১১:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

চটপটির আয়ে দুই সন্তান ঢাবি ও খুলনায় পড়ছে: দীপক-শম্পার কঠোর পরিশ্রমে ভবিষ্যৎ গড়ছে

যশোরের মণিরামপুরের তাহেরপুর গ্রামের চটপটি বিক্রেতা দীপক দাস ও তার স্ত্রী শম্পা দাসের দুই সন্তান আজ দেশের শীর্ষ দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে। বড় সন্তান জয়ন্তী দাস খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ (মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) বিভাগে প্রথম বর্ষে পড়ছে, আর ছোট ছেলে জয় দাস ঢাবির ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করছে। তারা দু’জনই প্রখর মেধাবী, ছোট থেকেই তাদের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের জন্য বাবা-মা হাড়ভাঙা খাটুনি করে চলেছেন।

দীপক দাস ও তার স্ত্রী প্রতিদিন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, মেলায় ও ওয়াজ মাহফিলে চটপটি বিক্রি করে পরিবারের পেট চালান। সব মিলিয়ে তারা সকালে বাড়িতে থেকে চটপটির প্রস্তুতি নেন, আর বিকেলে ভ্যান চালিয়ে বিক্রির জন্য বের হন। রাতের অন্ধকারে ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে এই ব্যবসার কাজ শেষ করেন। এই আয়ই তাদের পরিবারের মূল জীবন সংকটে টিকে থাকা, দুই সন্তানের পড়াশোনা চালানোর জীবনধারা চালিয়ে নিতে বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

শীত, গ্রীষ্মে কিংবা বর্ষায়, তারা ঠাণ্ডা বা গরমের তোয়াক্কা না করে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। স্ত্রীর গহনাও বন্ধক রেখেছেন, এনজিও ও সমিতি থেকে ধার-দেনা করে তাদের শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে অর্থের অপ্রতুলতা তাদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।

দীপক দাস বলেন, “আমাদের স্বপ্ন যেন এই দুই শিশুর ভবিষ্যত সুন্দর হয়। তাদের জন্য আমি সবার কাছে দোয়া চাই। ছেলে ও মেয়ের পড়ালেখায় মনোযোগী করে তুলতে আমি এবং শম্পা কঠোর পরিশ্রম করছি। তারা দুজনই অনেক মেধাবী। মেয়েটি মানবিক বিভাগ থেকে গৌরবের সঙ্গে জিপিএ-৫ পেয়ে ২০২১ সালে এসএসসি ও ২০২৩ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করেছে। ছেলেও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে একই সময়ে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করেছে। এখন তারা ঢাকাতেও পড়বে এবং খুলনার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ায় তাদের ভবিষ্যৎ যেন 밝 হয়, সে জন্য আমাদের প্রাণপণ প্রচেষ্টা।

শুশ্রুত শম্পা দাস বলেন, “আমাদের সন্তানরা শুধু কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে না, সুন্দর মানুষ হয়ে উঠতে পারে সে-বিষয়েও আমি আশীর্বাদ চাই।”

গত দুর্গা পুজার ছুটিতে বাড়িতে এসে বড় ও ছোট ভাই-বোন জয়ন্তী ও জয় দাস সেইসব কঠিন দিনগুলো মনে করে বলেছে, “আমরা বুঝতে পেরেছি, বাবা-মায়ের আত্মত্যাগ কখনো শোধ হওয়ার মতো নয়। তবে আমি ও আমার ভাই ভবিষ্যতে তাদের এই স্বপ্ন সফল করতে সর্বতোভাবে চেষ্টা করব। তারা যে তাদের পড়াশোনা ও সম্মান নিয়ে ধাবমান, তার জন্য তারা গর্বিত।

এভাবেই প্রতিদিনের সংগ্রামে তারা এগিয়ে চলেছেন, এই দৃঢ় প্রত্যয় ও উৎসাহে তাদের পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন বুকে নিয়ে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

চটপটির আয়ে দুই সন্তান ঢাবি ও খুলনায় পড়ছে: দীপক-শম্পার কঠোর পরিশ্রমে ভবিষ্যৎ গড়ছে

প্রকাশিতঃ ১০:৫২:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

যশোরের মণিরামপুরের তাহেরপুর গ্রামের চটপটি বিক্রেতা দীপক দাস ও তার স্ত্রী শম্পা দাসের দুই সন্তান আজ দেশের শীর্ষ দুটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছে। বড় সন্তান জয়ন্তী দাস খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ (মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনা) বিভাগে প্রথম বর্ষে পড়ছে, আর ছোট ছেলে জয় দাস ঢাবির ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা করছে। তারা দু’জনই প্রখর মেধাবী, ছোট থেকেই তাদের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের জন্য বাবা-মা হাড়ভাঙা খাটুনি করে চলেছেন।

দীপক দাস ও তার স্ত্রী প্রতিদিন বিভিন্ন অনুষ্ঠানে, মেলায় ও ওয়াজ মাহফিলে চটপটি বিক্রি করে পরিবারের পেট চালান। সব মিলিয়ে তারা সকালে বাড়িতে থেকে চটপটির প্রস্তুতি নেন, আর বিকেলে ভ্যান চালিয়ে বিক্রির জন্য বের হন। রাতের অন্ধকারে ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে এই ব্যবসার কাজ শেষ করেন। এই আয়ই তাদের পরিবারের মূল জীবন সংকটে টিকে থাকা, দুই সন্তানের পড়াশোনা চালানোর জীবনধারা চালিয়ে নিতে বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে।

শীত, গ্রীষ্মে কিংবা বর্ষায়, তারা ঠাণ্ডা বা গরমের তোয়াক্কা না করে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। স্ত্রীর গহনাও বন্ধক রেখেছেন, এনজিও ও সমিতি থেকে ধার-দেনা করে তাদের শিক্ষাজীবন চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে অর্থের অপ্রতুলতা তাদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে।

দীপক দাস বলেন, “আমাদের স্বপ্ন যেন এই দুই শিশুর ভবিষ্যত সুন্দর হয়। তাদের জন্য আমি সবার কাছে দোয়া চাই। ছেলে ও মেয়ের পড়ালেখায় মনোযোগী করে তুলতে আমি এবং শম্পা কঠোর পরিশ্রম করছি। তারা দুজনই অনেক মেধাবী। মেয়েটি মানবিক বিভাগ থেকে গৌরবের সঙ্গে জিপিএ-৫ পেয়ে ২০২১ সালে এসএসসি ও ২০২৩ সালে এইচএসসি সম্পন্ন করেছে। ছেলেও বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে একই সময়ে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করেছে। এখন তারা ঢাকাতেও পড়বে এবং খুলনার বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ায় তাদের ভবিষ্যৎ যেন 밝 হয়, সে জন্য আমাদের প্রাণপণ প্রচেষ্টা।

শুশ্রুত শম্পা দাস বলেন, “আমাদের সন্তানরা শুধু কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে না, সুন্দর মানুষ হয়ে উঠতে পারে সে-বিষয়েও আমি আশীর্বাদ চাই।”

গত দুর্গা পুজার ছুটিতে বাড়িতে এসে বড় ও ছোট ভাই-বোন জয়ন্তী ও জয় দাস সেইসব কঠিন দিনগুলো মনে করে বলেছে, “আমরা বুঝতে পেরেছি, বাবা-মায়ের আত্মত্যাগ কখনো শোধ হওয়ার মতো নয়। তবে আমি ও আমার ভাই ভবিষ্যতে তাদের এই স্বপ্ন সফল করতে সর্বতোভাবে চেষ্টা করব। তারা যে তাদের পড়াশোনা ও সম্মান নিয়ে ধাবমান, তার জন্য তারা গর্বিত।

এভাবেই প্রতিদিনের সংগ্রামে তারা এগিয়ে চলেছেন, এই দৃঢ় প্রত্যয় ও উৎসাহে তাদের পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন বুকে নিয়ে।