০৯:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

বিমা আইন সংশোধনের আগে আইডিআরএর সংস্কার জরুরি

বিমা আইনের সংশোধনী প্রস্তাবে যে ধারা ও উপধারা সংযোজিত হয়েছে, সেগুলোর সফল বাস্তবায়নে দক্ষ ও সক্ষম একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য প্রথমেই বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী সংগঠন, অর্থাৎ আইডিআরএ-র ব্যাপক সংস্কার অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃআলোচনায় তারা এই দাবি জানান। আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয় বিমা খাতের উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য প্রস্তাবিত বিমা আইন-২০১০-এর সংশোধনী ও প্রতিষ্ঠানটি সংস্কারে। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বিশেষায়িত সংবাদমাধ্যম ইন্স্যুরেন্স নিউজ বিডি।প্রবীণে বক্তব্য রাখেন আইডিআরএর সাবেক সদস্য (লাইফ) সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট রুলস এর মহাসচিব কাজী মো. মোরতুজা আলী ও প্র_pfপ্রথমে বিপিডির সম্পাদক প্রণব মজুমদার। অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক ও সভাপতিত্ব করেন ইন্স্যুরেন্স নিউজ বিডির সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান টুংকু।লোচনাকারীরা বলেন, সম্প্রতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও আইডিআরএ কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করেনি বিমা খাতের সংস্কারে। তারা বলছেন, ২০১০ সালের বিমা আইনের সংশোধনী ছাড়াই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ ও সংস্কার সম্ভব হয়নি। লাইফ বিমা কোম্পানিগুলোর তহবিলের অপব্যয়, গ্রাহকদের দাবির পরিশোধে বিলম্ব, এবং তহবিল-তছরুপের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া, নন-লাইফ বিমা খাতেও অবৈধ কমিশন বন্ধ ও দক্ষ জনবল তৈরিতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ২০১০ সালে এই আইনটি প্রণীত হয়েছে, কিন্তু তার পর থেকে কি কারণে তা দ্রুত সংশোধনের প্রয়োজন ছিল, সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন হলেও, প্রাথমিকভাবে নিয়োগকৃত কর্মকর্তাদের বেশিরভাগেরই বিমা বিষয়ক অভিজ্ঞতা নেই, ফলে আইন প্রয়োগের সঠিকতা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংকট।আইডিআরএর একজন সদস্য বলেন, সংশোধনী প্রস্তাবে মূল ১৬০টি ধারার মধ্যে ৯৯টি অপরিবর্তিত রেখেছেন, কিন্তু তাদের উপধারাগুলো পরিবর্তন, সংযোজন ও সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আরও ৬১টি ধারার উপধারাসহ বেশ কিছু বিয়োজন ও নতুন প্রস্তাবসহ মোট ৬৪টি নতুন ধারাও সংযোজিত হয়েছে। তারা অবিরত উল্লেখ করেন, সচিবালয়ের মাধ্যমে উপসচিব ও যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়, যারা বদলির আওতায় থাকেন। যেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংক বা বিএসইসির মতো প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনবল নির্মাণ হয়নি, বিধায় এই সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের চালিকা শক্তি এখনো দুর্বল।এই সকল বিষয়ে, আইডিআরএ-র এই সদস্য বলেন, এর আগেও, যেমন আইন সংশোধনের জন্য প্রস্তাবিত ধারা ও উপধারা অনুসারে, বিমা শিল্পের জন্য একটি দক্ষ ও চৌকস নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠা জরুরি। সেই জন্য আগে থেকেই সংস্থাটির ব্যাপক সংস্কার অত্যাবশ্যক। আর মনে রাখতে হবে, এই খাতের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি তার প্রতিষ্ঠার আধারে। বিমা শিল্পের বিকাশ সাধারণ জনগণের জন্য সুবিধাজনক হতে হবে, এবং এটিকে সর্বজনীন ও রিটেইল পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। এই ক্ষেত্রে বিমাকারীর ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নিয়ন্ত্রণ সংস্থারও দায়িত্ব প্রাধান্য পাবে। এক্ষেত্রে, আইনগুলো যেন জনবান্ধব ও জনগণের জন্য সুবিধাজনক হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

বিমা আইন সংশোধনের আগে আইডিআরএর সংস্কার জরুরি

প্রকাশিতঃ ০১:২০:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

বিমা আইনের সংশোধনী প্রস্তাবে যে ধারা ও উপধারা সংযোজিত হয়েছে, সেগুলোর সফল বাস্তবায়নে দক্ষ ও সক্ষম একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকা অত্যন্ত জরুরি। এ জন্য প্রথমেই বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণকারী সংগঠন, অর্থাৎ আইডিআরএ-র ব্যাপক সংস্কার অপরিহার্য বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃআলোচনায় তারা এই দাবি জানান। আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয় বিমা খাতের উন্নয়ন, স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য প্রস্তাবিত বিমা আইন-২০১০-এর সংশোধনী ও প্রতিষ্ঠানটি সংস্কারে। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে বিশেষায়িত সংবাদমাধ্যম ইন্স্যুরেন্স নিউজ বিডি।প্রবীণে বক্তব্য রাখেন আইডিআরএর সাবেক সদস্য (লাইফ) সুলতান-উল-আবেদীন মোল্লা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইনস্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট রুলস এর মহাসচিব কাজী মো. মোরতুজা আলী ও প্র_pfপ্রথমে বিপিডির সম্পাদক প্রণব মজুমদার। অনুষ্ঠানের মূল আয়োজক ও সভাপতিত্ব করেন ইন্স্যুরেন্স নিউজ বিডির সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান টুংকু।লোচনাকারীরা বলেন, সম্প্রতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পরও আইডিআরএ কোনও উদ্যোগ গ্রহণ করেনি বিমা খাতের সংস্কারে। তারা বলছেন, ২০১০ সালের বিমা আইনের সংশোধনী ছাড়াই প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ ও সংস্কার সম্ভব হয়নি। লাইফ বিমা কোম্পানিগুলোর তহবিলের অপব্যয়, গ্রাহকদের দাবির পরিশোধে বিলম্ব, এবং তহবিল-তছরুপের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া, নন-লাইফ বিমা খাতেও অবৈধ কমিশন বন্ধ ও দক্ষ জনবল তৈরিতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, ২০১০ সালে এই আইনটি প্রণীত হয়েছে, কিন্তু তার পর থেকে কি কারণে তা দ্রুত সংশোধনের প্রয়োজন ছিল, সেটি এখনো পরিষ্কার নয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন হলেও, প্রাথমিকভাবে নিয়োগকৃত কর্মকর্তাদের বেশিরভাগেরই বিমা বিষয়ক অভিজ্ঞতা নেই, ফলে আইন প্রয়োগের সঠিকতা নিয়ে দেখা দিয়েছে সংকট।আইডিআরএর একজন সদস্য বলেন, সংশোধনী প্রস্তাবে মূল ১৬০টি ধারার মধ্যে ৯৯টি অপরিবর্তিত রেখেছেন, কিন্তু তাদের উপধারাগুলো পরিবর্তন, সংযোজন ও সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। আরও ৬১টি ধারার উপধারাসহ বেশ কিছু বিয়োজন ও নতুন প্রস্তাবসহ মোট ৬৪টি নতুন ধারাও সংযোজিত হয়েছে। তারা অবিরত উল্লেখ করেন, সচিবালয়ের মাধ্যমে উপসচিব ও যুগ্ম সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়, যারা বদলির আওতায় থাকেন। যেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংক বা বিএসইসির মতো প্রশিক্ষিত ও দক্ষ জনবল নির্মাণ হয়নি, বিধায় এই সংস্থাগুলোর কার্যক্রমের চালিকা শক্তি এখনো দুর্বল।এই সকল বিষয়ে, আইডিআরএ-র এই সদস্য বলেন, এর আগেও, যেমন আইন সংশোধনের জন্য প্রস্তাবিত ধারা ও উপধারা অনুসারে, বিমা শিল্পের জন্য একটি দক্ষ ও চৌকস নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠা জরুরি। সেই জন্য আগে থেকেই সংস্থাটির ব্যাপক সংস্কার অত্যাবশ্যক। আর মনে রাখতে হবে, এই খাতের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি তার প্রতিষ্ঠার আধারে। বিমা শিল্পের বিকাশ সাধারণ জনগণের জন্য সুবিধাজনক হতে হবে, এবং এটিকে সর্বজনীন ও রিটেইল পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে। এই ক্ষেত্রে বিমাকারীর ভূমিকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নিয়ন্ত্রণ সংস্থারও দায়িত্ব প্রাধান্য পাবে। এক্ষেত্রে, আইনগুলো যেন জনবান্ধব ও জনগণের জন্য সুবিধাজনক হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।