও উন্নত হয়, যা বোরো ধানের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

তবে দিনলিপি অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে খালটি সংস্কারহীনতার কারণে পলিপ্রবাহে ভরাট হয়ে পড়ে। শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি থাকে বললেই চলে না, আর বর্ষাকালে পানির যথাযথ নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়। খালের পাড়ে থাকা ঐতিহাসিক ফলক ও কয়েকটি পুরনো ভবনও এখন জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত। এলাকার মানুষ বলছেন—যেখানে একসময় উন্নয়ন সভা ও জমকালো কাজ হতো, সেখানে এখন আগাছা আর নীরবতা।

স্থানীয় প্রবীণরা স্মৃতিচারণায় বলেন, খাল খননের সময় মানুষের মধ্যে যে উদ্দীপনা ও ঐক্য ছিল তা আজও তাদের মনে জাগ্রত। ১১৪ বছর বার্ধক্যপ্রাপ্ত আব্দুল বারেক মন্ডল জানান, ‘‘স্বাধীনতার পরও পানির সঠিক নিষ্কাশন না থাকায় আমাদের জমি ফলপ্রসূ হতো না। খাল খননের পরে আমরা স্বল্প সময়ে উল্লেখযোগ্য ফসল পাই।’’

গ্রামের অন্যরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে কিছু লোক বাজারের নাস্তা ও আবর্জনা সরাসরি খালে ফেলে আসায় খালটি নর্দমায় পরিণত হয়েছে এবং পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, খাল রক্ষা না করলে বর্ষায় আবারও ফসল পানিতে ডুবে যাবে।

এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি ও কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুনরায় খাল খননের দাবি তুলেছেন। তারা জিয়াউর রহমানের পরিবারের সদস্য এবং বর্তমান সরকারের কাছে দ্রুত সংস্কার ও খননের অনুরোধ করেছেন। শার্শা উপজেলা যুবদল নেতা এমদাদুর রহমান ইমদা বলেন, ‘‘জিয়ার সেই উদ্যোগকে পুনরুজ্জীবিত করা দরকার। আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করবে।’’

স্থানীয়রা বিপর্যয় রোধে আইনী ও প্রশাসনিক সহযোগিতা, বরাদ্দ ও পরিকল্পিত সংস্কারের উপর জোর দিচ্ছেন। তাদের দাবি—খাল পুনখনন হলে পুনরায় ফলন বাড়বে, সেচ ব্যবস্থা সুসংহত হবে এবং এলাকার কৃষিজীবী পুনরায় স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে ফিরতে পারবে। স্থানীয় প্রশাসন ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে এখন তৎপর হতে হবে—নদীমাতৃক এ ঐতিহাসিক খালটি যাতে আবারও জীবন্ত হয়, সেটাই প্রত্যাশা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

জ্বালানি সঙ্কটে অফিস সময় বদল — সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা

যশোরে উলাসী-যদুনাথপুর ‘জিয়া খাল’ পুনখননের দাবি

প্রকাশিতঃ ০৭:২৩:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

যশোরের শার্শা উপজেলার উলাসী-যদুনাথপুর খাল — এককালে এলাকার পানির নিষ্কাশন ও কৃষিকে বদলে দেওয়ার প্রতীক — দীর্ঘদিনের অবহেলায় আজ প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। স্থানীয় মানুষ এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন বলছে, খালটি পুনরায় খনন ও সংস্কার করা না হলে আবারও কৃষি বিপর্যয় এবং জলাবদ্ধতার শিকার হবে পুরো এলাকা।

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মেজর (অব.) জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমে এই খালের খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খননে হাজার হাজার স্থানীয় মানুষ অংশ নেন; তখনকার উদ্যোগটি গণমুখী ও সাফল্যমণ্ডিত বলে বিবেচিত হয়েছে। ফলকে খোদিত লেখাও স্থানীয়দের স্মৃতিতে রয়ে গেছে।

খননের আগে উত্তর শার্শার পাঁচটি বড় বিল থেকে পানির নিস্কাশন ঠিকমত হতো না। ফলে প্রায় ২২ হাজার একর জমি বর্ষার বেশিরভাগ সময় পানিতে ডুবে থাকত এবং লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী চাষবাস সম্ভব হতো না। খাল চালু হলে বিলগুলোর পানি সহজেই বেতনা নদীতে নেমে যেতে শুরু করে এবং জমি আবাদযোগ্য হওয়ায় কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। খালের পানি ব্যবহার করে সেচ ব্যবস্থাও উন্নত হয়, যা বোরো ধানের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

তবে দিনলিপি অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে খালটি সংস্কারহীনতার কারণে পলিপ্রবাহে ভরাট হয়ে পড়ে। শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি থাকে বললেই চলে না, আর বর্ষাকালে পানির যথাযথ নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়। খালের পাড়ে থাকা ঐতিহাসিক ফলক ও কয়েকটি পুরনো ভবনও এখন জরাজীর্ণ ও পরিত্যক্ত। এলাকার মানুষ বলছেন—যেখানে একসময় উন্নয়ন সভা ও জমকালো কাজ হতো, সেখানে এখন আগাছা আর নীরবতা।

স্থানীয় প্রবীণরা স্মৃতিচারণায় বলেন, খাল খননের সময় মানুষের মধ্যে যে উদ্দীপনা ও ঐক্য ছিল তা আজও তাদের মনে জাগ্রত। ১১৪ বছর বার্ধক্যপ্রাপ্ত আব্দুল বারেক মন্ডল জানান, ‘‘স্বাধীনতার পরও পানির সঠিক নিষ্কাশন না থাকায় আমাদের জমি ফলপ্রসূ হতো না। খাল খননের পরে আমরা স্বল্প সময়ে উল্লেখযোগ্য ফসল পাই।’’

গ্রামের অন্যরা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে কিছু লোক বাজারের নাস্তা ও আবর্জনা সরাসরি খালে ফেলে আসায় খালটি নর্দমায় পরিণত হয়েছে এবং পানি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। স্থানীয়রা বলছেন, খাল রক্ষা না করলে বর্ষায় আবারও ফসল পানিতে ডুবে যাবে।

এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয়রা তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি ও কর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে পুনরায় খাল খননের দাবি তুলেছেন। তারা জিয়াউর রহমানের পরিবারের সদস্য এবং বর্তমান সরকারের কাছে দ্রুত সংস্কার ও খননের অনুরোধ করেছেন। শার্শা উপজেলা যুবদল নেতা এমদাদুর রহমান ইমদা বলেন, ‘‘জিয়ার সেই উদ্যোগকে পুনরুজ্জীবিত করা দরকার। আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত উদ্যোগ গ্রহণ করবে।’’

স্থানীয়রা বিপর্যয় রোধে আইনী ও প্রশাসনিক সহযোগিতা, বরাদ্দ ও পরিকল্পিত সংস্কারের উপর জোর দিচ্ছেন। তাদের দাবি—খাল পুনখনন হলে পুনরায় ফলন বাড়বে, সেচ ব্যবস্থা সুসংহত হবে এবং এলাকার কৃষিজীবী পুনরায় স্বয়ংসম্পূর্ণতার দিকে ফিরতে পারবে। স্থানীয় প্রশাসন ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে এখন তৎপর হতে হবে—নদীমাতৃক এ ঐতিহাসিক খালটি যাতে আবারও জীবন্ত হয়, সেটাই প্রত্যাশা।