০৬:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
নূরুল ইসলাম মনি ত্রয়োদশ সংসদের চীফ হুইপ নিযুক্ত ডুবোচর ও বর্জ্যে ইলিশহীন পায়রা, সংকটে ১৪,৬৮৯ জেলে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা: এজাহারভুক্ত আরও এক আসামি গ্রেফতার মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আটকা পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে মানবিক ও দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ুন মধ্যপ্রাচ্য সংকট: আটকে পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নওগাঁর মোমনিপুর হাটে আড়াই কোটি টাকার কাঁচা মরিচ বিক্রি হয় প্রতি মাসে

নওগাঁ জেলার মহাদেবপুরের মোমনিপুর বাজারে দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি কাঁচা মরিচের হাট অবস্থিত। প্রতিদিন এখানকার বাজারে অনেক ব্যবসায়ী ও কৃষক জমজমাট বাণিজ্য করে থাকেন। এই হাটে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম বর্তমানে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। এর আগে মাত্র দু’দিন আগেই এই দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা। হঠাৎ করে দাম কমে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দুশ্চিন্তা ও হতাশার ছায়া নেমে এসেছে, কারণ এই দাম পতনের ফলে তাদের অনেক লোকসান হবে বলে আশঙ্কা করছেন। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে কাঁচা মরিচের আমদানি বেড়ে যাওয়ায় বাজারে এমন অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

গত শুক্রবার মহাদেবপুরের এই হাটের বিভিন্ন দৃশ্য হয়। সপ্তাহের প্রতিদিন এই হাট বসে সেখানে ব্যাপক ব্যবসা হয়। বছরে এই হাটটি মোট ৬ থেকে ৭ মাস পরিচালিত হয় এবং এই সময়ে এখানকার মরিচের মোট বেচাকেনা হয় দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার বেশি। এই মরিচ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়, যেমন ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, চট্টগ্রাম, দিনাজপুরসহ অন্যান্য জেলাগুলো।

স্থানীয় কৃষক সোলেমান আলী ও গুলবর রহমান জানান, এই বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় কাঁচা মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। তবে এখন দাম কমে যাওয়ায় তারা মনে করেন, তাদের উৎপাদন খরচ এখনো উঠবে না। তারা বলেন, মরিচ চাষের জন্য অনেক খরচ হয়েছে, শ্রমিকের মজুরি, কীটনাশক ইত্যাদি বাদ দিলে যে আয় হবে, তাতে তাদের দাম উঠবে না। প্রথমে তারা এই মরিচ বিক্রি করেছিল ১৩০-১৫০ টাকা কেজি, এখন তা কমে এসে ৬০-৭০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বগুড়া থেকে আসা একজন ব্যবসায়ী সুজন মিয়া বলেন, এই হাটের মরিচ দেশজুড়ে বিভিন্ন শহরে বিতরণ হয়। তবে, সম্প্রতি ভারত থেকে মরিচের আমদানিতে বেড়ো থাকায় বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

মোমনিপুর হাটের কমিটির সদস্য মামুনুর রশিদ জানান, এই হাটটি নওগাঁর অন্যতম বড় এবং বছরে ৬-৭ মাস পরিচালিত হয়। প্রতি মাসে এই হাটে কাঁচা মরিচের ব্যবসা হয় দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার। তবে বর্তমানে দাম কমে যাওয়ায় কৃষকদের জন্য লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।

জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আবহাওয়ার উন্নতি ও ফলনের ফল স্বরূপ এই বছর কাঁচা মরিচের উৎপাদন ভালো হয়েছে। প্রথমে বাজারের দামের ভালো জন্য কৃষকরা লাভবান হলেও এখন দাম কমে যাওয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তিনি আরও জানান, নওগাঁ জেলায় এই বছর মোট ৭৫০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। কৃষকদের সাথে নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পাশে থাকছি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নূরুল ইসলাম মনি ত্রয়োদশ সংসদের চীফ হুইপ নিযুক্ত

নওগাঁর মোমনিপুর হাটে আড়াই কোটি টাকার কাঁচা মরিচ বিক্রি হয় প্রতি মাসে

প্রকাশিতঃ ১০:৫০:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

নওগাঁ জেলার মহাদেবপুরের মোমনিপুর বাজারে দেশের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি কাঁচা মরিচের হাট অবস্থিত। প্রতিদিন এখানকার বাজারে অনেক ব্যবসায়ী ও কৃষক জমজমাট বাণিজ্য করে থাকেন। এই হাটে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচের দাম বর্তমানে ৬০ থেকে ৭০ টাকা। এর আগে মাত্র দু’দিন আগেই এই দাম ছিল ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা। হঠাৎ করে দাম কমে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে দুশ্চিন্তা ও হতাশার ছায়া নেমে এসেছে, কারণ এই দাম পতনের ফলে তাদের অনেক লোকসান হবে বলে আশঙ্কা করছেন। অন্যদিকে, ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভারত থেকে কাঁচা মরিচের আমদানি বেড়ে যাওয়ায় বাজারে এমন অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

গত শুক্রবার মহাদেবপুরের এই হাটের বিভিন্ন দৃশ্য হয়। সপ্তাহের প্রতিদিন এই হাট বসে সেখানে ব্যাপক ব্যবসা হয়। বছরে এই হাটটি মোট ৬ থেকে ৭ মাস পরিচালিত হয় এবং এই সময়ে এখানকার মরিচের মোট বেচাকেনা হয় দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার বেশি। এই মরিচ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়, যেমন ঢাকা, রাজশাহী, সিলেট, চট্টগ্রাম, দিনাজপুরসহ অন্যান্য জেলাগুলো।

স্থানীয় কৃষক সোলেমান আলী ও গুলবর রহমান জানান, এই বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় কাঁচা মরিচের ফলন ভালো হয়েছে। তবে এখন দাম কমে যাওয়ায় তারা মনে করেন, তাদের উৎপাদন খরচ এখনো উঠবে না। তারা বলেন, মরিচ চাষের জন্য অনেক খরচ হয়েছে, শ্রমিকের মজুরি, কীটনাশক ইত্যাদি বাদ দিলে যে আয় হবে, তাতে তাদের দাম উঠবে না। প্রথমে তারা এই মরিচ বিক্রি করেছিল ১৩০-১৫০ টাকা কেজি, এখন তা কমে এসে ৬০-৭০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।

বগুড়া থেকে আসা একজন ব্যবসায়ী সুজন মিয়া বলেন, এই হাটের মরিচ দেশজুড়ে বিভিন্ন শহরে বিতরণ হয়। তবে, সম্প্রতি ভারত থেকে মরিচের আমদানিতে বেড়ো থাকায় বাজারে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।

মোমনিপুর হাটের কমিটির সদস্য মামুনুর রশিদ জানান, এই হাটটি নওগাঁর অন্যতম বড় এবং বছরে ৬-৭ মাস পরিচালিত হয়। প্রতি মাসে এই হাটে কাঁচা মরিচের ব্যবসা হয় দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার। তবে বর্তমানে দাম কমে যাওয়ায় কৃষকদের জন্য লোকসানের আশঙ্কা বাড়ছে।

জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, আবহাওয়ার উন্নতি ও ফলনের ফল স্বরূপ এই বছর কাঁচা মরিচের উৎপাদন ভালো হয়েছে। প্রথমে বাজারের দামের ভালো জন্য কৃষকরা লাভবান হলেও এখন দাম কমে যাওয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। তিনি আরও জানান, নওগাঁ জেলায় এই বছর মোট ৭৫০ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। কৃষকদের সাথে নিয়মিত পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পাশে থাকছি।