০৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
নূরুল ইসলাম মনি ত্রয়োদশ সংসদের চীফ হুইপ নিযুক্ত ডুবোচর ও বর্জ্যে ইলিশহীন পায়রা, সংকটে ১৪,৬৮৯ জেলে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা: এজাহারভুক্ত আরও এক আসামি গ্রেফতার মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আটকা পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে মানবিক ও দক্ষ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ুন মধ্যপ্রাচ্য সংকট: আটকে পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

অধিনায়ক হিসেবে গিলের প্রথম সিরিজ জয়

আহমেদাবাদের পর দিল্লি টেস্টেও ভারতের বিজয়ে সবাই আন্তরিকভাবে প্রত্যাশা করছিলেন। মঙ্গলবার পঞ্চম ও শেষ দিন ভারতের লক্ষ্য ছিল মাত্র ৫৮ রান। স্বাগতিকরা যদি এই লক্ষ্য পূরণ করতে পারত, তবে তাদের জয়ে কোনও সংশয় থাকত না। শেষ দিনে স্বাগতিকরা আরও ২ উইকেট হারালেও, ভারতের জয় নিশ্চিত হয়। ৭ উইকেটের জয়ে ভারতের সিরিজের ফলাফল ২-০ এ জয়, যা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্জন। এই সিরিজে দলের লাল বলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালনকারী গিলের জন্য এটি ছিল প্রথম সিরিজ জয়, যা তার জন্য একনিষ্ঠতার গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।

সিরিজের শেষ দিনে ভারতের ব্যাটিং শুরু হয়েছিল গত সোমবার, চতুর্থ দিন টার্গেট ছিল ১২১ রান। তখন ভারতের ব্যাটসম্যানরা ১ উইকেটে ৬৩ রানে innings শেষ করেন। মঙ্গলবারের দ্বিতীয় দিন, স্বাগতিকরা ৫৮ রান তুলতেই আরও ২ উইকেট হারায়। ১১তম ওভারে রোস্টন চেজের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান সুদর্শন (৩৯), আর দ্রুতই আউট হন অধিনায়ক গিল, তিনি করেন ১৩ রান। দলের আর একজন ফিনিশার রাহুল (৫৮*) অবিচল থেকে ফাইনাল জয়ের জন্য অবদান রাখেন। অপরাজিত থাকেন ধ্রুভ জুরেল (৬*)।

শেষ দিনে গিল জানান, অধিনায়কের দায়িত্ব তিনি ধৈর্য্য ও মনোযোগের সঙ্গে পালন করছেন। তিনি বলেন, ‘ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়া অনেক বড় গর্বের। আমি এখন এর সাথে অভ্যস্থ হয়ে উঠছি। দল পরিচালনা, পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া—এসব হচ্ছে বড় অর্জন। অধিনায়ক হিসেবে আমি চেষ্টা করি সঠিক সিদ্ধান্ত নেবার। কখনো নেতিবাচক পরিস্থিতিতে সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার হয়, যাতে ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ রান বা উইকেট নেওয়া যায়।’

অধিনায়কের এই প্রথম সিরিজ জয় দেখার জন্য আহমেদাবাদে শুরু হয়েছিল ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিরিজ। প্রথম টেস্টে ভারত ইনিংস ও ১৪০ রানের ব্যবধানে হারলেও দ্বিতীয় টেস্টে ক্যারিবিয়ান দল বেশ ভালো পারফর্ম করে। তাদের ব্যাটিংয়ে দুই ইনিংস মিলিয়ে ২০০ ওভারের বেশি খেলা হয়েছে। দ্বিতীয় ইনিংসে, তারা ১১৫ রান করে ওপেনার জন ক্যাম্পবেল (১০৩) ও শেই হোপের (ফিফটি) সহযোগিতায়। শেষ পর্যন্ত, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় সব উইকেটের বিনিময়ে ৩৯০ রান। ভারত প্রথম ইনিংসে ৫১৮ রানে উঠেছিল।

প্রথম ইনিংসে ভারতের করা ৫১৮ রানের জন্য, ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ ছিল ২৪৮। দুই ইনিংস মিলিয়ে, কুলদীপ যাদব ৮ উইকেট নিয়েছে সিরিজের সর্বোচ্চ পারফর্মার। তার সঙ্গে অপরাজিত সেঞ্চুরি হাঁকানো রবীন্দ্র জাদেজাও সিরিজের সেরা হয়ে উঠেছেন। দুই টেস্টে ৮ উইকেট নেওয়া এই অলরাউন্ডারকে সিরিজসেরা ঘোষণা করা হয়েছে।

এই জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টানা দশটি সিরিজ জিতল ভারত, যা ১৯৯৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত চলমান। একই সঙ্গে, ২০০২ থেকে এ পর্যন্ত ভারত ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে টানা ১০টি টেস্ট সিরিজ জিতেছে। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম টেস্ট সিরিজ জেতার পর গিলের ব্যস্ততা কমছে না। আজ বুধবার, ভারত অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। যেখানে তাকে ওয়ানডে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে, এটি তার ২৬ বছর বয়সী গিলের জন্য একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নূরুল ইসলাম মনি ত্রয়োদশ সংসদের চীফ হুইপ নিযুক্ত

অধিনায়ক হিসেবে গিলের প্রথম সিরিজ জয়

প্রকাশিতঃ ১০:৫২:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৫

আহমেদাবাদের পর দিল্লি টেস্টেও ভারতের বিজয়ে সবাই আন্তরিকভাবে প্রত্যাশা করছিলেন। মঙ্গলবার পঞ্চম ও শেষ দিন ভারতের লক্ষ্য ছিল মাত্র ৫৮ রান। স্বাগতিকরা যদি এই লক্ষ্য পূরণ করতে পারত, তবে তাদের জয়ে কোনও সংশয় থাকত না। শেষ দিনে স্বাগতিকরা আরও ২ উইকেট হারালেও, ভারতের জয় নিশ্চিত হয়। ৭ উইকেটের জয়ে ভারতের সিরিজের ফলাফল ২-০ এ জয়, যা তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি অর্জন। এই সিরিজে দলের লাল বলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালনকারী গিলের জন্য এটি ছিল প্রথম সিরিজ জয়, যা তার জন্য একনিষ্ঠতার গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি।

সিরিজের শেষ দিনে ভারতের ব্যাটিং শুরু হয়েছিল গত সোমবার, চতুর্থ দিন টার্গেট ছিল ১২১ রান। তখন ভারতের ব্যাটসম্যানরা ১ উইকেটে ৬৩ রানে innings শেষ করেন। মঙ্গলবারের দ্বিতীয় দিন, স্বাগতিকরা ৫৮ রান তুলতেই আরও ২ উইকেট হারায়। ১১তম ওভারে রোস্টন চেজের বলে ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান সুদর্শন (৩৯), আর দ্রুতই আউট হন অধিনায়ক গিল, তিনি করেন ১৩ রান। দলের আর একজন ফিনিশার রাহুল (৫৮*) অবিচল থেকে ফাইনাল জয়ের জন্য অবদান রাখেন। অপরাজিত থাকেন ধ্রুভ জুরেল (৬*)।

শেষ দিনে গিল জানান, অধিনায়কের দায়িত্ব তিনি ধৈর্য্য ও মনোযোগের সঙ্গে পালন করছেন। তিনি বলেন, ‘ভারতকে নেতৃত্ব দেওয়া অনেক বড় গর্বের। আমি এখন এর সাথে অভ্যস্থ হয়ে উঠছি। দল পরিচালনা, পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া—এসব হচ্ছে বড় অর্জন। অধিনায়ক হিসেবে আমি চেষ্টা করি সঠিক সিদ্ধান্ত নেবার। কখনো নেতিবাচক পরিস্থিতিতে সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার হয়, যাতে ‘এক্স-ফ্যাক্টর’ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ রান বা উইকেট নেওয়া যায়।’

অধিনায়কের এই প্রথম সিরিজ জয় দেখার জন্য আহমেদাবাদে শুরু হয়েছিল ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজের সিরিজ। প্রথম টেস্টে ভারত ইনিংস ও ১৪০ রানের ব্যবধানে হারলেও দ্বিতীয় টেস্টে ক্যারিবিয়ান দল বেশ ভালো পারফর্ম করে। তাদের ব্যাটিংয়ে দুই ইনিংস মিলিয়ে ২০০ ওভারের বেশি খেলা হয়েছে। দ্বিতীয় ইনিংসে, তারা ১১৫ রান করে ওপেনার জন ক্যাম্পবেল (১০৩) ও শেই হোপের (ফিফটি) সহযোগিতায়। শেষ পর্যন্ত, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সংগ্রহ দাঁড়ায় সব উইকেটের বিনিময়ে ৩৯০ রান। ভারত প্রথম ইনিংসে ৫১৮ রানে উঠেছিল।

প্রথম ইনিংসে ভারতের করা ৫১৮ রানের জন্য, ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসের সংগ্রহ ছিল ২৪৮। দুই ইনিংস মিলিয়ে, কুলদীপ যাদব ৮ উইকেট নিয়েছে সিরিজের সর্বোচ্চ পারফর্মার। তার সঙ্গে অপরাজিত সেঞ্চুরি হাঁকানো রবীন্দ্র জাদেজাও সিরিজের সেরা হয়ে উঠেছেন। দুই টেস্টে ৮ উইকেট নেওয়া এই অলরাউন্ডারকে সিরিজসেরা ঘোষণা করা হয়েছে।

এই জয় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টানা দশটি সিরিজ জিতল ভারত, যা ১৯৯৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত চলমান। একই সঙ্গে, ২০০২ থেকে এ পর্যন্ত ভারত ক্যারিবিয়ানদের বিপক্ষে টানা ১০টি টেস্ট সিরিজ জিতেছে। অধিনায়ক হিসেবে প্রথম টেস্ট সিরিজ জেতার পর গিলের ব্যস্ততা কমছে না। আজ বুধবার, ভারত অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হবে। যেখানে তাকে ওয়ানডে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে, এটি তার ২৬ বছর বয়সী গিলের জন্য একটি নতুন ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।