০৮:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ মার্চ ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
২৩ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ: বাংলাদেশের অর্থনীতি ঝুঁকিতে নূরুল ইসলাম মনি ত্রয়োদশ সংসদের চীফ হুইপ নিযুক্ত ডুবোচর ও বর্জ্যে ইলিশহীন পায়রা, সংকটে ১৪,৬৮৯ জেলে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা: এজাহারভুক্ত আরও এক আসামি গ্রেফতার মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আটকা পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

‘বিপ্লবের বিজয় আসন্ন’: ইরানি জনগণের পাশে স্বদেশে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পাহলভি

ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই দেশটির নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে বিক্ষোভকারীদের প্রতি কঠোর আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার তিনি এক বিশেষ বার্তায় জানিয়েছেন, আসন্ন দুই রাতে বড় বড় শহরের কেন্দ্রীয় এলাকাগুলো দখল করে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। তিনি পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও পরিবহন খাতের শ্রমিকদের উপর দেশের মধ্যে সর্বাত্মক ধর্মঘটের আহ্বান জানিয়েছেন, যা আন্দোলনের ধারাকে আরও জোরদার করবে। পাহলভি বিশ্বাস করেন, যদি এই চলমান সরকারের অর্থনৈতিক ভিত্তি ভেঙে দেওয়া যায়, তবে সরকারের দমন-পীড়নের সক্ষমতা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে। তিনি জানান, তিনি নিজেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইরানে ফিরে যাওয়ার জন্য, যা মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে এক নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ ও পরিবর্তনের সূচনাকে নির্দেশ করে।

বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বার্তায় রেজা পাহলভি তাঁদের সাহস ও অদম্য দৃঢ়তার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার লাখো মানুষ তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাস্তায় নেমে যারা ঐক্যপ্রদর্শন করেছে, তা বর্তমান সরকারের ভিত্তি নাড়িয়ে দিয়েছে এবং তাঁদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো বিশ্ববাসীর কাছে প্রকাশ করে দিয়েছে। আন্দোলনের পরবর্তী ধাপে তিনি পরামর্শ দেন, কেবল প্রতীকী প্রতিবাদ নয়, বরং সংক্ষিপ্ত লক্ষ্য নির্ধারণ করে কার্যকর আন্দোলন চালানো প্রয়োজন। এর মধ্যে মূল দাবি হলো শহর কেন্দ্রীয় এলাকা দখল করে দীর্ঘ সময়ে অবস্থান করা। তাই তিনি বিক্ষোভকারীদের নির্দেশ দেন, নগর কেন্দ্রের দিকে বিভিন্ন থেকে একযোগে অগ্রসর হয় এবং আলাদা আলাদা মিছিলগুলোকে এক করে থিতু হয়ে বৃহত্তর জনসমুদ্রে রূপান্তর করুন।

প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী আগেভাগে সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছেন পাহলভি। এছাড়া তিনি সতর্ক করেছেন, দেশের নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র ইউনিটের কিছু সদস্য যারা পরোক্ষভাবে আন্দোলনকারীদের সমর্থন করছেন, তাঁদের সাবধান করে দিলেন। তিনি অনুরোধ করেন, তাঁরা যেন সরকারের দমনমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তা বন্ধ করেন অথবা এই কার্যক্রম ব্যাহত করেন, যাতে এই সরকারের দমনচক্র দুর্বল হয়ে পড়ে। পাহলভি মনে করেন, জনগণের একসাথে আন্দোলন শক্তিশালী হয় এবং এই শক্তির মুখে কোনো স্বৈরাচারী শাসন বেশি দিন টিকে থাকতে পারে না। বর্তমানে ইরান সেই সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন।

সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হলো, রেজা পাহলভি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই দেশের মধ্যে ফিরে এসে জনগণের পাশে থাকবেন। তিনি এই আন্দোলনকে ‘জাতীয় বিপ্লবের জয়’ বলছেন এবং বলেছেন, খুব শীঘ্রই ইরান নতুন এক সূর্যোদয় দেখবে। ঐতিহাসিক ওই মুহূর্তে তিনি জনগণের সঙ্গে রাজপথে অবস্থান করতে চান। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা আন্দোলনকারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাহলভির এই প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সংগ্রামকে আরও জটিল ও সংঘাতপূর্ণ করে তুলতে পারে। এখন পুরো বিশ্বের দৃষ্টি তেহরানের রাস্তাগুলোর দিকে, যেখানে সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং আশার আলো দেখছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

২৩ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

‘বিপ্লবের বিজয় আসন্ন’: ইরানি জনগণের পাশে স্বদেশে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন পাহলভি

প্রকাশিতঃ ১১:৫৬:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

ইরানের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই দেশটির নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি এক গুরুত্বপূর্ণ ভাষণে বিক্ষোভকারীদের প্রতি কঠোর আহ্বান জানিয়েছেন। শনিবার তিনি এক বিশেষ বার্তায় জানিয়েছেন, আসন্ন দুই রাতে বড় বড় শহরের কেন্দ্রীয় এলাকাগুলো দখল করে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। তিনি পাশাপাশি দেশের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও পরিবহন খাতের শ্রমিকদের উপর দেশের মধ্যে সর্বাত্মক ধর্মঘটের আহ্বান জানিয়েছেন, যা আন্দোলনের ধারাকে আরও জোরদার করবে। পাহলভি বিশ্বাস করেন, যদি এই চলমান সরকারের অর্থনৈতিক ভিত্তি ভেঙে দেওয়া যায়, তবে সরকারের দমন-পীড়নের সক্ষমতা চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে যাবে। তিনি জানান, তিনি নিজেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিচ্ছেন ইরানে ফিরে যাওয়ার জন্য, যা মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটিতে এক নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণ ও পরিবর্তনের সূচনাকে নির্দেশ করে।

বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বার্তায় রেজা পাহলভি তাঁদের সাহস ও অদম্য দৃঢ়তার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার লাখো মানুষ তাঁর আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাস্তায় নেমে যারা ঐক্যপ্রদর্শন করেছে, তা বর্তমান সরকারের ভিত্তি নাড়িয়ে দিয়েছে এবং তাঁদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো বিশ্ববাসীর কাছে প্রকাশ করে দিয়েছে। আন্দোলনের পরবর্তী ধাপে তিনি পরামর্শ দেন, কেবল প্রতীকী প্রতিবাদ নয়, বরং সংক্ষিপ্ত লক্ষ্য নির্ধারণ করে কার্যকর আন্দোলন চালানো প্রয়োজন। এর মধ্যে মূল দাবি হলো শহর কেন্দ্রীয় এলাকা দখল করে দীর্ঘ সময়ে অবস্থান করা। তাই তিনি বিক্ষোভকারীদের নির্দেশ দেন, নগর কেন্দ্রের দিকে বিভিন্ন থেকে একযোগে অগ্রসর হয় এবং আলাদা আলাদা মিছিলগুলোকে এক করে থিতু হয়ে বৃহত্তর জনসমুদ্রে রূপান্তর করুন।

প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় খাবার ও অন্যান্য সামগ্রী আগেভাগে সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছেন পাহলভি। এছাড়া তিনি সতর্ক করেছেন, দেশের নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র ইউনিটের কিছু সদস্য যারা পরোক্ষভাবে আন্দোলনকারীদের সমর্থন করছেন, তাঁদের সাবধান করে দিলেন। তিনি অনুরোধ করেন, তাঁরা যেন সরকারের দমনমূলক কর্মকাণ্ডে সহায়তা বন্ধ করেন অথবা এই কার্যক্রম ব্যাহত করেন, যাতে এই সরকারের দমনচক্র দুর্বল হয়ে পড়ে। পাহলভি মনে করেন, জনগণের একসাথে আন্দোলন শক্তিশালী হয় এবং এই শক্তির মুখে কোনো স্বৈরাচারী শাসন বেশি দিন টিকে থাকতে পারে না। বর্তমানে ইরান সেই সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেছেন।

সবচেয়ে বেশি আলোচিত বিষয় হলো, রেজা পাহলভি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, তিনি শিগগিরই দেশের মধ্যে ফিরে এসে জনগণের পাশে থাকবেন। তিনি এই আন্দোলনকে ‘জাতীয় বিপ্লবের জয়’ বলছেন এবং বলেছেন, খুব শীঘ্রই ইরান নতুন এক সূর্যোদয় দেখবে। ঐতিহাসিক ওই মুহূর্তে তিনি জনগণের সঙ্গে রাজপথে অবস্থান করতে চান। তাঁর এই প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা আন্দোলনকারীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে এবং আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাহলভির এই প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সংগ্রামকে আরও জটিল ও সংঘাতপূর্ণ করে তুলতে পারে। এখন পুরো বিশ্বের দৃষ্টি তেহরানের রাস্তাগুলোর দিকে, যেখানে সাধারণ মানুষ পরিবর্তনের জন্য লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এবং আশার আলো দেখছে।