১১:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আন্তর্জাতিকভাবে দাবি জানানোয় বন্দিদের মুক্তি ঘোষণা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর দোয়ার আবেদন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমারও: তারেক রহমান মৌসুমি সবজি বাজারে ভরপুর, দাম কমে গেছে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া ও মোনাজাত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য ভর্তুকির দাবি আরব আমিরাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ২৪ ব্যক্তির মুক্তি আসছে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা মনের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে দ্বন্দ্ব: তারেক রহমানের মন্তব্য বাজারে মৌসুমি সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম কমে যাচ্ছে

বাকৃবি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অপ্রাকৃতিক ছবি পাঠানোর অভিযোগ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) একটি গুরুতর ঘটনা ঘটেছে যেখানে একজন নারী শিক্ষার্থী গোপনভাবে নারীদের অপ্রস্তুত অবস্থার ছবি তোলার অভিযোগ উঠেছে। এই ছবি তিনি এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর কাছে পাঠাতেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি প্রকাশ পেলে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করে বিভাগীয় শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকনির্দেশকের কাছে অভিযোজিত হন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থী নিয়মিতভাবে নারীতের ঘুমন্ত বা ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ধারণ করে তা পাঠাতেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা সোমবার প্রতিবাদে মুখর হন এবং বিভাগীয় শিক্ষক ও অনুষদের ডিনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত নারী শিক্ষার্থী দেবশ্রী দত্ত সম্প্রতি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তিনি মূলত এই বিভাগেরই সাবেক শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে লেকচারার হিসেবে কর্মরত। তবে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল মজিদ। তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা অভিযোগ নিয়ে ডিনের কাছে আসে এবং তদন্তের জন্য মোবাইল ফোনটি পরীক্ষা করে দেখা হয়। তদন্তে পাওয়া ছবিগুলো থেকে তা প্রমাণিত হয় যে, তিনি নারীদের বিভিন্ন ছবি তুলতেন এবং তা একটি সিনিয়র ভাইয়ের কাছে পাঠাতেন।

অভিযুক্ত মোবাইল ফোন এখন সিলগালা করে ডিন অফিসে সংরক্ষিত রয়েছে। বিষয়টি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ ও নিরোধ কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

অপরাধী সিনিয়র শিক্ষার্থী ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির লেকচারার স্বীকার করেছেন যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি মেয়েটির পাঠানো ছবি সংরক্ষণ করিনি, কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না। তবে আমি আমার কাজের জন্য দুঃখিত এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমি গ্রহণ করব।’

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ও তার সহপাঠীরা জানান, ইন্টার্নশিপের সময় তারা ওই শিক্ষার্থীর সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করে নজরদারি শুরু করেন। পরে নিশ্চিত হন যে, তিনি নারীদের ঘুমন্ত বা অপ্রস্তুত মুহূর্তের ছবি তুলতেন। বিষয়টি প্রমাণ হওয়ার পর তারা বিভাগীয় শিক্ষকদের অবহিত করেন এবং কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বাকৃবি শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অপ্রাকৃতিক ছবি পাঠানোর অভিযোগ

প্রকাশিতঃ ১১:৫৪:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) একটি গুরুতর ঘটনা ঘটেছে যেখানে একজন নারী শিক্ষার্থী গোপনভাবে নারীদের অপ্রস্তুত অবস্থার ছবি তোলার অভিযোগ উঠেছে। এই ছবি তিনি এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর কাছে পাঠাতেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি প্রকাশ পেলে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করে বিভাগীয় শিক্ষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকনির্দেশকের কাছে অভিযোজিত হন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থী নিয়মিতভাবে নারীতের ঘুমন্ত বা ব্যক্তিগত মুহূর্তের ছবি ধারণ করে তা পাঠাতেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা সোমবার প্রতিবাদে মুখর হন এবং বিভাগীয় শিক্ষক ও অনুষদের ডিনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত নারী শিক্ষার্থী দেবশ্রী দত্ত সম্প্রতি বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেছেন। তিনি মূলত এই বিভাগেরই সাবেক শিক্ষার্থী এবং বর্তমানে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে লেকচারার হিসেবে কর্মরত। তবে তার বিরুদ্ধে থাকা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবদুল মজিদ। তিনি জানান, শিক্ষার্থীরা অভিযোগ নিয়ে ডিনের কাছে আসে এবং তদন্তের জন্য মোবাইল ফোনটি পরীক্ষা করে দেখা হয়। তদন্তে পাওয়া ছবিগুলো থেকে তা প্রমাণিত হয় যে, তিনি নারীদের বিভিন্ন ছবি তুলতেন এবং তা একটি সিনিয়র ভাইয়ের কাছে পাঠাতেন।

অভিযুক্ত মোবাইল ফোন এখন সিলগালা করে ডিন অফিসে সংরক্ষিত রয়েছে। বিষয়টি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন প্রতিরোধ ও নিরোধ কমিটির কাছে হস্তান্তর করা হবে।

অপরাধী সিনিয়র শিক্ষার্থী ও ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির লেকচারার স্বীকার করেছেন যে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি মেয়েটির পাঠানো ছবি সংরক্ষণ করিনি, কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না। তবে আমি আমার কাজের জন্য দুঃখিত এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ যা সিদ্ধান্ত নেবে, আমি গ্রহণ করব।’

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী ও তার সহপাঠীরা জানান, ইন্টার্নশিপের সময় তারা ওই শিক্ষার্থীর সন্দেহজনক আচরণ লক্ষ্য করে নজরদারি শুরু করেন। পরে নিশ্চিত হন যে, তিনি নারীদের ঘুমন্ত বা অপ্রস্তুত মুহূর্তের ছবি তুলতেন। বিষয়টি প্রমাণ হওয়ার পর তারা বিভাগীয় শিক্ষকদের অবহিত করেন এবং কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।