০৪:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

ভারতে বাংলাদেশি ইলিশের কাড়াকাড়ি শুরু

বাংলাদেশ থেকে ইলিশ মাছের প্রথম চালান ভারতের বাজারে প্রবেশ করেছে গত বৃহস্পতিবার। কলকাতা শহরের বিভিন্ন বাজারে এসব মাছ এসে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি শুরু হয় এবং দুপুরের মধ্যেই সব বিক্রি হয়ে যায়। প্রথম দিনেই কলকাতার ক্রেতাদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দামে মাছ বিক্রি হওয়ায় অনেক ক্রেতাই খালি হাতে ফিরতে হয়। তবে তবে আশার কথাটি হলো, আরও চালান আসার পাশাপাশি দামে ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় অনেকের মধ্যেই আনন্দ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মানিকতলা ও লেক মার্কেটের মতো জনপ্রিয় বাজারে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২০০০ রুপিতে। বড় মাছ, যার ওজন ১.৫ কেজির বেশি, প্রতি কেজিতে বিক্রি হয়েছে ২৫۰০ রুপিতে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে এই সুস্বাদু মাছের জন্য ক্রেতারা ব্যাপকভাবে আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং উৎসাহের সঙ্গে কিনছেন।

কসবার একজন মাছ বিক্রেতা অতুল দাস বলেন, কিছু ক্রেতা সব দামে হলেও ইলিশ কিনতে আগ্রহী। তবে অনেকের কাছে এক কেজি ইলিশের দাম কিছুটা বেশি মনে হয়েছে। তিনি আশাবাদী, শুক্রবার থেকে সরবরাহ বাড়লে পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠবে।

প্রাথমিকভাবে সীমিত সরবরাহের কারণে কিছুটা ঘাটতি দেখা দিয়েছে। হাওড়ার পাইকারি ডিপো, যা বাংলাদেশের মাছ আমদানির অন্যতম প্রবেশপথ, সেখানে এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১৫০০ থেকে ১৮০০ রুপিতে। এর আগে বৃহস্পতিবারের নিলামে বড় জাতের ইলিশ উঠেছিল ২০০০ রুপিতে।

বিশেষ করে বুধবার বিশ্বকর্মা পূজার কারণে সরবরাহে কিছু বিঘ্ন ঘটে। ফলে কিছু বাজার বন্ধ ছিল এবং পরিবহন ও শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। গাড়িয়াহাটের মতো খ্যাতনামা বাজারের মাছের দোকানও বন্ধ ছিল। তবুও, বাংলাদেশি ইলিশের জন্য ক্রেতাদের আগ্রহে বিভিন্ন বাজারে ভিড় বাড়ছে। বাজারের একজন ক্রেতা সন্দীপ আইচ বললেন, লেক মার্কেটে সরবরাহ পর্যাপ্ত ছিল না, ফলে দাম একটু বেশি মনে হয়েছে। তিনি যোগ করলেন, যত বড় ইলিশ, তার স্বাদ তত ভালো।

প্রসঙ্গত, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় স্থলবন্দর দিয়ে প্রথম চালানে ১ হাজার ১৯২ কেজি ইলিশ মাছ ভারতের ত্রিপুরায় রপ্তানি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে এই মাছগুলো দুটি পিকআপে করে ত্রিপুরার আগরতলার স্থলবন্দরে প্রবেশ করে।

এর আগে, গত মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ছয়টি প্রতিষ্ঠান ৩৭ টন ৪৬০ কেজি ইলিশ ভারতে রপ্তানি করে।

আসন্ন দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে সরকার ৩৭ জন রপ্তানিকারককে ১২০০ টন ইলিশের রপ্তানি করার অনুমতি দিয়েছে। প্রতি কেজি ইলিশের রপ্তানি মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১২ ডলার ৫০ সেন্ট, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৫২৫ টাকা। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই রপ্তানি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে। তবে সাধারণ ক্রেতারা মনে করছেন, এর ফলে দেশের বাজারে ইলিশের দাম বাড়বে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

ভারতে বাংলাদেশি ইলিশের কাড়াকাড়ি শুরু

প্রকাশিতঃ ১০:৫৫:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ থেকে ইলিশ মাছের প্রথম চালান ভারতের বাজারে প্রবেশ করেছে গত বৃহস্পতিবার। কলকাতা শহরের বিভিন্ন বাজারে এসব মাছ এসে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে বিক্রি শুরু হয় এবং দুপুরের মধ্যেই সব বিক্রি হয়ে যায়। প্রথম দিনেই কলকাতার ক্রেতাদের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি দামে মাছ বিক্রি হওয়ায় অনেক ক্রেতাই খালি হাতে ফিরতে হয়। তবে তবে আশার কথাটি হলো, আরও চালান আসার পাশাপাশি দামে ছাড় পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় অনেকের মধ্যেই আনন্দ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে জানানো হয়, মানিকতলা ও লেক মার্কেটের মতো জনপ্রিয় বাজারে প্রতি কেজি ইলিশ বিক্রি হয়েছে ২০০০ রুপিতে। বড় মাছ, যার ওজন ১.৫ কেজির বেশি, প্রতি কেজিতে বিক্রি হয়েছে ২৫۰০ রুপিতে। দুর্গাপূজা উপলক্ষে এই সুস্বাদু মাছের জন্য ক্রেতারা ব্যাপকভাবে আগ্রহ দেখাচ্ছেন এবং উৎসাহের সঙ্গে কিনছেন।

কসবার একজন মাছ বিক্রেতা অতুল দাস বলেন, কিছু ক্রেতা সব দামে হলেও ইলিশ কিনতে আগ্রহী। তবে অনেকের কাছে এক কেজি ইলিশের দাম কিছুটা বেশি মনে হয়েছে। তিনি আশাবাদী, শুক্রবার থেকে সরবরাহ বাড়লে পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক হয়ে উঠবে।

প্রাথমিকভাবে সীমিত সরবরাহের কারণে কিছুটা ঘাটতি দেখা দিয়েছে। হাওড়ার পাইকারি ডিপো, যা বাংলাদেশের মাছ আমদানির অন্যতম প্রবেশপথ, সেখানে এক কেজির বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হয়েছে ১৫০০ থেকে ১৮০০ রুপিতে। এর আগে বৃহস্পতিবারের নিলামে বড় জাতের ইলিশ উঠেছিল ২০০০ রুপিতে।

বিশেষ করে বুধবার বিশ্বকর্মা পূজার কারণে সরবরাহে কিছু বিঘ্ন ঘটে। ফলে কিছু বাজার বন্ধ ছিল এবং পরিবহন ও শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। গাড়িয়াহাটের মতো খ্যাতনামা বাজারের মাছের দোকানও বন্ধ ছিল। তবুও, বাংলাদেশি ইলিশের জন্য ক্রেতাদের আগ্রহে বিভিন্ন বাজারে ভিড় বাড়ছে। বাজারের একজন ক্রেতা সন্দীপ আইচ বললেন, লেক মার্কেটে সরবরাহ পর্যাপ্ত ছিল না, ফলে দাম একটু বেশি মনে হয়েছে। তিনি যোগ করলেন, যত বড় ইলিশ, তার স্বাদ তত ভালো।

প্রসঙ্গত, শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় স্থলবন্দর দিয়ে প্রথম চালানে ১ হাজার ১৯২ কেজি ইলিশ মাছ ভারতের ত্রিপুরায় রপ্তানি করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার দিকে এই মাছগুলো দুটি পিকআপে করে ত্রিপুরার আগরতলার স্থলবন্দরে প্রবেশ করে।

এর আগে, গত মঙ্গলবার রাত ১টার দিকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ছয়টি প্রতিষ্ঠান ৩৭ টন ৪৬০ কেজি ইলিশ ভারতে রপ্তানি করে।

আসন্ন দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে সরকার ৩৭ জন রপ্তানিকারককে ১২০০ টন ইলিশের রপ্তানি করার অনুমতি দিয়েছে। প্রতি কেজি ইলিশের রপ্তানি মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ১২ ডলার ৫০ সেন্ট, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ১৫২৫ টাকা। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, এই রপ্তানি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে। তবে সাধারণ ক্রেতারা মনে করছেন, এর ফলে দেশের বাজারে ইলিশের দাম বাড়বে।