০৩:২৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৩৬ শতাংশে

দেশের বাজারে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে সবজির দাম অস্থিতিশীলভাবে বেড়েই চলেছে। চলন্ত দামে সাধারণ মানুষ কাবু হয়ে পড়েছেন; যার ফলে এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার কাঁচামরিচ ৩০০ টাকায়। আলু তো আবার অনেকের নাগালের বাইরে চলে গেছে, অন্যসব সবজিও ক্রেতাদের জন্য পৌঁছানো বন্ধের পথে। ভালো বোরো ফলনের পরও চালের দাম কমেনি, যা দুঃখজনক।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশে, যা গত আগস্টে ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। অন্য কথায়, এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ০.০৭ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতির এই হার বোঝায় যে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ১০০ টাকায় যে পণ্য কিনতে পারতেন, তার জন্য এখন গুণতে হবে ১০৮ টাকা ৩৬ পয়সা। গত অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশের বেশি, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। চলতি বাজেটে উদ্দেশ্য ছিল ৬ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে মূল্যস্ফীতি রাখা, কিন্তু তা অর্জনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত খাতে এই হার অনেকটাই বেশি, বেড়ে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এর ফলে, দুই ক্ষেত্রেই পণ্যসামগ্রীর দাম উর্ধমুখী।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গ্রামে জীবনযাত্রার ব্যয় শহরের তুলনায় বেশি বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে গ্রামাঞ্চলে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যেখানে শহরে ছিল ৮ দশমিক ২৮ শতাংশ। বিশেষ করে গ্রামে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বৃদ্ধির চাপে আছেন সাধারণ মানুষ।

খাদ্য খাতে গ্রামে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ, আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে ছিল ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। শহরে এই হার ছিল যথাক্রমে ৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ ও ৮ দশমিক ৫১ শতাংশ।

অতীতের তুলনায় দেখা গেছে যে, গত বছরের সেপ্টেম্বরের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা এখন কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশে। এতে বোঝা যায় দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে। তবে, এখনও মূল্যস্ফীতির এই হার প্রধান চাপের মধ্যে রয়েছে।

একই সময়, খাদ্য খাতে গত বছরের সেপ্টেম্বরের হার ছিল ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ, আর জুনে ছিল ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। ২০২৩ সালে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ, খাদ্যে ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ, আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে ৭ দশমিক ৮২ শতাংশ। ২০২২ সালে এই হার ছিল যথাক্রমে ৯ দশমিক ১০ শতাংশ, খাদ্যে ৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ ও খাদ্যবহির্ভূত খাতে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ।

সাম্প্রতিক সময় থেকে দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ দেশেই মূল্যস্ফীতি কম হলেও বাংলাদেশ এখনও শীর্ষে অবস্থান করছে। ভারতের মূল্যস্ফীতির হার ২ শতাংশের আশপাশে, পাকিস্তানে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ। নেপালে ১ দশমিক ৬৮ শতাংশ, আফগানিস্তানে ২ দশমিক ২ শতাংশ, মালদ্বীপে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ভুটানে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিশ্ববাজারে খাদ্যদ্রব্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, পরিবহন খরচ এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা থাকায় মূল্যস্ফীতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসছে না।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

সেপ্টেম্বরে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৮.৩৬ শতাংশে

প্রকাশিতঃ ১০:৪৯:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

দেশের বাজারে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে সবজির দাম অস্থিতিশীলভাবে বেড়েই চলেছে। চলন্ত দামে সাধারণ মানুষ কাবু হয়ে পড়েছেন; যার ফলে এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার কাঁচামরিচ ৩০০ টাকায়। আলু তো আবার অনেকের নাগালের বাইরে চলে গেছে, অন্যসব সবজিও ক্রেতাদের জন্য পৌঁছানো বন্ধের পথে। ভালো বোরো ফলনের পরও চালের দাম কমেনি, যা দুঃখজনক।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত সর্বশেষ ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশে, যা গত আগস্টে ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। অন্য কথায়, এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ০.০৭ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতির এই হার বোঝায় যে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ১০০ টাকায় যে পণ্য কিনতে পারতেন, তার জন্য এখন গুণতে হবে ১০৮ টাকা ৩৬ পয়সা। গত অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ শতাংশের বেশি, যা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। চলতি বাজেটে উদ্দেশ্য ছিল ৬ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে মূল্যস্ফীতি রাখা, কিন্তু তা অর্জনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করলেও পরিস্থিতি শান্ত হয়নি।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ৬৪ শতাংশ, যা আগের মাসে ছিল ৭ দশমিক ৬ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত খাতে এই হার অনেকটাই বেশি, বেড়ে ৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। এর ফলে, দুই ক্ষেত্রেই পণ্যসামগ্রীর দাম উর্ধমুখী।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গ্রামে জীবনযাত্রার ব্যয় শহরের তুলনায় বেশি বেড়েছে। সেপ্টেম্বরে গ্রামাঞ্চলে এই হার ছিল ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যেখানে শহরে ছিল ৮ দশমিক ২৮ শতাংশ। বিশেষ করে গ্রামে খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের দাম বৃদ্ধির চাপে আছেন সাধারণ মানুষ।

খাদ্য খাতে গ্রামে মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ, আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে ছিল ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। শহরে এই হার ছিল যথাক্রমে ৭ দশমিক ৯৪ শতাংশ ও ৮ দশমিক ৫১ শতাংশ।

অতীতের তুলনায় দেখা গেছে যে, গত বছরের সেপ্টেম্বরের সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৯২ শতাংশ, যা এখন কমে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশে। এতে বোঝা যায় দেশের অর্থনীতিতে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা দিয়েছে। তবে, এখনও মূল্যস্ফীতির এই হার প্রধান চাপের মধ্যে রয়েছে।

একই সময়, খাদ্য খাতে গত বছরের সেপ্টেম্বরের হার ছিল ১০ দশমিক ৪০ শতাংশ, আর জুনে ছিল ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ। ২০২৩ সালে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ, খাদ্যে ১২ দশমিক ৩৭ শতাংশ, আর খাদ্যবহির্ভূত খাতে ৭ দশমিক ৮২ শতাংশ। ২০২২ সালে এই হার ছিল যথাক্রমে ৯ দশমিক ১০ শতাংশ, খাদ্যে ৯ দশমিক ৮৮ শতাংশ ও খাদ্যবহির্ভূত খাতে ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ।

সাম্প্রতিক সময় থেকে দক্ষিণ এশিয়ার বেশির ভাগ দেশেই মূল্যস্ফীতি কম হলেও বাংলাদেশ এখনও শীর্ষে অবস্থান করছে। ভারতের মূল্যস্ফীতির হার ২ শতাংশের আশপাশে, পাকিস্তানে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ। নেপালে ১ দশমিক ৬৮ শতাংশ, আফগানিস্তানে ২ দশমিক ২ শতাংশ, মালদ্বীপে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ এবং ভুটানে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বিশ্ববাজারে খাদ্যদ্রব্যের দাম স্থিতিশীল থাকলেও দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, পরিবহন খরচ এবং বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা থাকায় মূল্যস্ফীতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আসছে না।