১১:২১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বাংলাদেশ ব্যাংক বাতিল করল ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, জহিরকে প্রশাসক নিয়োগ নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে আটকে পড়ায় সফর বাতিল করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ভারতের আপত্তিতে নেপাল থেকে বাংলাদেশへの অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি স্থগিত অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন ইতিহাস সঠিকভাবে বললে বিকৃতকারীরা হেলিকপ্টারে পালাতে বাধ্য হন: তথ্যমন্ত্রী নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় আইনের কার্যকর প্রয়োগ জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী নারী-শিশু অধিকার রক্ষায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী দেশকে শিল্পসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বৃষ্টির মধ্যেও কক্সবাজারে একদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরছে নরওয়ে — অদ্ভুত কিন্তু পেশাদার প্রস্তুতি

দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার পর আবারো বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে এসেছে নরওয়ে। ১৯৯৮ সালের পর ছয়বারের যোগ্যতার ব্যর্থতার পর এবার আর্লিং হাল্যান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডের নেতৃত্বে ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশটি। টুর্নামেন্ট শুরু হতে মাত্র দু’দিন বাকি থাকতে নরওয়ে দল ইতোমধ্যে মার্কিন মাটিতে পৌঁছে গেছে—তবে মাঠে নামার আগে তাদের একটি অনন্য সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও খাদ্যাভ্যাসকে প্রাধান্য দিয়ে নরওয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট নিজেদের দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ খাবার আমদানি করেছে। আমেরিকার স্থানীয় খাবারের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে তারা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী ও পুষ্টিকর খাবারই গ্রহণে আকর্ষণ দেখিয়েছে। টিমের সঙ্গে রাখা খাদ্যতালিকায় রয়েছে ৩০০ কেজি তাজা লাল মাছ এবং ১১৬ কেজি নরওেজিয়ান ব্রাউন চিজ। মূল উদ্দেশ্য—বৃহৎ টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের নিয়মিত পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং বিদেশেও পরিচিত স্বাদ বজায় রাখা।

দলের খাবার প্রস্তুতির দায়িত্বে ছিলেন দুইজন অভিজ্ঞ শেফ: অ্যারন এসপেল্যান্ড এবং এইরিক তুফতে। শেফ অ্যারন আগে ২০২০ সালের অলিম্পিকেও নরওয়ে দলের খাবারের দায়িত্বে ছিলেন। তারা দলের দীর্ঘদিনের প্রধান শেফের সঙ্গে মিলে হাল্যান্ড ও ওডেগার্ডদের শারীরিক চাহিদা অনুসারে একটি বিশেষ পুষ্টিকর ডায়েট তৈরি করছেন—যা কেবল শক্তি জোগাবে না, খেলোয়াড়দের ক্লান্তি কমাতে এবং ফিল্ডে ধ্রুব পারফরম্যান্স রাখতেও সাহায্য করবে।

বেশ কিছু খাদ্যদ্রব্য দেশ থেকে বহন করা লজিস্টিক্যাল দিক থেকে বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। শেফ অ্যারন বলেছেন, ‘‘খাঁটি নরওেজিয়ান উপাদানের মানের ওপর আমাদের অটল বিশ্বাসই এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।’’ তিনি যোগ করেন, তারা প্রতিটি উপকরণের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত থাকতে চান—এমনকি কোন কৃষক চাষ করেছেন বা কোন জেলে মাছটি ধরেছেন—এসব বিষয়ে খোলাখুলি দেখা-মেলাও তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে দেশের সেরা উপকরণ দিয়ে ফুটবলারদের সেবা করতে পারাটা তাদের কাছে গর্বের বিষয়।

নরওয়ের এই নিখুঁত ও পেশাদার প্রস্তুতি ফুটবল মহলে ব্যাপক কৌতূহ্য জাগিয়েছে। অনেকেই মনে করেন, খাদ্য ও ডায়েটের প্রতি এই গভীর মনোযোগ খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিক কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। আর্লিং হাল্যান্ডের মতো গোলমেশিন এবং ওডেগার্ডের মতো মাঝমাঠের স্তম্ভ থেকে সেরাটা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই এই সূক্ষ্ম পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

দীর্ঘদিন পর বিশ্বমঞ্চে ফিরে নরওয়ে শুধু তাদের ফুটবল দক্ষতাই প্রদর্শন করবে না—তারা তাদের জীবনযাত্রার রীতিনীতি, পুষ্টি-বিজ্ঞানের গুরুত্ব ও উন্নত ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে বিশ্বকে দেখাতে চায় যে সাফল্য শুধু দক্ষতায় নয়, পরিকল্পনা ও যত্নেও গড়া।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে আটকে পড়ায় সফর বাতিল করে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান

২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরছে নরওয়ে — অদ্ভুত কিন্তু পেশাদার প্রস্তুতি

প্রকাশিতঃ ০২:২২:২৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

দীর্ঘ ২৮ বছরের অপেক্ষার পর আবারো বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে এসেছে নরওয়ে। ১৯৯৮ সালের পর ছয়বারের যোগ্যতার ব্যর্থতার পর এবার আর্লিং হাল্যান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডের নেতৃত্বে ২০২৬ বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ার দেশটি। টুর্নামেন্ট শুরু হতে মাত্র দু’দিন বাকি থাকতে নরওয়ে দল ইতোমধ্যে মার্কিন মাটিতে পৌঁছে গেছে—তবে মাঠে নামার আগে তাদের একটি অনন্য সিদ্ধান্ত বিশ্বব্যাপী আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও খাদ্যাভ্যাসকে প্রাধান্য দিয়ে নরওয়ে টিম ম্যানেজমেন্ট নিজেদের দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ খাবার আমদানি করেছে। আমেরিকার স্থানীয় খাবারের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে তারা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী ও পুষ্টিকর খাবারই গ্রহণে আকর্ষণ দেখিয়েছে। টিমের সঙ্গে রাখা খাদ্যতালিকায় রয়েছে ৩০০ কেজি তাজা লাল মাছ এবং ১১৬ কেজি নরওেজিয়ান ব্রাউন চিজ। মূল উদ্দেশ্য—বৃহৎ টুর্নামেন্টে খেলোয়াড়দের নিয়মিত পুষ্টি নিশ্চিত করা এবং বিদেশেও পরিচিত স্বাদ বজায় রাখা।

দলের খাবার প্রস্তুতির দায়িত্বে ছিলেন দুইজন অভিজ্ঞ শেফ: অ্যারন এসপেল্যান্ড এবং এইরিক তুফতে। শেফ অ্যারন আগে ২০২০ সালের অলিম্পিকেও নরওয়ে দলের খাবারের দায়িত্বে ছিলেন। তারা দলের দীর্ঘদিনের প্রধান শেফের সঙ্গে মিলে হাল্যান্ড ও ওডেগার্ডদের শারীরিক চাহিদা অনুসারে একটি বিশেষ পুষ্টিকর ডায়েট তৈরি করছেন—যা কেবল শক্তি জোগাবে না, খেলোয়াড়দের ক্লান্তি কমাতে এবং ফিল্ডে ধ্রুব পারফরম্যান্স রাখতেও সাহায্য করবে।

বেশ কিছু খাদ্যদ্রব্য দেশ থেকে বহন করা লজিস্টিক্যাল দিক থেকে বড় একটি চ্যালেঞ্জ ছিল। শেফ অ্যারন বলেছেন, ‘‘খাঁটি নরওেজিয়ান উপাদানের মানের ওপর আমাদের অটল বিশ্বাসই এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।’’ তিনি যোগ করেন, তারা প্রতিটি উপকরণের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত থাকতে চান—এমনকি কোন কৃষক চাষ করেছেন বা কোন জেলে মাছটি ধরেছেন—এসব বিষয়ে খোলাখুলি দেখা-মেলাও তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে দেশের সেরা উপকরণ দিয়ে ফুটবলারদের সেবা করতে পারাটা তাদের কাছে গর্বের বিষয়।

নরওয়ের এই নিখুঁত ও পেশাদার প্রস্তুতি ফুটবল মহলে ব্যাপক কৌতূহ্য জাগিয়েছে। অনেকেই মনে করেন, খাদ্য ও ডায়েটের প্রতি এই গভীর মনোযোগ খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিক কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে। আর্লিং হাল্যান্ডের মতো গোলমেশিন এবং ওডেগার্ডের মতো মাঝমাঠের স্তম্ভ থেকে সেরাটা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই এই সূক্ষ্ম পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে।

দীর্ঘদিন পর বিশ্বমঞ্চে ফিরে নরওয়ে শুধু তাদের ফুটবল দক্ষতাই প্রদর্শন করবে না—তারা তাদের জীবনযাত্রার রীতিনীতি, পুষ্টি-বিজ্ঞানের গুরুত্ব ও উন্নত ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে বিশ্বকে দেখাতে চায় যে সাফল্য শুধু দক্ষতায় নয়, পরিকল্পনা ও যত্নেও গড়া।