০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন

বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দাফন আজ সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল’état একটি পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। তিনি শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে ও দেশের প্রথম স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হন। দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরহুমার কবরের পাশে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ধর্মীয় মোনাজাত এবং শোকপ্রকাশের মধ্য দিয়ে এই রাজনৈতিক পরিবারের শোকের মধ্যযুগ শেষ হলো। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি সূচিত করেছে।

দাফন কার্যক্রম চলাকালে কবরের পাশে উপস্থিত ছিলেন মরহুমার জ্যেষ্ঠ সন্তান ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান, নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামীলা রহমানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। পাশাপাশি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং বিএনপি ও তার অঙ্গ-সংগঠনের শীর্ষ নেতারা অশ্রুসিক্ত চোখে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দাফনের পরপরই মরহুমার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিটের নীরবতা পালনের সিদ্ধান্ত নেয় দল।

এর আগে সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মরদেহ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনা হয়। এরপর বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এক বিশাল ও শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা মাত্র দু’ মিনিটের মধ্যে শেষ হলেও লাখো মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা শোকার্ত হয়ে উঠেছিল। জানাজার সময় রাজধানী যেন শোকের নগরীতে রূপ নেয় এবং সর্বত্র মানুষের ঢল নামে। জানাজা শেষে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মরদেহ বিশেষ প্রটোকলে জিয়া উদ্যানে নিয়ে জানাজা ও ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন হয়।

১৯৩৯ সালে জন্মগ্রহণ করে লিভার সিরোসিসসহ নানা শারীরিক জটিলতায় দীর্ঘ রোগভোগের পরে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে ৭৯ বছর বয়সে এ দেশের জনপ্রিয় নেতা ও ‘আপসহীন নেত্রী’ খালেদা জিয়া পরলোকে পাড়ি জমান। তাঁর এই মৃত্যুতে দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা এবং তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের পর প্রিয়জনের পাশে আজ চিরস্থায়ী স্থান লাভ করেছেন। দাফনের পর শেরেবাংলা নগর ও সংসদ ভবন এলাকায় আগের মতো শোকের পরিবেশ বজায় থাকছে, যেখানে শোকাহত মানুষের ভিড় এবং গম্ভীর নীরবতা দমকা বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। মূলত, এই বিদায়ের মাধ্যমে পুরো দেশ গভীর শোকের ঢেউয়ে ডুবেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

খালেদা জিয়ার দাফন সম্পন্ন

প্রকাশিতঃ ১১:৪৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দাফন আজ সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল’état একটি পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। তিনি শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে ও দেশের প্রথম স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত হন। দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরহুমার কবরের পাশে পুষ্পস্তবক অর্পণ, ধর্মীয় মোনাজাত এবং শোকপ্রকাশের মধ্য দিয়ে এই রাজনৈতিক পরিবারের শোকের মধ্যযুগ শেষ হলো। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি সূচিত করেছে।

দাফন কার্যক্রম চলাকালে কবরের পাশে উপস্থিত ছিলেন মরহুমার জ্যেষ্ঠ সন্তান ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, পুত্রবধূ ডা. জুবাইদা রহমান, নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান এবং প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শামীলা রহমানসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা। পাশাপাশি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এবং বিএনপি ও তার অঙ্গ-সংগঠনের শীর্ষ নেতারা অশ্রুসিক্ত চোখে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দাফনের পরপরই মরহুমার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে এক মিনিটের নীরবতা পালনের সিদ্ধান্ত নেয় দল।

এর আগে সকাল ১১টা ৪৮ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে মরদেহ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনা হয়। এরপর বিকেল ৩টা ৩ মিনিটে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এক বিশাল ও শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়ে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা মাত্র দু’ মিনিটের মধ্যে শেষ হলেও লাখো মানুষের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা শোকার্ত হয়ে উঠেছিল। জানাজার সময় রাজধানী যেন শোকের নগরীতে রূপ নেয় এবং সর্বত্র মানুষের ঢল নামে। জানাজা শেষে বিকেল সাড়ে চারটার দিকে মরদেহ বিশেষ প্রটোকলে জিয়া উদ্যানে নিয়ে জানাজা ও ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী দাফন সম্পন্ন হয়।

১৯৩৯ সালে জন্মগ্রহণ করে লিভার সিরোসিসসহ নানা শারীরিক জটিলতায় দীর্ঘ রোগভোগের পরে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে ৭৯ বছর বয়সে এ দেশের জনপ্রিয় নেতা ও ‘আপসহীন নেত্রী’ খালেদা জিয়া পরলোকে পাড়ি জমান। তাঁর এই মৃত্যুতে দেশজুড়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা এবং তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালিত হচ্ছে। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের দীর্ঘ সংগ্রামের পর প্রিয়জনের পাশে আজ চিরস্থায়ী স্থান লাভ করেছেন। দাফনের পর শেরেবাংলা নগর ও সংসদ ভবন এলাকায় আগের মতো শোকের পরিবেশ বজায় থাকছে, যেখানে শোকাহত মানুষের ভিড় এবং গম্ভীর নীরবতা দমকা বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে। মূলত, এই বিদায়ের মাধ্যমে পুরো দেশ গভীর শোকের ঢেউয়ে ডুবেছে।