০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় পৌঁছেছেন স্মারণ ও বিশ্লেষণে দাবি: নির্বাচন পরিকল্পনায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন মатарবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকা- ৯ ঘণ্টা চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে দ্বিগুণেরও বেশি বাজেটে সংশোধিত এডিপি অনুমোদন সংস্কারের নামে পুরোনো আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের পুনর্বাসন: টিআইবির অভিযোগ

সরকারি ছুটির দিনে বাণিজ্য মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যায় বৃদ্ধি

শীতের তীব্রতা কমার ফলে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সরকারি ছুটির দিন দিয়ে বাণিজ্য মেলার atmosphere আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। শীতের দাপট কেটে যাওয়ায় সকাল থেকেই ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেড়ে গেছে, যা ব্যবসায়ীদের মুখে ফুটে উঠেছে সফলতার হাসি। তারা আনন্দের সাথে বলছেন, দিন দিন আসা-যাওয়া ও কেনাকাটার পরিমাণ বাড়ছে।

নরসিংদীর শিবপুর থেকে আসা আবু হানিফ মিয়া বলেন, প্রথম দিন থেকেই এই মেলায় আসার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু শীতের ঘন কুয়াশা ও ব্যস্ততার কারণে আসতে পারেননি। তবে আজ আকাশে সূর্য ওঠায় তিনি সপরিবারে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

আরেক দর্শনার্থী নারগিস সুলতানা জানান, আজ সূর্য উঠায় মেলায় আসা তার জন্য আনন্দের বিষয়। রোদের আলোয় মেলা যেন আরও ঝলমলে লাগছে। তিনি পছন্দের জিনিস দেখার পর দিনভর কেনাকাটা করবেন বলে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বাচ্চাদের জন্য ভ্রমণের উত্তেজনা আর সূর্য্যের দেখা মিলায়া, গত তিন দিন ধরে কম থাকলেও আজ থেকে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। রৌদ্রের উপস্থিতি ও বৃষ্টির কমে যাওয়ার ফলে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমে গেছে। ফলে ক্রেতাদের আগ্রহ ও উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন যেমন বসে ছিল না তেমন, চতুর্থ দিনে সকাল থেকে দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। ঢাকার পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিসিএফসি) ৩০তম বাণিজ্য মেলা শুরু হয়েছে ৩ জানুয়ারি। সকাল ১০টার পর গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীর ভিড় বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। প্রথমে বেশির ভাগ মানুষ মূলত স্টল ঘুরে দেখার জন্য আসছেন, তবে আসবে চির পরিচিত কেনাকাটার জন্য কিছুটা সময় লাগবে বলে জানায় দর্শনার্থীরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দিন যত গড়াচ্ছে, ক্রেতা ও দর্শনার্থীর আগমন তত বাড়ছে। তবে পুরো মেলা জমে উঠতে আরও কয়েক দিন লাগবে, কারণ এখনও অনেক স্টলে সাজসজ্জার কাজ চলছে।

প্রবেশের জন্য টিকিট প্রদানকারী ‘ডিজি ইনফোটেক লিমিটেড’ের হেড অফ অপারেশন বলেন, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে প্রথম দিকে মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। তবে শনিবার থেকে পরিস্থিতি অন্যরকম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন—যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত, আইনশৃঙ্খলার তৎপরতা এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা থাকায় এবারের মেলা হবে আরও প্রাণবন্ত। ইতোমধ্যে, নিরাপত্তার জন্য সাত শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বেশ কিছু ভ্রাম্যমান আদালতও কার্যক্রম চালাচ্ছে। গেট ইজারাদার ও স্বেচ্ছাসেবক দল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনে সমন্বয় করে কাজ করছে।

আমিরা বিডি ডট কমের ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম জানান, শৈত্যপ্রবাহের কারণে কয়েক দিন মেলায় মানুষের উপস্থিতি কম ছিল। তবে আজ সূর্যের হাসি ও তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ায় মেলা প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছে। অফিস, স্কুল এবং কলেজের ছুটি থাকায় আজকের দিনটি বিশেষভাবে সরব।

মেলার ইজারাদার ডিজি ইনফোটেকের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট ডিরেক্টর মারুফুল আলম বলেন, সাধারণত প্রথম দিকে ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যা কম হয়, তবে আজ তার ব্যতিক্রম। তীব্র কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহ হঠাৎ কমে যাওয়ায় মানুষজন এখন মেলায় প্রবেশ করছে। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। এখন পর্যন্ত, বিকেল ৩টার মধ্যে ৩০,৫৪৪ জন দর্শনার্থী টিকিট কেটে মেলায় প্রবেশ করেছেন, এবং সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

সরকারি ছুটির দিনে বাণিজ্য মেলায় ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যায় বৃদ্ধি

প্রকাশিতঃ ১১:৫০:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

শীতের তীব্রতা কমার ফলে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সরকারি ছুটির দিন দিয়ে বাণিজ্য মেলার atmosphere আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। শীতের দাপট কেটে যাওয়ায় সকাল থেকেই ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের সংখ্যা বেড়ে গেছে, যা ব্যবসায়ীদের মুখে ফুটে উঠেছে সফলতার হাসি। তারা আনন্দের সাথে বলছেন, দিন দিন আসা-যাওয়া ও কেনাকাটার পরিমাণ বাড়ছে।

নরসিংদীর শিবপুর থেকে আসা আবু হানিফ মিয়া বলেন, প্রথম দিন থেকেই এই মেলায় আসার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু শীতের ঘন কুয়াশা ও ব্যস্ততার কারণে আসতে পারেননি। তবে আজ আকাশে সূর্য ওঠায় তিনি সপরিবারে আসার সিদ্ধান্ত নেন।

আরেক দর্শনার্থী নারগিস সুলতানা জানান, আজ সূর্য উঠায় মেলায় আসা তার জন্য আনন্দের বিষয়। রোদের আলোয় মেলা যেন আরও ঝলমলে লাগছে। তিনি পছন্দের জিনিস দেখার পর দিনভর কেনাকাটা করবেন বলে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বাচ্চাদের জন্য ভ্রমণের উত্তেজনা আর সূর্য্যের দেখা মিলায়া, গত তিন দিন ধরে কম থাকলেও আজ থেকে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে। রৌদ্রের উপস্থিতি ও বৃষ্টির কমে যাওয়ার ফলে শীতের তীব্রতা কিছুটা কমে গেছে। ফলে ক্রেতাদের আগ্রহ ও উপস্থিতি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিন যেমন বসে ছিল না তেমন, চতুর্থ দিনে সকাল থেকে দর্শনার্থীদের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। ঢাকার পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বিসিএফসি) ৩০তম বাণিজ্য মেলা শুরু হয়েছে ৩ জানুয়ারি। সকাল ১০টার পর গেট খোলার সঙ্গে সঙ্গে মেলা প্রাঙ্গণে দর্শনার্থীর ভিড় বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। প্রথমে বেশির ভাগ মানুষ মূলত স্টল ঘুরে দেখার জন্য আসছেন, তবে আসবে চির পরিচিত কেনাকাটার জন্য কিছুটা সময় লাগবে বলে জানায় দর্শনার্থীরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, দিন যত গড়াচ্ছে, ক্রেতা ও দর্শনার্থীর আগমন তত বাড়ছে। তবে পুরো মেলা জমে উঠতে আরও কয়েক দিন লাগবে, কারণ এখনও অনেক স্টলে সাজসজ্জার কাজ চলছে।

প্রবেশের জন্য টিকিট প্রদানকারী ‘ডিজি ইনফোটেক লিমিটেড’ের হেড অফ অপারেশন বলেন, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে প্রথম দিকে মানুষের উপস্থিতি তুলনামূলক কম ছিল। তবে শনিবার থেকে পরিস্থিতি অন্যরকম হবে বলে আশা প্রকাশ করেন—যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত, আইনশৃঙ্খলার তৎপরতা এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা থাকায় এবারের মেলা হবে আরও প্রাণবন্ত। ইতোমধ্যে, নিরাপত্তার জন্য সাত শতাধিক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বেশ কিছু ভ্রাম্যমান আদালতও কার্যক্রম চালাচ্ছে। গেট ইজারাদার ও স্বেচ্ছাসেবক দল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব পালনে সমন্বয় করে কাজ করছে।

আমিরা বিডি ডট কমের ম্যানেজার জাহিদুল ইসলাম জানান, শৈত্যপ্রবাহের কারণে কয়েক দিন মেলায় মানুষের উপস্থিতি কম ছিল। তবে আজ সূর্যের হাসি ও তাপমাত্রা কিছুটা বাড়ায় মেলা প্রাণচঞ্চল হয়ে উঠেছে। অফিস, স্কুল এবং কলেজের ছুটি থাকায় আজকের দিনটি বিশেষভাবে সরব।

মেলার ইজারাদার ডিজি ইনফোটেকের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রজেক্ট ডিরেক্টর মারুফুল আলম বলেন, সাধারণত প্রথম দিকে ক্রেতা-দর্শনার্থীর সংখ্যা কম হয়, তবে আজ তার ব্যতিক্রম। তীব্র কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহ হঠাৎ কমে যাওয়ায় মানুষজন এখন মেলায় প্রবেশ করছে। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিতি আরও বাড়বে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। এখন পর্যন্ত, বিকেল ৩টার মধ্যে ৩০,৫৪৪ জন দর্শনার্থী টিকিট কেটে মেলায় প্রবেশ করেছেন, এবং সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেন।