১০:১০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
দেশ গঠনে সব ধর্মাবলম্বীর ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী হাম-রুবেলা প্রতিরোধে ১৮ জেলা, ৩০ উপজেলায় জরুরি টিকাদান শুরু দুর্যোগ প্রতিরোধে আরও ১২৮টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ আমেরিকার সঙ্গে কোনো গোপনীয় চুক্তি নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো একক ব্যক্তির নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়নি: মির্জা ফখরুল মানবসম্পদ রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য: চিফ হুইপ বার কাউন্সিলের নির্বাচন হবে ১৯ মে ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬ প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর জাননি ইরান সংঘাতে এখনও পর্যন্ত ৬ প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত

ইরানের স্পিকার প্রকাশ করলেন ভূপাতিত মার্কিন বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রোববার (৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ করেছেন, যা তিনি দাবি করেন—ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত করা একটি মার্কিন সামরিক বিমানের। ছবিতে একটি বড় কায়ামের বিমান আগুনে ভস্মীভূত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকা দেখা যাচ্ছে এবং গালিবাফ তা দেখিয়ে মার্কিন প্রশাসনকে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র এমন ‘বিজয়’-জনিত বিমানহানি আরও তিনবার দেখত, তাদের সামরিক অহংকার পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।

রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দাবি—ইসফাহান প্রদেশে একটি সি-১৩০ (C-130) সামরিক পরিবহন বিমান ভূপাতিত হয়েছে। তারা জানান, ওই বিমানটি মূলত গত শুক্রবার বিধ্বস্ত হওয়া এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু উদ্ধারের অভিযানে অংশ নেওয়ার সময় ঘটনাস্থলে ছিল। ইরান এই অভিযানকে তাদের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ প্রতিহত করার কঠোরতা হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

ইরানি সামরিক কর্তৃপক্ষ আরও দাবি করেছে যে শুধু সি-১৩০ নয়, তাদের অভিযানে দুইটি ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টারও ভূপাতিত হয়েছে। সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের এক মুখপাত্র বলছেন, উদ্ধারকারী দলের ওপর এই আক্রমণ ছিল সুপরিকল্পিত একটি যৌথ অপারেশন এবং তাতে অ্যারোস্পেস ইউনিট, স্থল বাহিনী, আধাসামরিক বসিজ ও পুলিশ কমান্ডের পাশাপাশি ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিটও অংশ নিয়েছিল।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত শুক্রবার সকালে, যখন একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। ওই দিন এক পাইলটকে তত্ক্ষণাৎ উদ্ধার করা গিয়েছিল; অপর এক ক্রু তখন নিখোঁজ ছিলেন। মার্কিন বাহিনী তার উদ্ধারে তৎপর হলেও, পরের অভিযানে অংশ নেওয়া বিমানগুলো হারিয়ে যাওয়ার কথা ইরানি দাবি মনে করিয়ে দেয় পরিস্থিতির তীব্রতা। পরে তথ্যানুসারে ওই নিখোঁজ ক্রুকে দুই দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ওই দাবি সম্পর্কে ওয়াশিংটন বা পেন্টাগন থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ও সামরিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনায় সতর্ক করছেন যে, আকাশপথে পাল্টাপাল্টি ক্ষয়ক্ষতি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও বড় মারাত্মক সংঘাতে ঠেলে দিতে পারে।

বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ বলছে, ইরানের স্পিকারের পক্ষ থেকে ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ করা মানসিক-চাপে (সাইকোলজিক্যাল) জোর দেখানো বা প্রোপাগান্ডার কৌশলও হতে পারে। তেহরান এমনভাবে বার্তা দিচ্ছে যে আধুনিক মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিও তাদের প্রতিরক্ষার সামনে অসহায়। পুরো ঘটনায় দখলদার দুই পক্ষের দাবির মধ্যে সত্য ও তথ্যের যাচাই এখনও অনিশ্চিত, এবং বিনাশী এই চিত্র ইরান-মার্কিন উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

হাম-রুবেলা প্রতিরোধে ১৮ জেলা, ৩০ উপজেলায় জরুরি টিকাদান শুরু

ইরানের স্পিকার প্রকাশ করলেন ভূপাতিত মার্কিন বিমানের ধ্বংসাবশেষের ছবি

প্রকাশিতঃ ০২:২৫:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ রোববার (৫ এপ্রিল) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ একটি ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ করেছেন, যা তিনি দাবি করেন—ইরানের আকাশসীমায় ভূপাতিত করা একটি মার্কিন সামরিক বিমানের। ছবিতে একটি বড় কায়ামের বিমান আগুনে ভস্মীভূত অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকা দেখা যাচ্ছে এবং গালিবাফ তা দেখিয়ে মার্কিন প্রশাসনকে কটাক্ষ করেছেন। তিনি বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র এমন ‘বিজয়’-জনিত বিমানহানি আরও তিনবার দেখত, তাদের সামরিক অহংকার পুরোপুরি ধূলিসাৎ হয়ে যাবে।

রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা ফার্স নিউজের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দাবি—ইসফাহান প্রদেশে একটি সি-১৩০ (C-130) সামরিক পরিবহন বিমান ভূপাতিত হয়েছে। তারা জানান, ওই বিমানটি মূলত গত শুক্রবার বিধ্বস্ত হওয়া এফ-১৫ যুদ্ধবিমানের নিখোঁজ ক্রু উদ্ধারের অভিযানে অংশ নেওয়ার সময় ঘটনাস্থলে ছিল। ইরান এই অভিযানকে তাদের আকাশসীমায় অনুপ্রবেশ প্রতিহত করার কঠোরতা হিসেবে উপস্থাপন করেছে।

ইরানি সামরিক কর্তৃপক্ষ আরও দাবি করেছে যে শুধু সি-১৩০ নয়, তাদের অভিযানে দুইটি ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টারও ভূপাতিত হয়েছে। সেনাবাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের এক মুখপাত্র বলছেন, উদ্ধারকারী দলের ওপর এই আক্রমণ ছিল সুপরিকল্পিত একটি যৌথ অপারেশন এবং তাতে অ্যারোস্পেস ইউনিট, স্থল বাহিনী, আধাসামরিক বসিজ ও পুলিশ কমান্ডের পাশাপাশি ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ইউনিটও অংশ নিয়েছিল।

ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত শুক্রবার সকালে, যখন একটি মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হয়। ওই দিন এক পাইলটকে তত্ক্ষণাৎ উদ্ধার করা গিয়েছিল; অপর এক ক্রু তখন নিখোঁজ ছিলেন। মার্কিন বাহিনী তার উদ্ধারে তৎপর হলেও, পরের অভিযানে অংশ নেওয়া বিমানগুলো হারিয়ে যাওয়ার কথা ইরানি দাবি মনে করিয়ে দেয় পরিস্থিতির তীব্রতা। পরে তথ্যানুসারে ওই নিখোঁজ ক্রুকে দুই দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ওই দাবি সম্পর্কে ওয়াশিংটন বা পেন্টাগন থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো স্বীকৃতি পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা ও সামরিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনায় সতর্ক করছেন যে, আকাশপথে পাল্টাপাল্টি ক্ষয়ক্ষতি মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিকে আরও বড় মারাত্মক সংঘাতে ঠেলে দিতে পারে।

বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশ বলছে, ইরানের স্পিকারের পক্ষ থেকে ধ্বংসাবশেষের ছবি প্রকাশ করা মানসিক-চাপে (সাইকোলজিক্যাল) জোর দেখানো বা প্রোপাগান্ডার কৌশলও হতে পারে। তেহরান এমনভাবে বার্তা দিচ্ছে যে আধুনিক মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিও তাদের প্রতিরক্ষার সামনে অসহায়। পুরো ঘটনায় দখলদার দুই পক্ষের দাবির মধ্যে সত্য ও তথ্যের যাচাই এখনও অনিশ্চিত, এবং বিনাশী এই চিত্র ইরান-মার্কিন উত্তেজনাকে নতুন মাত্রায় পৌঁছে দিয়েছে।