০২:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

শখের বসে বাঁশি শোনা কৃষ্ণের জীবন ঝরনার গল্প

বাঁশি থেকে মুক্ত সুরের মূর্ছনা মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। সবুজ চা বাগানে ছায়ায় ঘেরা এই পরিবেশে কৃষ্ণ দাস বাঁশির সুরে মন মাতিয়ে তুলেছেন শত শত দর্শকদের। বয়স তার ৪৫ বছর হলেও বাঁশি বাজানোর প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা এখনও অটুট। শখের বসে বাঁশি শেখা এই তরুণের জীবনে বাঁশির সুর যেন এক প্রাণবন্ধন, যার মাধ্যমে তিনি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তার বাজানো বাঁশির সুর প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এক বাদ্যযন্ত্রের সাথে যুগ যুগান্তকারী সম্পর্ককে উদযাপন করে। রাজদরবার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বাঁশির স্থান মূলত আলাদা। এই সুরের দোলায় ভেসে গানের বাণী ফুটে ওঠে, যা মানব হৃদয়কে বিভোর করে তোলে।

কৃষ্ণ দাসের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের শ্রী গোবীন্ধপুর। পারিবারিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তাঁর লেখাপড়া সম্ভব হয়নি, তবে বাঁশির প্রতি তার দুর্বলতা ছোটকাল থেকেই। দারিদ্র্যের কারণে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গেলেও, বাঁশি বাজানোর প্রতি তার আগ্রহ কখনো কমেনি। কৈশোর থেকে নিজেকে বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত করে জীবন চালিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলার মাধবপুর লেকের ধারে বাঁশি হাতে নানা ধরনের সুরের ঝংকার শুনতে পাওয়া যায়। দর্শনার্থীরা সেই সুরে মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন এবং অনেকেই উৎসাহ দিচ্ছেন। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, শখের বসে শেখা বাঁশির জন্য এখন তার জীবনই নির্ভরশীল। পাড়ার আড্ডা, চায়ের দোকান, বিয়ের অনুষ্ঠানে, বা লেকের পাশে বাঁশি বাজিয়ে তিনি মনে ধরে দেন সবাইকে। এ সময় তার কষ্টের জীবনের গল্প আর উৎসাহ সবাইকে অনুপ্রাণিত করে।অনেক পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন তাকে সহযোগিতা করছেন। গভীর রাতে বাঁশি বাজানোর সময় হৃদয় স্পর্শ করে যায় সবার। তার এই সংগ্রামী জীবন অন্যদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

ঢাকা থেকে এসে মহিমা পাল বলেন, ‘অন্য পেশায় জীবিকা চালানো সহজ নয়, তাই বাঁশিকে তিনি বেছে নিয়েছেন পেশা হিসেবে। বাঁশির সুরে মানুষের মনে রিয়ে যায় এক স্বস্তির বোধ। পর্যটন এলাকা ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে তার বাঁশির সুর শ্রোতাদের মনকে দুলিয়ে তোলে। শখের বসে বাঁশি শেখা কৃষ্ণের জীবনে এখন বাঁশির সুরই একমাত্র জীবিকা।

কৃষ্ণ দাসের বিবরণে জানা যায়, তার জন্ম ভারতের কলকাতায়। সেখান থেকে বাঁশি বাজানো শেখে। মা-বাবার মৃত্যুর পর তিনি বাংলাদেশে আসেন। এখন তিনি কমলগঞ্জের শ্রীগোবিন্দপুরে বসবাস করছেন, সংসার পরিচালনা করে জীবন জীবিকার তাগিদে। তার জন্য এখন বাঁশির সুর যেন এক অসীম ভালোবাসার সংগীত। তিনি বলেন, ‘আগে মানুষ টাকা দিয়ে আমার বাঁশির সুর শুনে উপভোগ করত, এখন সুর শোনা মানেই কেউ কিছু দেয় না। তবে বাঁশি বাজানো থেকে আমি কখনো বিরত থাকব না। এই সুর আমার আত্মার সাথে মিশে গেছে। তবে এখন এই সুরে জীবন যেন চলে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মন চাই মানুষ যেন আমার বাঁশির সুর শুনতে চায়। তারা মন দিয়ে শোনে, এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রশংসা। ছোট ছোট টাকা পেলে আমি জীবন চালাই।’

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, ‘বাঁশির সুর উপমহাদেশের সংগীতের এক অনন্য সংযোজন। অতীতে যেখানে জনজীবনে বাঁশির চর্চা ছিল খুবই জনপ্রিয়, সেখানে আধুনিক যুগে তা কমে গেছে। আমাদের উচিত এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে আরও এগিয়ে আসা। বাঁশি শিল্পের জন্য সবাই এগিয়ে এলে এ শিল্পটি আরও জীবন্ত হবে। কৃষ্ণদাসের মতো বংশীবাদকদের এগিয়ে নেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

শখের বসে বাঁশি শোনা কৃষ্ণের জীবন ঝরনার গল্প

প্রকাশিতঃ ১১:৫৪:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ নভেম্বর ২০২৫

বাঁশি থেকে মুক্ত সুরের মূর্ছনা মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। সবুজ চা বাগানে ছায়ায় ঘেরা এই পরিবেশে কৃষ্ণ দাস বাঁশির সুরে মন মাতিয়ে তুলেছেন শত শত দর্শকদের। বয়স তার ৪৫ বছর হলেও বাঁশি বাজানোর প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা এখনও অটুট। শখের বসে বাঁশি শেখা এই তরুণের জীবনে বাঁশির সুর যেন এক প্রাণবন্ধন, যার মাধ্যমে তিনি নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তার বাজানো বাঁশির সুর প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী এক বাদ্যযন্ত্রের সাথে যুগ যুগান্তকারী সম্পর্ককে উদযাপন করে। রাজদরবার থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে বাঁশির স্থান মূলত আলাদা। এই সুরের দোলায় ভেসে গানের বাণী ফুটে ওঠে, যা মানব হৃদয়কে বিভোর করে তোলে।

কৃষ্ণ দাসের বাড়ি মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের শ্রী গোবীন্ধপুর। পারিবারিক অর্থনৈতিক সংকটের কারণে তাঁর লেখাপড়া সম্ভব হয়নি, তবে বাঁশির প্রতি তার দুর্বলতা ছোটকাল থেকেই। দারিদ্র্যের কারণে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গেলেও, বাঁশি বাজানোর প্রতি তার আগ্রহ কখনো কমেনি। কৈশোর থেকে নিজেকে বিভিন্ন কাজে সম্পৃক্ত করে জীবন চালিয়ে যাচ্ছে।

উপজেলার মাধবপুর লেকের ধারে বাঁশি হাতে নানা ধরনের সুরের ঝংকার শুনতে পাওয়া যায়। দর্শনার্থীরা সেই সুরে মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন এবং অনেকেই উৎসাহ দিচ্ছেন। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, শখের বসে শেখা বাঁশির জন্য এখন তার জীবনই নির্ভরশীল। পাড়ার আড্ডা, চায়ের দোকান, বিয়ের অনুষ্ঠানে, বা লেকের পাশে বাঁশি বাজিয়ে তিনি মনে ধরে দেন সবাইকে। এ সময় তার কষ্টের জীবনের গল্প আর উৎসাহ সবাইকে অনুপ্রাণিত করে।অনেক পর্যটক ও স্থানীয় লোকজন তাকে সহযোগিতা করছেন। গভীর রাতে বাঁশি বাজানোর সময় হৃদয় স্পর্শ করে যায় সবার। তার এই সংগ্রামী জীবন অন্যদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

ঢাকা থেকে এসে মহিমা পাল বলেন, ‘অন্য পেশায় জীবিকা চালানো সহজ নয়, তাই বাঁশিকে তিনি বেছে নিয়েছেন পেশা হিসেবে। বাঁশির সুরে মানুষের মনে রিয়ে যায় এক স্বস্তির বোধ। পর্যটন এলাকা ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে তার বাঁশির সুর শ্রোতাদের মনকে দুলিয়ে তোলে। শখের বসে বাঁশি শেখা কৃষ্ণের জীবনে এখন বাঁশির সুরই একমাত্র জীবিকা।

কৃষ্ণ দাসের বিবরণে জানা যায়, তার জন্ম ভারতের কলকাতায়। সেখান থেকে বাঁশি বাজানো শেখে। মা-বাবার মৃত্যুর পর তিনি বাংলাদেশে আসেন। এখন তিনি কমলগঞ্জের শ্রীগোবিন্দপুরে বসবাস করছেন, সংসার পরিচালনা করে জীবন জীবিকার তাগিদে। তার জন্য এখন বাঁশির সুর যেন এক অসীম ভালোবাসার সংগীত। তিনি বলেন, ‘আগে মানুষ টাকা দিয়ে আমার বাঁশির সুর শুনে উপভোগ করত, এখন সুর শোনা মানেই কেউ কিছু দেয় না। তবে বাঁশি বাজানো থেকে আমি কখনো বিরত থাকব না। এই সুর আমার আত্মার সাথে মিশে গেছে। তবে এখন এই সুরে জীবন যেন চলে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার মন চাই মানুষ যেন আমার বাঁশির সুর শুনতে চায়। তারা মন দিয়ে শোনে, এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রশংসা। ছোট ছোট টাকা পেলে আমি জীবন চালাই।’

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাখন চন্দ্র সূত্রধর বলেন, ‘বাঁশির সুর উপমহাদেশের সংগীতের এক অনন্য সংযোজন। অতীতে যেখানে জনজীবনে বাঁশির চর্চা ছিল খুবই জনপ্রিয়, সেখানে আধুনিক যুগে তা কমে গেছে। আমাদের উচিত এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে আরও এগিয়ে আসা। বাঁশি শিল্পের জন্য সবাই এগিয়ে এলে এ শিল্পটি আরও জীবন্ত হবে। কৃষ্ণদাসের মতো বংশীবাদকদের এগিয়ে নেয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসন সব ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত।’