১১:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আন্তর্জাতিকভাবে দাবি জানানোয় বন্দিদের মুক্তি ঘোষণা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর দোয়ার আবেদন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমারও: তারেক রহমান মৌসুমি সবজি বাজারে ভরপুর, দাম কমে গেছে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া ও মোনাজাত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য ভর্তুকির দাবি আরব আমিরাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ২৪ ব্যক্তির মুক্তি আসছে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা মনের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে দ্বন্দ্ব: তারেক রহমানের মন্তব্য বাজারে মৌসুমি সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম কমে যাচ্ছে

শ্রীমঙ্গলে সম্ভাবনাময় গুলমরিচের চাষ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি এলাকা ও চা-বাগানগুলোতে গুলমরিচের চাষাবাদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যদিও বর্তমানে এই মসলা জাতীয় ফসলের চাষ একটি সীমিত পর্যায়ে রয়েছে, এলাকাবাসীর দাবি এটি যদি বাণিজ্যিক রূপ নেয়, তবে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা এবং চা বাগানগুলিতে বিচ্ছিন্নভাবে গুলমরিচের গাছ দেখা যাচ্ছে, যা মূলত নিজেকে বা সীমিত বিক্রির জন্য চাষ করা হয়। তবে কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গলে গুলমরিচ হতে পারে লাভজনক একটি মসলা ফসল।

বিশেষত হরিনছড়া চা বাগানের ভেতরে রয়েছে প্রায় ২৫টি গুলমরিচের গাছ, যেখানে ফলন বেশ ভালো। পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলে থাকা গুলমরিচগুলো পরিবেশটি আরও সুন্দর লাগছে, এবং পর্যটকরা একবার ঘুরে গাছগুলো দেখছেন। রাধানগর ও মহাজেরাবাদ এলাকাতেও কিছু গাছ দেখা গেছে, যেখানে গুলমরিচ গাছগুলো নিজস্ব সৌন্দর্য্য ও সংরক্ষণের জন্য গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে এখনো এই চাষের উন্নতি ও বিস্তার বাণিজ্যিক রূপ পায়নি কারণ পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও পরিকল্পনা নেই। কৃষি বিভাগ ও উদ্যোক্তাদের একসাথে উদ্যোগ নিলে শ্রীমঙ্গলে গুলমরিচের সম্ভাবনা অনেক বেশি।

হরিনছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক বিকাশ সিংহ বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর আগে বাগানের ভেতরে কিছু গুলমরিচের গাছ লাগানো হয়েছে। শ্রমিকরা এই গাছগুলো দেখভাল করেন। ফলন ভালো থাকলেও এগুলো থেকে সরাসরি বাজারে বিক্রি হয় না।’

পাইকারি মসলার দোকান মেসার্স মানিক দেব-এর পরিচালক তাপস দেব জানান, ‘লোকাল চাষি গুলমরিচ বিক্রি করে থাকেন, তবে পরিমাণ খুবই অপ্রতুল। বর্তমানে এই গুলমরিচ ইম্পোর্টেড, তবে স্থানীয় চাষ বেড়ে গেলে দাম কমে যাবে এবং বাজারে ছোট দামে বিক্রি হতে পারবে। বর্তমানে কালো গুলমরিচের দাম প্রায় ১২শ’ টাকা এবং সাদা গুলমরিচের দাম ১৬০০ টাকা কেজি।

শ্রীমঙ্গলের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা উজ্জ্বল সূত্রধর বলেন, ‘গুলমরিচের জন্য কাটিং বা বাইন সংগ্রহ করে মাটিতে লাগাতে হয়, যার মাধ্যমে প্রায় ৬ মাসের মধ্যেই ফলন আসে। দুই বছর বয়সের গাছে বড় ফলন পাওয়া যায় এবং এগুলো প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাত করা যায়।

তিনি আরও জানান, ‘শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি জমিগুলো গুলমরিচ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। ইতোমধ্যে প্রায় দুই হেক্টর জমিতে বিচ্ছিন্নভাবে এই চাষ হচ্ছে। মহাজেরাবাদসহ আরও দশটি স্থানে চারা রোপণের পরিকল্পনা এবং সহযোগিতা আমরা দিতে প্রস্তুত। এর ফলে এই সম্ভাবনাময় ফসলটির বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শ্রীমঙ্গলে সম্ভাবনাময় গুলমরিচের চাষ

প্রকাশিতঃ ১০:৪৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি এলাকা ও চা-বাগানগুলোতে গুলমরিচের চাষাবাদের জন্য একটি সম্ভাবনাময় পরিবেশ তৈরি হয়েছে। যদিও বর্তমানে এই মসলা জাতীয় ফসলের চাষ একটি সীমিত পর্যায়ে রয়েছে, এলাকাবাসীর দাবি এটি যদি বাণিজ্যিক রূপ নেয়, তবে এর অর্থনৈতিক সম্ভাবনা অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে। শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকা এবং চা বাগানগুলিতে বিচ্ছিন্নভাবে গুলমরিচের গাছ দেখা যাচ্ছে, যা মূলত নিজেকে বা সীমিত বিক্রির জন্য চাষ করা হয়। তবে কৃষি কর্মকর্তাদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রীমঙ্গলে গুলমরিচ হতে পারে লাভজনক একটি মসলা ফসল।

বিশেষত হরিনছড়া চা বাগানের ভেতরে রয়েছে প্রায় ২৫টি গুলমরিচের গাছ, যেখানে ফলন বেশ ভালো। পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলে থাকা গুলমরিচগুলো পরিবেশটি আরও সুন্দর লাগছে, এবং পর্যটকরা একবার ঘুরে গাছগুলো দেখছেন। রাধানগর ও মহাজেরাবাদ এলাকাতেও কিছু গাছ দেখা গেছে, যেখানে গুলমরিচ গাছগুলো নিজস্ব সৌন্দর্য্য ও সংরক্ষণের জন্য গুরুত্ব পাচ্ছে।

তবে এখনো এই চাষের উন্নতি ও বিস্তার বাণিজ্যিক রূপ পায়নি কারণ পর্যাপ্ত বিনিয়োগ ও পরিকল্পনা নেই। কৃষি বিভাগ ও উদ্যোক্তাদের একসাথে উদ্যোগ নিলে শ্রীমঙ্গলে গুলমরিচের সম্ভাবনা অনেক বেশি।

হরিনছড়া চা বাগানের ব্যবস্থাপক বিকাশ সিংহ বলেন, ‘প্রায় ২০ বছর আগে বাগানের ভেতরে কিছু গুলমরিচের গাছ লাগানো হয়েছে। শ্রমিকরা এই গাছগুলো দেখভাল করেন। ফলন ভালো থাকলেও এগুলো থেকে সরাসরি বাজারে বিক্রি হয় না।’

পাইকারি মসলার দোকান মেসার্স মানিক দেব-এর পরিচালক তাপস দেব জানান, ‘লোকাল চাষি গুলমরিচ বিক্রি করে থাকেন, তবে পরিমাণ খুবই অপ্রতুল। বর্তমানে এই গুলমরিচ ইম্পোর্টেড, তবে স্থানীয় চাষ বেড়ে গেলে দাম কমে যাবে এবং বাজারে ছোট দামে বিক্রি হতে পারবে। বর্তমানে কালো গুলমরিচের দাম প্রায় ১২শ’ টাকা এবং সাদা গুলমরিচের দাম ১৬০০ টাকা কেজি।

শ্রীমঙ্গলের কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা উজ্জ্বল সূত্রধর বলেন, ‘গুলমরিচের জন্য কাটিং বা বাইন সংগ্রহ করে মাটিতে লাগাতে হয়, যার মাধ্যমে প্রায় ৬ মাসের মধ্যেই ফলন আসে। দুই বছর বয়সের গাছে বড় ফলন পাওয়া যায় এবং এগুলো প্রক্রিয়াজাত করে বাজারজাত করা যায়।

তিনি আরও জানান, ‘শ্রীমঙ্গলের পাহাড়ি জমিগুলো গুলমরিচ চাষের জন্য বেশ উপযোগী। ইতোমধ্যে প্রায় দুই হেক্টর জমিতে বিচ্ছিন্নভাবে এই চাষ হচ্ছে। মহাজেরাবাদসহ আরও দশটি স্থানে চারা রোপণের পরিকল্পনা এবং সহযোগিতা আমরা দিতে প্রস্তুত। এর ফলে এই সম্ভাবনাময় ফসলটির বিকাশ আরও ত্বরান্বিত হবে।