০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ঢাকায় পৌঁছেছেন স্মারণ ও বিশ্লেষণে দাবি: নির্বাচন পরিকল্পনায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অর্থায়ন মатарবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকা- ৯ ঘণ্টা চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে দ্বিগুণেরও বেশি বাজেটে সংশোধিত এডিপি অনুমোদন সংস্কারের নামে পুরোনো আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের পুনর্বাসন: টিআইবির অভিযোগ

থালাপতি বিজয়কে ৭ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ সিবিআইয়ের

তামিলনাড়ুর করুর জেলায় গত বছর ঘটে যাওয়া ভয়াবহ পদদলিতকাণ্ডের তদন্তের অংশ হিসেবে এবার সরাসরি মুখোমুখি হন দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা ও সমাজসেবক থালাপতি বিজয়। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিল্লির সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) সদর দপ্তরে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রায় সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি এক বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে চেন্নাই থেকে দিল্লি পৌঁছেন, তারপর প্রয়োজনীয় তদন্তকালীন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দলের সামনে উপস্থিত হন। বিকেলের দিকে, সোয়া ৬টার পরে তিনি সিবিআই দপ্তর ত্যাগ করেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, রাজনৈতিক সমাবেশে ব্যাপক জনসমাগমের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না পারা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য বিজয়কে প্রশ্ন করা হয়। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রধান সূত্র জানায়, প্রাথমিক তদন্তের প্রক্রিয়ায় তাঁকে আরও কিছু বিষয়ে স্পষ্টতা চাওয়া হতে পারে। যদিও তাঁকে পুনরায় প্রশ্নের জন্য আগামী মঙ্গলবার হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও, অন্য এক সুবিধাজনক তারিখে পুষ্টির জন্য তিনি আবেদন করেছেন, কারণ তিনি আসন্ন পঙ্গল উৎসবের কথা উল্লেখ করেন। সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, মামলার কিছু দিক এখনও অজানা রয়ে গেছে, যা প্রমাণের জন্য বিজয় নিজ বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর তামিলনাড়ুর করুরে এক বিশাল রাজনৈতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অতিরিক্ত জনসমাগমের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সেই ঘটনাস্থলে ভয়াবহ পদদলনের ফলে ৪১ জন মানুষ প্রাণ হারান এবং অন্তত ৬০ জন গুরুতর আহত হন। এই ট্র্যাজেডির পর সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং পুলিশ সুপারদের ব্যাখ্যা এবং কর্মকর্তাদের বক্তব্যে জনআস্থা ক্ষুণ্ণ হয়। এরপর, ২৬ অক্টোবর শীর্ষ আদালত এই মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেয়, যাতে ঘটনার বাস্তবতা উদঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের দিন সিবিআই কার্যালয়ের বাইরে হাজারো বিজয় সমর্থক ও দলীয় নেতাকর্মী ভিড় জমায়। প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখতে আসা এই সমর্থকদের সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। এমন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে, যেখানে রাজনৈতিক ও আইনি অচলায়তন তৈরি হয়েছে, এই ঘটনা দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক ও বিনোদন জগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিজয়ের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তদন্তে তারা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করবেন। এখন দেখার বিষয়, সিবিআই কি এই তদন্তে সত্যিকার দায় কার উপর চাপিয়ে দেয় এবং এর সঙ্গে বিজয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কেমন প্রভাব ফেলে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নাগরিকদের অবিলম্বে ইরান ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

থালাপতি বিজয়কে ৭ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ সিবিআইয়ের

প্রকাশিতঃ ১১:৫৫:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

তামিলনাড়ুর করুর জেলায় গত বছর ঘটে যাওয়া ভয়াবহ পদদলিতকাণ্ডের তদন্তের অংশ হিসেবে এবার সরাসরি মুখোমুখি হন দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় অভিনেতা ও সমাজসেবক থালাপতি বিজয়। সোমবার (১২ জানুয়ারি) দিল্লির সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) সদর দপ্তরে তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রায় সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে তিনি এক বিশেষ চার্টার্ড ফ্লাইটে চেন্নাই থেকে দিল্লি পৌঁছেন, তারপর প্রয়োজনীয় তদন্তকালীন আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দলের সামনে উপস্থিত হন। বিকেলের দিকে, সোয়া ৬টার পরে তিনি সিবিআই দপ্তর ত্যাগ করেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, রাজনৈতিক সমাবেশে ব্যাপক জনসমাগমের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না পারা এবং প্রশাসনিক দুর্বলতার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য বিজয়কে প্রশ্ন করা হয়। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের প্রধান সূত্র জানায়, প্রাথমিক তদন্তের প্রক্রিয়ায় তাঁকে আরও কিছু বিষয়ে স্পষ্টতা চাওয়া হতে পারে। যদিও তাঁকে পুনরায় প্রশ্নের জন্য আগামী মঙ্গলবার হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলেও, অন্য এক সুবিধাজনক তারিখে পুষ্টির জন্য তিনি আবেদন করেছেন, কারণ তিনি আসন্ন পঙ্গল উৎসবের কথা উল্লেখ করেন। সিবিআই সূত্রে জানা গেছে, মামলার কিছু দিক এখনও অজানা রয়ে গেছে, যা প্রমাণের জন্য বিজয় নিজ বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর তামিলনাড়ুর করুরে এক বিশাল রাজনৈতিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অতিরিক্ত জনসমাগমের কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সেই ঘটনাস্থলে ভয়াবহ পদদলনের ফলে ৪১ জন মানুষ প্রাণ হারান এবং অন্তত ৬০ জন গুরুতর আহত হন। এই ট্র্যাজেডির পর সাধারণ মানুষের মধ্যে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে এবং পুলিশ সুপারদের ব্যাখ্যা এবং কর্মকর্তাদের বক্তব্যে জনআস্থা ক্ষুণ্ণ হয়। এরপর, ২৬ অক্টোবর শীর্ষ আদালত এই মামলার তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেয়, যাতে ঘটনার বাস্তবতা উদঘাটন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের দিন সিবিআই কার্যালয়ের বাইরে হাজারো বিজয় সমর্থক ও দলীয় নেতাকর্মী ভিড় জমায়। প্রিয় নেতাকে এক নজর দেখতে আসা এই সমর্থকদের সামলাতে হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। এমন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে, যেখানে রাজনৈতিক ও আইনি অচলায়তন তৈরি হয়েছে, এই ঘটনা দক্ষিণ ভারতের রাজনৈতিক ও বিনোদন জগতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বিজয়ের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, তদন্তে তারা সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবেন এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করবেন। এখন দেখার বিষয়, সিবিআই কি এই তদন্তে সত্যিকার দায় কার উপর চাপিয়ে দেয় এবং এর সঙ্গে বিজয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কেমন প্রভাব ফেলে।