০৮:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় পৌঁছেছেন স্মারণ ও বিশ্লেষণে দাবি: নির্বাচন পরিকল্পনায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন মатарবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকা- ৯ ঘণ্টা চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে দ্বিগুণেরও বেশি বাজেটে সংশোধিত এডিপি অনুমোদন সংস্কারের নামে পুরোনো আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের পুনর্বাসন: টিআইবির অভিযোগ

সমালোচনার মুখেও বক্স অফিসে দাপট: অ্যাভাটার থ্রি ব্যবসায়িক সফলতা ধরে রাখল

জেমস ক্যামেরনের বহুল প্রত্যাশিত ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ সিনেমা দর্শকদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া থাকলেও বক্স অফিসে এর দাপট অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। গল্প ও চিত্রনাট্য নিয়ে সমালোচনা, অগোছালো প্লটের অভিযোগ থাকলেও, এই ছবি মাত্র ১৮ দিনের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ১ বিলিয়ন ডলার বা ১০০ কোটি ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। আন্তর্জাতিক বিনোদন সংবাদমাধ্যম ভ্যারিয়েটির প্রতিবেদনে জানানো হয়, এর মোট আয় এখন ₹১০৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এর মধ্যে মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে আয় হয়েছে ৩০ কোটি ৬০ লাখ ডলার এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ৭৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এই বিশাল অঙ্কের ব্যবসায়িক সফলতা সিনেমাটির জন্য ২০২৬ সালের শুরুতেই এক শক্ত অবস্থান তৈরি করে দিয়েছে।

বিশেষ করে চীন থেকে সংগৃহীত হয়েছে ১৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা এই সিনেমার আন্তর্জাতিক আয় তালিকার শীর্ষে অবস্থান করে। এরপর রয়েছে ফ্রান্স ও জার্মানি। তবে আগের দুটি ‘অ্যাভাটার’ সিনেমার তুলনায় এই তৃতীয় কিস্তি কিছুটা বেশি সময় নিল বিলিয়ন ডলার আয় করতে—২০০৯ সালের প্রথম ‘অ্যাভাটার’ ১৭ দিনে এবং ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’ মাত্র ১৪ দিনে এ রেকর্ড করেছিল। স্পষ্টতই, এই ধীর গতির অগ্রগতি সত্ত্বেও ডিজনি প্রোডাকশনের জন্য এটি বড় একটি অর্জন, কারণ ২০২৫-২০২৬ সালের শুরুর সময়ের মধ্যেই এটি এই ক্লাবে প্রবেশ করল।

অর্থনৈতিকভাবে এই সিনেমার সাফল্য প্রশংসনীয় হলেও, দর্শকদের একটি বড় অংশ এই সিনেমার বিভিন্ন দিক নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। বিশেষ করে ৩ ঘণ্টা ১৭ মিনিটের দীর্ঘ সময়কাল ও দুর্বল সংলাপের জন্য অনেকেই একে ‘সময়ের অপচয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা নেতিবাচক মন্তব্য ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যের পাশাপাশি, কেউ কেউ বলছেন, এটি ছিল ‘৪০০ মিলিয়ন ডলারের পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন’। এমনকি সিনেমা চলাকালীন দর্শকদের কিছুর জন্য প্রেক্ষাগৃহ ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে শোনা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেমস ক্যামেরন ভিজ্যুয়াল ইফেক্টে যতটা মনোযোগ দিয়েছেন, গল্পের নির্মাণে ততটা নজর দিতে পারেননি।

জেমস ক্যামেরনের এই ঐতিহাসিক ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম সিনেমা ‘অ্যাভাটার’ (২০০৯) বিশ্ব অর্থনীতিতে অপ্রতিরোধ্য ২.৯ বিলিয়ন ডলার আয় করে ইতিহাস গড়ে; দ্বিতীয় কিস্তি ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’ (২০১২) আয় করে ২.৩ বিলিয়ন ডলার। এখন দেখার বিষয়, এই তৃতীয় কিস্তি ২ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পার করতে পারে কি না। সিনেমাটির রিলিজ এখনো চলমান, এবং সামনের সপ্তাহগুলোতে এর বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ স্পষ্ট হয়ে উঠবে। প্রযুক্তি ও দর্শকদের আবেগের লড়াইয়ে এই সিনেমার ভবিষ্যৎ আজও ঝুলে আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

সমালোচনার মুখেও বক্স অফিসে দাপট: অ্যাভাটার থ্রি ব্যবসায়িক সফলতা ধরে রাখল

প্রকাশিতঃ ১১:৫৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

জেমস ক্যামেরনের বহুল প্রত্যাশিত ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’ সিনেমা দর্শকদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া থাকলেও বক্স অফিসে এর দাপট অপরিবর্তিত রয়ে গেছে। গল্প ও চিত্রনাট্য নিয়ে সমালোচনা, অগোছালো প্লটের অভিযোগ থাকলেও, এই ছবি মাত্র ১৮ দিনের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ১ বিলিয়ন ডলার বা ১০০ কোটি ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। আন্তর্জাতিক বিনোদন সংবাদমাধ্যম ভ্যারিয়েটির প্রতিবেদনে জানানো হয়, এর মোট আয় এখন ₹১০৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার। এর মধ্যে মার্কিন অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে আয় হয়েছে ৩০ কোটি ৬০ লাখ ডলার এবং আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ৭৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এই বিশাল অঙ্কের ব্যবসায়িক সফলতা সিনেমাটির জন্য ২০২৬ সালের শুরুতেই এক শক্ত অবস্থান তৈরি করে দিয়েছে।

বিশেষ করে চীন থেকে সংগৃহীত হয়েছে ১৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা এই সিনেমার আন্তর্জাতিক আয় তালিকার শীর্ষে অবস্থান করে। এরপর রয়েছে ফ্রান্স ও জার্মানি। তবে আগের দুটি ‘অ্যাভাটার’ সিনেমার তুলনায় এই তৃতীয় কিস্তি কিছুটা বেশি সময় নিল বিলিয়ন ডলার আয় করতে—২০০৯ সালের প্রথম ‘অ্যাভাটার’ ১৭ দিনে এবং ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’ মাত্র ১৪ দিনে এ রেকর্ড করেছিল। স্পষ্টতই, এই ধীর গতির অগ্রগতি সত্ত্বেও ডিজনি প্রোডাকশনের জন্য এটি বড় একটি অর্জন, কারণ ২০২৫-২০২৬ সালের শুরুর সময়ের মধ্যেই এটি এই ক্লাবে প্রবেশ করল।

অর্থনৈতিকভাবে এই সিনেমার সাফল্য প্রশংসনীয় হলেও, দর্শকদের একটি বড় অংশ এই সিনেমার বিভিন্ন দিক নিয়ে সন্তুষ্ট নয়। বিশেষ করে ৩ ঘণ্টা ১৭ মিনিটের দীর্ঘ সময়কাল ও দুর্বল সংলাপের জন্য অনেকেই একে ‘সময়ের অপচয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা নেতিবাচক মন্তব্য ও ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যের পাশাপাশি, কেউ কেউ বলছেন, এটি ছিল ‘৪০০ মিলিয়ন ডলারের পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন’। এমনকি সিনেমা চলাকালীন দর্শকদের কিছুর জন্য প্রেক্ষাগৃহ ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে শোনা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেমস ক্যামেরন ভিজ্যুয়াল ইফেক্টে যতটা মনোযোগ দিয়েছেন, গল্পের নির্মাণে ততটা নজর দিতে পারেননি।

জেমস ক্যামেরনের এই ঐতিহাসিক ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম সিনেমা ‘অ্যাভাটার’ (২০০৯) বিশ্ব অর্থনীতিতে অপ্রতিরোধ্য ২.৯ বিলিয়ন ডলার আয় করে ইতিহাস গড়ে; দ্বিতীয় কিস্তি ‘অ্যাভাটার: দ্য ওয়ে অব ওয়াটার’ (২০১২) আয় করে ২.৩ বিলিয়ন ডলার। এখন দেখার বিষয়, এই তৃতীয় কিস্তি ২ বিলিয়ন ডলারের গণ্ডি পার করতে পারে কি না। সিনেমাটির রিলিজ এখনো চলমান, এবং সামনের সপ্তাহগুলোতে এর বাণিজ্যিক ভবিষ্যৎ স্পষ্ট হয়ে উঠবে। প্রযুক্তি ও দর্শকদের আবেগের লড়াইয়ে এই সিনেমার ভবিষ্যৎ আজও ঝুলে আছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।