০৬:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি: কারা দিচ্ছে ও না দিচ্ছে

গাজায় দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলমান সংঘর্ষের পর এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দৃষ্টি কেন্দ্রীভূত হলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি নিয়ে। আজ মঙ্গলবার, এক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে যখন ইউরোপের বেশ কিছু দেশ একযোগে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মধ্যে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, অ্যান্ডোরা ও মোনাকো উল্লেখযোগ্য। এই স্বীকৃতি যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়া ইউরোপের অন্যান্য বৃহৎ ও ছোট দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ফ্রান্সের স্বীকৃতি ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা চার স্থায়ী সদস্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। ১৯৮৮ সালে ফিলিস্তিন নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত জাতিসংঘের প্রায় ৮০ শতাংশ সদস্য দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে, ১৫১টি দেশের এই স্বীকৃতি রয়েছে, যা মোট ১৯৩ সদস্য দেশের মধ্যে বহুল সংখ্যক। আলজেরিয়ার প্রথম স্বীকৃতি দেওয়ার কিছু সময়ের মধ্যে, ডজনখানেক দেশ তাদের সমর্থন প্রকাশ করে। ২০১০ ও ২০১১ সালে আবারও স্বীকৃতির ঢেউ বয়ে যায়। সম্প্রতি, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের ইসরায়েলি হামলার পর আরও বেশকিছু দেশ এই স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক দেশ রয়েছে যারা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। বিশেষ করে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা এই তালিকায়। এশিয়ার মধ্যে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুর এই স্বীকৃতি থেকে এড়িয়ে গেছে, যেমন তালিকায় ক্যামেরুন, প্যানামা ও বেশিরভাগ ওশেনিয়ান দেশ রয়েছে। ইউরোপে শুরুতে বিভক্তি থাকা এই বিষয়ে, ২০১৪ সালে সুইডেন প্রথম স্বীকৃতি দেয়, এরপর নর্দে, স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও স্লোভেনিয়া যোগ দিয়েছে। তবে ইতালি ও জার্মানি এই নিয়ে এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে, ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি একটি জটিল ও সংবেদনশীল প্রশ্ন। একদিকে এটিকে এর রাজনৈতিক ও আইনি গুরুত্ব রয়েছে, অন্যদিকে অনেক দেশ এই স্বীকৃতি সম্পন্ন না করেও তাদের বিরুপ নয়। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, স্বীকৃতি মানে শুধু প্রতীকী নয়; এটি আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে ফিলিস্তিনের মর্যাদা ও অবস্থানকে প্রভাবিত করে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাষ্যকাররা বলছেন, একজন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি কেবল একটি কার্যকলাপ নয়, এটি সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক পরিসরে এক নতুন মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করে। অবশেষে, একথা স্পষ্ট, স্বীকৃতি বা না-দেওয়া—প্রতিটি দেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি: কারা দিচ্ছে ও না দিচ্ছে

প্রকাশিতঃ ০৬:১৭:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

গাজায় দীর্ঘ দুই বছর ধরে চলমান সংঘর্ষের পর এবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দৃষ্টি কেন্দ্রীভূত হলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি নিয়ে। আজ মঙ্গলবার, এক ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটে যখন ইউরোপের বেশ কিছু দেশ একযোগে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এর মধ্যে ফ্রান্স, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, অ্যান্ডোরা ও মোনাকো উল্লেখযোগ্য। এই স্বীকৃতি যুক্তরাষ্ট্রের ছাড়া ইউরোপের অন্যান্য বৃহৎ ও ছোট দেশগুলোর মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ফ্রান্সের স্বীকৃতি ছিল বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা চার স্থায়ী সদস্যের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত। ১৯৮৮ সালে ফিলিস্তিন নেতৃবৃন্দের উদ্যোগে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত জাতিসংঘের প্রায় ৮০ শতাংশ সদস্য দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে, ১৫১টি দেশের এই স্বীকৃতি রয়েছে, যা মোট ১৯৩ সদস্য দেশের মধ্যে বহুল সংখ্যক। আলজেরিয়ার প্রথম স্বীকৃতি দেওয়ার কিছু সময়ের মধ্যে, ডজনখানেক দেশ তাদের সমর্থন প্রকাশ করে। ২০১০ ও ২০১১ সালে আবারও স্বীকৃতির ঢেউ বয়ে যায়। সম্প্রতি, ২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের ইসরায়েলি হামলার পর আরও বেশকিছু দেশ এই স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে, এখনও অনেক দেশ রয়েছে যারা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। বিশেষ করে ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্ররা এই তালিকায়। এশিয়ার মধ্যে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুর এই স্বীকৃতি থেকে এড়িয়ে গেছে, যেমন তালিকায় ক্যামেরুন, প্যানামা ও বেশিরভাগ ওশেনিয়ান দেশ রয়েছে। ইউরোপে শুরুতে বিভক্তি থাকা এই বিষয়ে, ২০১৪ সালে সুইডেন প্রথম স্বীকৃতি দেয়, এরপর নর্দে, স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও স্লোভেনিয়া যোগ দিয়েছে। তবে ইতালি ও জার্মানি এই নিয়ে এখনো কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে, ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি একটি জটিল ও সংবেদনশীল প্রশ্ন। একদিকে এটিকে এর রাজনৈতিক ও আইনি গুরুত্ব রয়েছে, অন্যদিকে অনেক দেশ এই স্বীকৃতি সম্পন্ন না করেও তাদের বিরুপ নয়। কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, স্বীকৃতি মানে শুধু প্রতীকী নয়; এটি আন্তর্জাতিক আইনের ভিত্তিতে ফিলিস্তিনের মর্যাদা ও অবস্থানকে প্রভাবিত করে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাষ্যকাররা বলছেন, একজন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি কেবল একটি কার্যকলাপ নয়, এটি সত্যিকার অর্থে আন্তর্জাতিক পরিসরে এক নতুন মানদণ্ড প্রতিষ্ঠা করে। অবশেষে, একথা স্পষ্ট, স্বীকৃতি বা না-দেওয়া—প্রতিটি দেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।