রপ্তানি খাত হিসেবে সিরামিক শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা উপলব্ধি করে তা কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের প্রতি এক গুরুত্বপূর্ণ আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, আমাদের উচিত শুধুমাত্র অভিযোগ করে লাভ নেই, বরং যৌক্তিক, গ্রহণযোগ্য এবং বাস্তবসম্মত প্রস্তাব নিয়ে এগোতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার প্রস্তুত, সব ধরনের সহায়তা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা বাধ্য। তবে এগুলি মেনে চলতে হবে ন্যায্যতা এবং মানসম্মত শিল্পাচরণের ভিত্তিতে।
শেখ বশিরউদ্দীন আরও উল্লেখ করেন, দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন প্রমাণ করছে যে, অতীতের মতো সংযোগ-নির্ভর ব্যবসা আর চলবে না। এখন সময় দক্ষতা, যোগ্যতা ও প্রযুক্তির। পোশাক শিল্প শুধুমাত্র এক যুগের মধ্যে বড় রপ্তানি খাতে রূপান্তরিত হলেও, সিরামিক খাত কেন এখনও সেই উচ্চতায় পৌঁছাতে পারছে না তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। কারণ, টেকসই খরচ, প্রতিযোগিতা, ডিজাইন নবায়ন, লজিস্টিক দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় এখনো কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধানে এগোতে হবে।
এ বছর বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া ‘চতুর্থ সিরামিক এক্সপো বাংলাদেশ-২০২৫’ মেলা চলবে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। এ মেলার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমইএ)। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এর সভাপতি মইনুল ইসলামের, উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি হিসেবে ইতালির রাষ্ট্রদূত অ্যান্তেনিও আলেসান্দ্রো, ইপিবির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ এবং মেলার কলাকৌশলী ও সাধারণ সম্পাদক ইরফান উদ্দীন।
এতে বাংলাদেশসহ মোট ২৫টি দেশ থেকে ১৩৫টি প্রতিষ্ঠান, ৩০০ ব্র্যান্ড অংশ নিচ্ছে, তাদের পাশাপাশি রয়েছে ৫০০ আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি ও ক্রেতা। ‘সিরামিক এক্সপো বাংলাদেশ-২০২৫’ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী, যা চলবে তিন দিন। অনুষ্ঠানে তিনটি সেমিনার, চাকরি মেলা, বিটুআইবি ও বিটুসি মিটিং, লাইভ ডেমো, স্পট অর্ডার, র্যাফেল ড্র এবং নতুন পণ্যের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে। দর্শকদের জন্য প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মেলা উন্মুক্ত থাকবে।
উল্লেখ্য, দেশে ইতোমধ্যে টেবিলওয়্যার, টাইলস ও স্যানিটারি ওয়্যারের মতো বিভিন্ন খাতে ৭০টির বেশি কারখানা গড়ে উঠেছে। এসব পণ্য দেশের বাজারের মূল্য প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা। গত দশ বছরে এই শিল্পে উৎপাদন ও বিনিয়োগ প্রায় ১৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ৫০টির বেশি দেশে বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য রপ্তানি হয়ে থাকে, যার মাধ্যমে বছরে আয় হয় প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। আর সব মিলিয়ে, এই শিল্পে মোট বিনিয়োগ প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রায় ৫ লাখের বেশি মানুষ, যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কর্মসংস্থান পাচ্ছেন।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























