০৮:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সাংবাদিকরা সবসময় পাশে ছিলেন: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে হবে — প্রধানমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালকের সাক্ষ্যকে ‘গোপন বৈঠক’ বলা ভিত্তিহীন: বিজিবির ব্যাখ্যা অসৌজন্যমূলক আচরণে ভারতের সফর বাতিল করে দেশে ফিরেছেন জাহেদ উর রহমান অমিত শাহের সঙ্গে মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ ‘গোপন বৈঠক’ নয়: বিজিবির ব্যাখ্যা দিল্লি বিমানবন্দরে অসৌজন্যমূল্যের প্রতিবাদে ভারত সফর বাতিল করেছেন ডা. জাহেদ উর রহমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ: ঢাকার ভেতর থেকে সরানো হবে তিনটি দূরপাল্লা বাস টার্মিনাল সম্পূরক বাজেটে ব্যয় কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা; ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি নয়াদিল্লি থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ঢাকার যানজট কমাতে তিনটি প্রধান বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের নির্দেশ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

রনি অভিযোগ: ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র অনেকেই চেহারা বদলে দিয়েছে, অনেকে পালিয়েছে

সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ওই সময়ে একটি শক্তিশালী ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’ গড়ে উঠেছিল যা ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থলোপটের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তিনি সাম্প্রতিক ফেসবুক ভিডিও বার্তায় এই গোষ্ঠীর গঠন, তাদের কর্মকাণ্ড এবং বিপুল অর্থের অনিয়মের নানা খতিয়ান তুলে ধরেন।

রনি জানান, এই ‘কোম্পানি’ মূলত কয়েকটি প্রভাবশালী অংশে বিভক্ত ছিল। প্রথমত, শীর্ষস্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী যারা ক্ষমতা অপব্যবহার করে বড় সুবিধা আত্মসাৎ করেছে। দ্বিতীয়ত, আমলাতন্ত্র, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান এবং সামরিক বাহিনীর এমন কিছু সদস্য যারা ব্যক্তিগতভাবে ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংকের পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার বা নিকট সম্পর্কের মধ্যে ছিল। তৃতীয়ত, এনজিও ও ব্যাংকিং খাতে যুক্ত একটি বড় চক্রও নানা রিপোর্ট বা জরিপের আড়ালে কোটি কোটি টাকা জোগাড় ও ব্যয় করার অভিযোগ তিনি তোলেন।

অর্থনৈতিক অনিয়ম নিয়ে রনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় দেশের বৈদেশিক ঋণ ছিল প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার; কিন্তু ইউনূস সরকারের ১৮ মাসে সেই ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারে। অতিরিক্ত যে ২০ বিলিয়ন ডলার হলো, তা কোথায় ব্যয় হয়েছে—এটি তার বড় প্রশ্ন। তিনি বলেন, রিশিডিউল বা ঋণ মওকুফের নামে নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেওয়া এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ ছাপিয়ে কিছুকে সুবিধা দেয়া হয়েছে বলে তার অভিযোগ। রনির দাবি, এডিপি ও অন্যান্য প্রকল্প মিলিয়ে গত সময়ে প্রচুর অর্থ খরচ করা হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি; তার সংখ্যা হিসেবে তিনি দুই বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ কোটি টাকার কথা তুলে ধরেন।

ভিডিওতে রনি এই গোষ্ঠীর নৈতিক অবক্ষয়কেও সামনে এনেছেন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে তারা প্রতিপক্ষকে নাজেহাল এবং অপমান করার মাধ্যমে তাদের ক্ষমতা দেখিয়েছেন, ফলে এখন তাদের কোনো ‘মোরাল কারেজ’ বা নৈতিক শক্তি রক্ষা হয়নি। সেই কারণে, রনির মতে, এই ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র একটি বড় অংশ এখন তাদের রূপ বদলে নিয়েছে; কেউ কেউ নিজের পরিচয় গোপন করেছে, কেউ কেউ বর্তমান তারেক রহমানের সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করেছে, আর অনেকে বিচার এড়াতে বিদেশে পালিয়ে গেছে—এমনটাই তার মূল্যায়ন।

ভিডিওতে রনি উপরের সমস্ত দাবি ও হিসাব তুলে ধরে আলোকপাত করেছেন—কীভাবে এত বড় অঙ্কের অর্থ লোপাট হল এবং এর জন্য দায়ীদের কে খুঁজে বের করবে সমাজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সে প্রশ্ন তিনি তুলেছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে হবে — প্রধানমন্ত্রী

রনি অভিযোগ: ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র অনেকেই চেহারা বদলে দিয়েছে, অনেকে পালিয়েছে

প্রকাশিতঃ ০৭:২৫:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬

সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, ওই সময়ে একটি শক্তিশালী ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’ গড়ে উঠেছিল যা ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থলোপটের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তিনি সাম্প্রতিক ফেসবুক ভিডিও বার্তায় এই গোষ্ঠীর গঠন, তাদের কর্মকাণ্ড এবং বিপুল অর্থের অনিয়মের নানা খতিয়ান তুলে ধরেন।

রনি জানান, এই ‘কোম্পানি’ মূলত কয়েকটি প্রভাবশালী অংশে বিভক্ত ছিল। প্রথমত, শীর্ষস্থানীয় কিছু ব্যবসায়ী গোষ্ঠী যারা ক্ষমতা অপব্যবহার করে বড় সুবিধা আত্মসাৎ করেছে। দ্বিতীয়ত, আমলাতন্ত্র, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠান এবং সামরিক বাহিনীর এমন কিছু সদস্য যারা ব্যক্তিগতভাবে ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংকের পরিবারের সঙ্গে আত্মীয়তার বা নিকট সম্পর্কের মধ্যে ছিল। তৃতীয়ত, এনজিও ও ব্যাংকিং খাতে যুক্ত একটি বড় চক্রও নানা রিপোর্ট বা জরিপের আড়ালে কোটি কোটি টাকা জোগাড় ও ব্যয় করার অভিযোগ তিনি তোলেন।

অর্থনৈতিক অনিয়ম নিয়ে রনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের সময় দেশের বৈদেশিক ঋণ ছিল প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার; কিন্তু ইউনূস সরকারের ১৮ মাসে সেই ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারে। অতিরিক্ত যে ২০ বিলিয়ন ডলার হলো, তা কোথায় ব্যয় হয়েছে—এটি তার বড় প্রশ্ন। তিনি বলেন, রিশিডিউল বা ঋণ মওকুফের নামে নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেওয়া এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ ছাপিয়ে কিছুকে সুবিধা দেয়া হয়েছে বলে তার অভিযোগ। রনির দাবি, এডিপি ও অন্যান্য প্রকল্প মিলিয়ে গত সময়ে প্রচুর অর্থ খরচ করা হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি; তার সংখ্যা হিসেবে তিনি দুই বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষ কোটি টাকার কথা তুলে ধরেন।

ভিডিওতে রনি এই গোষ্ঠীর নৈতিক অবক্ষয়কেও সামনে এনেছেন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালে তারা প্রতিপক্ষকে নাজেহাল এবং অপমান করার মাধ্যমে তাদের ক্ষমতা দেখিয়েছেন, ফলে এখন তাদের কোনো ‘মোরাল কারেজ’ বা নৈতিক শক্তি রক্ষা হয়নি। সেই কারণে, রনির মতে, এই ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র একটি বড় অংশ এখন তাদের রূপ বদলে নিয়েছে; কেউ কেউ নিজের পরিচয় গোপন করেছে, কেউ কেউ বর্তমান তারেক রহমানের সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করেছে, আর অনেকে বিচার এড়াতে বিদেশে পালিয়ে গেছে—এমনটাই তার মূল্যায়ন।

ভিডিওতে রনি উপরের সমস্ত দাবি ও হিসাব তুলে ধরে আলোকপাত করেছেন—কীভাবে এত বড় অঙ্কের অর্থ লোপাট হল এবং এর জন্য দায়ীদের কে খুঁজে বের করবে সমাজ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, সে প্রশ্ন তিনি তুলেছেন।