০৯:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় পৌঁছেছেন স্মারণ ও বিশ্লেষণে দাবি: নির্বাচন পরিকল্পনায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন মатарবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকা- ৯ ঘণ্টা চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে দ্বিগুণেরও বেশি বাজেটে সংশোধিত এডিপি অনুমোদন সংস্কারের নামে পুরোনো আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের পুনর্বাসন: টিআইবির অভিযোগ

৩০ কার্যদিবসের মধ্যে হাদি হত্যার বিচার না হলে সরকার পতনের আন্দোলন

আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার না হলে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করবে বলে ঘোষণা করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর শাহবাগে এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এই ঘোষণা দেন।

এর আগে, জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা। এই মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে শুরু করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে দিয়ে শাহবাগে এসে শেষ হয়। সেখানে বক্তৃতা করেন আবদুল্লাহ আল জাবের। তার বক্তৃতা শেষ হওয়ার পরে, তারা শাহবাগে অবস্থান নেন। এই অবস্থানসূচির কারণে শাহবাগ মোড়ের এক পাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে শাহবাগে হাদি হত্যার বিচার দাবির কর্মসূচি চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ২৯ ডিসেম্বর ‘স্যালুটিং আওয়ার কালচারাল হিরো’ শিরোনামে এক অনলাইন কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) আবারও তারা শাহবাগে অবস্থান নেন।

সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, শাহবাগে অবস্থান নিয়ে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা।

আব্দুল্লাহ আল জাবের হাদি হত্যার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘ওসমান হাদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং ইনসাফের আন্দোলন শুরু করেছিলেন। ফলে অনেকের মনে হয়, হাদিকে এখনই খুন না করলে তাঁরা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সীমান্তে লাশ রাখা অবৈধ হতে পারে, দিল্লির তাঁবেদারি বন্ধের জন্যও তিনি শত্রু ছিলেন। এসব কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।’

খুনিদের গ্রেপ্তার নিয়ে সরকারের সদিচ্ছার অভাবের কথা উল্লেখ করে, তিনি বলেন, ‘ওসমান হাদি নিহতের ২১ দিন পার হলেও সরকার এখনো এই মামলার সঙ্গে যুক্ত ২১ জনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, কিন্তু তার পরিবারের সদস্যদেরও গ্রেপ্তার করেছে। অথচ, সম্পৃক্ত এক জনকেও গ্রেপ্তার করতে পারছে না। আমাদের মনে হয়, এর পেছনে সরকারের কোনো সদিচ্ছাও নেই।’

আবদুল্লাহ আল জাবের আরও বলেন, ডিএমপি কমিশনার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, দুইজন খুনের সঙ্গে জড়িত মেঘালয় পুলিশকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু মেঘালয় পুলিশ বলছে, তারা কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। এর মানে, এই খুনের ঘটনা বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

সরকার পতনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ঘোষণা খুবই স্পষ্ট। সরকার ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় চেয়েছে, আর আমরা ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এই খুনের বিচার দাবি করেছি। এখনো ২২ দিন সময় বাকি। আমরা এই সময়ের মধ্যে ifসরকার এই হত্যার বিচ্যুতি করেন না, তাহলে আমরা ৩০ কার্যদিবসের পর সরকারের পতনের আন্দোলন শুরু করব।’

তিনি আরও বলেন, শুধু খুনিদের চিহ্নিত করলেই হবে না, এই খুনের পেছনে যারা রয়েছেন, সকলকেই চিহ্নিত করে অভিযোগপত্র দাখিল করতে হবে।

আবদুল্লাহ আল জাবের জানান, হাদি হত্যার বিচারের জন্য তারা শনিবার সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশপন্থী সংগঠনের কাছে যাবো। যারা ভারতের তাঁবেদারি করে, তাদের সঙ্গে দেখা করব না। সকল বাংলাদেশপন্থী সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে কথা বলব ও সহযোগিতা হিসেবে চাইব। যদি তারা সহযোগিতা করে, তাহলে ইনশাআল্লাহ, আমরা রাজপথে থাকব। যদি না করে, তাহলে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

৩০ কার্যদিবসের মধ্যে হাদি হত্যার বিচার না হলে সরকার পতনের আন্দোলন

প্রকাশিতঃ ১১:৫২:৩৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

আগামী ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার না হলে সরকার পতনের আন্দোলন শুরু করবে বলে ঘোষণা করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) বেলা আড়াইটার দিকে রাজধানীর শাহবাগে এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এই ঘোষণা দেন।

এর আগে, জুমার নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা। এই মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে শুরু করে রাজু ভাস্কর্যের সামনে দিয়ে শাহবাগে এসে শেষ হয়। সেখানে বক্তৃতা করেন আবদুল্লাহ আল জাবের। তার বক্তৃতা শেষ হওয়ার পরে, তারা শাহবাগে অবস্থান নেন। এই অবস্থানসূচির কারণে শাহবাগ মোড়ের এক পাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

গত ২৬ ডিসেম্বর থেকে ইনকিলাব মঞ্চের উদ্যোগে শাহবাগে হাদি হত্যার বিচার দাবির কর্মসূচি চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ২৯ ডিসেম্বর ‘স্যালুটিং আওয়ার কালচারাল হিরো’ শিরোনামে এক অনলাইন কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) আবারও তারা শাহবাগে অবস্থান নেন।

সড়ক ঘুরে দেখা গেছে, শাহবাগে অবস্থান নিয়ে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা।

আব্দুল্লাহ আল জাবের হাদি হত্যার কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘ওসমান হাদি বাংলাদেশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং ইনসাফের আন্দোলন শুরু করেছিলেন। ফলে অনেকের মনে হয়, হাদিকে এখনই খুন না করলে তাঁরা ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সীমান্তে লাশ রাখা অবৈধ হতে পারে, দিল্লির তাঁবেদারি বন্ধের জন্যও তিনি শত্রু ছিলেন। এসব কারণেই তাকে হত্যা করা হয়েছে।’

খুনিদের গ্রেপ্তার নিয়ে সরকারের সদিচ্ছার অভাবের কথা উল্লেখ করে, তিনি বলেন, ‘ওসমান হাদি নিহতের ২১ দিন পার হলেও সরকার এখনো এই মামলার সঙ্গে যুক্ত ২১ জনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ১১ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, কিন্তু তার পরিবারের সদস্যদেরও গ্রেপ্তার করেছে। অথচ, সম্পৃক্ত এক জনকেও গ্রেপ্তার করতে পারছে না। আমাদের মনে হয়, এর পেছনে সরকারের কোনো সদিচ্ছাও নেই।’

আবদুল্লাহ আল জাবের আরও বলেন, ডিএমপি কমিশনার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, দুইজন খুনের সঙ্গে জড়িত মেঘালয় পুলিশকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু মেঘালয় পুলিশ বলছে, তারা কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। এর মানে, এই খুনের ঘটনা বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

সরকার পতনের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ঘোষণা খুবই স্পষ্ট। সরকার ৭ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় চেয়েছে, আর আমরা ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে এই খুনের বিচার দাবি করেছি। এখনো ২২ দিন সময় বাকি। আমরা এই সময়ের মধ্যে ifসরকার এই হত্যার বিচ্যুতি করেন না, তাহলে আমরা ৩০ কার্যদিবসের পর সরকারের পতনের আন্দোলন শুরু করব।’

তিনি আরও বলেন, শুধু খুনিদের চিহ্নিত করলেই হবে না, এই খুনের পেছনে যারা রয়েছেন, সকলকেই চিহ্নিত করে অভিযোগপত্র দাখিল করতে হবে।

আবদুল্লাহ আল জাবের জানান, হাদি হত্যার বিচারের জন্য তারা শনিবার সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশপন্থী সংগঠনের কাছে যাবো। যারা ভারতের তাঁবেদারি করে, তাদের সঙ্গে দেখা করব না। সকল বাংলাদেশপন্থী সাংস্কৃতিক সংগঠনের সঙ্গে কথা বলব ও সহযোগিতা হিসেবে চাইব। যদি তারা সহযোগিতা করে, তাহলে ইনশাআল্লাহ, আমরা রাজপথে থাকব। যদি না করে, তাহলে আন্দোলন চালিয়ে যাব।’