০৯:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আন্তর্জাতিকভাবে দাবি জানানোয় বন্দিদের মুক্তি ঘোষণা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর দোয়ার আবেদন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমারও: তারেক রহমান মৌসুমি সবজি বাজারে ভরপুর, দাম কমে গেছে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া ও মোনাজাত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য ভর্তুকির দাবি আরব আমিরাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ২৪ ব্যক্তির মুক্তি আসছে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা মনের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে দ্বন্দ্ব: তারেক রহমানের মন্তব্য বাজারে মৌসুমি সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম কমে যাচ্ছে

ঢাকায় আবার উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ভূমিকম্পের আশঙ্কা

টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্টে হলেও এবারই প্রথম নয়, রাজধানী ঢাকায় ভূমিকম্পের আতঙ্ক বাড়ছে। সম্প্রতি এক জরিপে জানা গেছে, ভূমিকম্পের মাত্রা যখন ছয় দশমিক নয় হবে, তখন রাজধানীর প্রায় ৪০ শতাংশ ভবনই ধসে পড়তে পারে, এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে দুই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুও হতে পারে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে অনেক বিপুল সংখ্যক বহুতল ভবন বিধিমালা অমান্য করে নির্মিত হওয়ায় নিরাপদ এলাকা খুঁজে পাওয়া দায় হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, ঢাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং ফল্ট লাইনের অবস্থান দুর্যোগ মোকাবিলায় সুবিধাজনক হলেও নির্মাণে অনিয়ম, ভরাট জমির প্রসার এবং জনসংখ্যার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি শহরটিকে এক জটিল পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছ। কোন এলাকাগুলো কতটুকু নিরাপদ, তা নির্ণয়ে বিশেষজ্ঞরা দুটি দিকের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন। এক. শহরের ভূতাত্ত্বিক গঠন, দুই. শহরের অবকাঠামো।

ভূতত্ত্ববিদ সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, ঢাকাসহ এর আশেপাশের এলাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন বেশিরভাগটাই একই। উত্তরদিকের মাটি, যেমন–মধুপুরের লাল মাটি, আরও শক্ত। তবে শহর দ্রুত বিস্তার লাভের কারণে অনেক এলাকা অবকাঠামোগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, এই স্তরগুলোই যেমন রমনা, মগবাজার, নিউমার্কেট, লালমাটিয়া, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমন্ডি, লালবাগ, মিরপুর, গুলশান ও তেজগাঁও এলাকার জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। তবে শুধু ভূতাত্ত্বিক গঠনই নিরাপত্তার গ্যারান্টি নয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, ঢাকায় কোন এলাকা কতটুকু নিরাপদ বা ঝুঁকিপূর্ণ, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। ভবনগুলো যতক্ষণ পর্যন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাওয়া হবে না, তখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

শক্ত মাটির এলাকাগুলিতেও ঝুঁকি রয়েছে, কারণ সেগুলোর কিছু পুরনো ভবন সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন অসম্ভব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, এমন ভবন যেগুলোর অনুমোদন দুই বা তিন তলায় দেওয়া হলেও, পরে নানা কারণে বহুতলে রূপান্তর করে অবৈধভাবে দোতলা থেকে সাততলা করে দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের ভবনগুলো অননুমোদিত এবং দুর্বল ফাউন্ডেশনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া নতুন নির্মাণাধীন ভবনগুলোর মানও নিম্ন, যে কারণে ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনীয় নয়।

রাজউকের পরিসংখ্যান মতে, ঢাকার প্রায় ৯০ শতাংশ ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোডের ব্যত্যয় ঘটেছে। সম্প্রতি পাঁচ দশমিক সাত মাত্রার ভূমিকম্পের পরে, ২১ নভেম্বর রাজউক ৩০০টির বেশি ভবনকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

অপরদিকে, ঢাকায় জলাশয় ও ডোবা ভরাট করে তৈরি হয়েছে অনেক আধুনিক এলাকা, যেমন বসুন্ধরা, আফতাবনগর। এসব এলাকার মাটি শক্ত নয়; তাই ভবন নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সঠিক পরীক্ষা ও প্রস্তুতি নেয়া জরুরি। মেক্সিকোর সান হুয়ানিকো শহরের উদাহরণ টেনে তিনি বলছেন, সেখানে পাহাড়ের গায়ে কৃত্রিমভাবে মাটির স্তর সৃষ্টি করে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ১৯৮৫ সালে এক দশমিক এক মাত্রা ভূমিকম্পে সেই শহরে ৭০ শতাংশ ভবন ধসে পড়ে, প্রায় ১৫ হাজার মানুষ মৃত্যুর মুখে পড়ে। গবেষণায় দেখা যায়, সেখানকার মাটি ভরাটের সময় ‘গ্রাউন্ড ইমপ্রুভমেন্ট টেকনিক’ মানা হয়নি। এর ফলে ভবিষ্যতেও অনিরাপদ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ঢাকায় আবার উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ভূমিকম্পের আশঙ্কা

প্রকাশিতঃ ১১:৫২:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

টাঙ্গাইলের মধুপুর ফল্টে হলেও এবারই প্রথম নয়, রাজধানী ঢাকায় ভূমিকম্পের আতঙ্ক বাড়ছে। সম্প্রতি এক জরিপে জানা গেছে, ভূমিকম্পের মাত্রা যখন ছয় দশমিক নয় হবে, তখন রাজধানীর প্রায় ৪০ শতাংশ ভবনই ধসে পড়তে পারে, এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে দুই লাখের বেশি মানুষের মৃত্যুও হতে পারে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে অনেক বিপুল সংখ্যক বহুতল ভবন বিধিমালা অমান্য করে নির্মিত হওয়ায় নিরাপদ এলাকা খুঁজে পাওয়া দায় হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, ঢাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং ফল্ট লাইনের অবস্থান দুর্যোগ মোকাবিলায় সুবিধাজনক হলেও নির্মাণে অনিয়ম, ভরাট জমির প্রসার এবং জনসংখ্যার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি শহরটিকে এক জটিল পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছ। কোন এলাকাগুলো কতটুকু নিরাপদ, তা নির্ণয়ে বিশেষজ্ঞরা দুটি দিকের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দেন। এক. শহরের ভূতাত্ত্বিক গঠন, দুই. শহরের অবকাঠামো।

ভূতত্ত্ববিদ সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলেন, ঢাকাসহ এর আশেপাশের এলাকার ভূতাত্ত্বিক গঠন বেশিরভাগটাই একই। উত্তরদিকের মাটি, যেমন–মধুপুরের লাল মাটি, আরও শক্ত। তবে শহর দ্রুত বিস্তার লাভের কারণে অনেক এলাকা অবকাঠামোগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। তিনি আরও বলেন, এই স্তরগুলোই যেমন রমনা, মগবাজার, নিউমার্কেট, লালমাটিয়া, খিলগাঁও, মতিঝিল, ধানমন্ডি, লালবাগ, মিরপুর, গুলশান ও তেজগাঁও এলাকার জন্য তুলনামূলকভাবে নিরাপদ। তবে শুধু ভূতাত্ত্বিক গঠনই নিরাপত্তার গ্যারান্টি নয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, ঢাকায় কোন এলাকা কতটুকু নিরাপদ বা ঝুঁকিপূর্ণ, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। ভবনগুলো যতক্ষণ পর্যন্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাওয়া হবে না, তখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়।

শক্ত মাটির এলাকাগুলিতেও ঝুঁকি রয়েছে, কারণ সেগুলোর কিছু পুরনো ভবন সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন অসম্ভব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে, এমন ভবন যেগুলোর অনুমোদন দুই বা তিন তলায় দেওয়া হলেও, পরে নানা কারণে বহুতলে রূপান্তর করে অবৈধভাবে দোতলা থেকে সাততলা করে দেওয়া হয়েছে। এই ধরনের ভবনগুলো অননুমোদিত এবং দুর্বল ফাউন্ডেশনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া নতুন নির্মাণাধীন ভবনগুলোর মানও নিম্ন, যে কারণে ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনীয় নয়।

রাজউকের পরিসংখ্যান মতে, ঢাকার প্রায় ৯০ শতাংশ ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোডের ব্যত্যয় ঘটেছে। সম্প্রতি পাঁচ দশমিক সাত মাত্রার ভূমিকম্পের পরে, ২১ নভেম্বর রাজউক ৩০০টির বেশি ভবনকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

অপরদিকে, ঢাকায় জলাশয় ও ডোবা ভরাট করে তৈরি হয়েছে অনেক আধুনিক এলাকা, যেমন বসুন্ধরা, আফতাবনগর। এসব এলাকার মাটি শক্ত নয়; তাই ভবন নির্মাণের আগে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে সঠিক পরীক্ষা ও প্রস্তুতি নেয়া জরুরি। মেক্সিকোর সান হুয়ানিকো শহরের উদাহরণ টেনে তিনি বলছেন, সেখানে পাহাড়ের গায়ে কৃত্রিমভাবে মাটির স্তর সৃষ্টি করে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ১৯৮৫ সালে এক দশমিক এক মাত্রা ভূমিকম্পে সেই শহরে ৭০ শতাংশ ভবন ধসে পড়ে, প্রায় ১৫ হাজার মানুষ মৃত্যুর মুখে পড়ে। গবেষণায় দেখা যায়, সেখানকার মাটি ভরাটের সময় ‘গ্রাউন্ড ইমপ্রুভমেন্ট টেকনিক’ মানা হয়নি। এর ফলে ভবিষ্যতেও অনিরাপদ পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।