০৯:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের আশার আলো

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১২টি আসন জয় করে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরছে, যেখানে তারেক রহমান প্রাথমিকভাবে নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। এই বিজয়কে নেতা-কর্মীরা এক নতুন দিগন্তের সূচনা হিসেবে দেখছেন, যা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন আনার আশা তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই জয়মাত্র রাজনৈতিক পরিবর্তনই নয়, বরং এটি আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির নতুন সুর পেতে পারে। ভারত, পাকিস্তান ও চীনসহ বড় বড় শক্তিগুলোর মধ্যে সূচনালগ্নে নতুন একটি অধ্যায়ের সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। খবর আল জাজিরার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এই ফলাফলের মাধ্যমে শেখ হাসিনা যুগের অবসান ঘটতে যাচ্ছে এবং ঢাকার পররাষ্ট্রনীতিতে সম্পূর্ণ নতুন দিক নির্দেশনা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে শাসক দলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিলে এই সম্পর্কের ভারসাম্য কিছুটা নড়ে যান। এরপর ভারত দ্রুতই পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত কিছু কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়, যেমন এই বছরের শুরুর দিকে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেন, যা ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ дипломатিক বার্তা। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে ভারতে সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের পুনরুদ্ধার হবে, তবে ক্লাসিকের মতো অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা ঘটবে না। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা যেমন তিস্তার পানি বণ্টন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এবং বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি রয়ে গেছে, যেগুলো সম্পর্কের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন সর্ম্পকের চিত্র ভিন্ন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হয়েছে এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজতর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই পদক্ষেপগুলো আরও গতি পাবে। পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব সালমান বশিরের ভাষায়, এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভারতের প্রতি দীর্ঘ দিন ধরে থাকার পারস্পরিক দ্বন্দ্বের অবসান ঘটেছে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তান বাংলাদেশের জন্য জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান বিক্রির আগ্রহ দেখিয়েছে, যা দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের উন্নতির সুচক। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান চীনসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে আরও কাছাকাছি আসার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

চীন সম্পর্কেও নতুন সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। এক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও অবকাঠামোর উন্নয়নে চীনের অবদান গুরুত্বপূর্ণ হবে। এর আগে, হাসিনার আমলে চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের আওতায় বড় ধরনের বিনিয়োগ হয়েছে। চীনের দূতাবাস সম্প্রতি বিএনপি’কে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছে, তারা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে প্রস্তুত। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি চাইলে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে পারে, যা পূর্ববর্তী সরকারের সময় দেখা গিয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি ও সমালোচনাও থাকতে পারে, কারণ চীনের উপস্থিতি এই অঞ্চলে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সাম্প্রতিক এই ফলাফলের ফলে ঢাকার সামান্য ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। বিএনপির নেতা তারেক রহমান যখন ক্ষমতা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন তিনি বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে বৃহৎ ক্ষমতার প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছেন। তারা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ অর্থাৎ দেশের স্বার্থকে সর্বোপরি রাখার নীতিতে জোর দিচ্ছেন, যেখানে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের ফল দক্ষিণ এশিয়াকে নতুনভাবে গুছিয়ে নেওয়ার এক সুযোগ দিয়েছে, যা এখন আর কারো জন্য ‘আউটসাইডার’ বা পরের বিষয় হয়ে থাকবে না। ঢাকা সম্ভবত ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে ও চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব 확대 করতে সচেষ্ট থাকবে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে নজর দেবে। এই পরিবর্তনগুলো আঞ্চলিক Stability ও শান্তির জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের আশার আলো

প্রকাশিতঃ ১১:৫৯:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১২টি আসন জয় করে বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরছে, যেখানে তারেক রহমান প্রাথমিকভাবে নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। এই বিজয়কে নেতা-কর্মীরা এক নতুন দিগন্তের সূচনা হিসেবে দেখছেন, যা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন আনার আশা তৈরি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই জয়মাত্র রাজনৈতিক পরিবর্তনই নয়, বরং এটি আঞ্চলিক ভূ-রাজনীতির নতুন সুর পেতে পারে। ভারত, পাকিস্তান ও চীনসহ বড় বড় শক্তিগুলোর মধ্যে সূচনালগ্নে নতুন একটি অধ্যায়ের সম্ভাবনা দেখছেন অনেকে। খবর আল জাজিরার প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, এই ফলাফলের মাধ্যমে শেখ হাসিনা যুগের অবসান ঘটতে যাচ্ছে এবং ঢাকার পররাষ্ট্রনীতিতে সম্পূর্ণ নতুন দিক নির্দেশনা আসার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারতের সঙ্গে শাসক দলের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। তবে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নিলে এই সম্পর্কের ভারসাম্য কিছুটা নড়ে যান। এরপর ভারত দ্রুতই পরিস্থিতি বুঝে দ্রুত কিছু কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেয়, যেমন এই বছরের শুরুর দিকে ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেন, যা ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ дипломатিক বার্তা। বিশ্লেষকরা বলছেন, ভবিষ্যতে ভারতে সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের পুনরুদ্ধার হবে, তবে ক্লাসিকের মতো অতিরিক্ত ঘনিষ্ঠতা ঘটবে না। তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা যেমন তিস্তার পানি বণ্টন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড এবং বড় ধরনের বাণিজ্য ঘাটতি রয়ে গেছে, যেগুলো সম্পর্কের জন্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে থাকছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের নতুন সর্ম্পকের চিত্র ভিন্ন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে সরাসরি বিমান চলাচল শুরু হয়েছে এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজতর করা হয়েছে বলে জানা গেছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই পদক্ষেপগুলো আরও গতি পাবে। পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব সালমান বশিরের ভাষায়, এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভারতের প্রতি দীর্ঘ দিন ধরে থাকার পারস্পরিক দ্বন্দ্বের অবসান ঘটেছে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের দ্বার উন্মোচিত হয়েছে। সম্প্রতি পাকিস্তান বাংলাদেশের জন্য জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান বিক্রির আগ্রহ দেখিয়েছে, যা দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের উন্নতির সুচক। এর পাশাপাশি, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান চীনসহ অন্যান্য দেশের সঙ্গে আরও কাছাকাছি আসার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে।

চীন সম্পর্কেও নতুন সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। এক্ষেত্রে বিনিয়োগ ও অবকাঠামোর উন্নয়নে চীনের অবদান গুরুত্বপূর্ণ হবে। এর আগে, হাসিনার আমলে চীনের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের আওতায় বড় ধরনের বিনিয়োগ হয়েছে। চীনের দূতাবাস সম্প্রতি বিএনপি’কে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছে, তারা বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের এক নতুন অধ্যায় শুরু করতে প্রস্তুত। তবে বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি চাইলে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে পারে, যা পূর্ববর্তী সরকারের সময় দেখা গিয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের আপত্তি ও সমালোচনাও থাকতে পারে, কারণ চীনের উপস্থিতি এই অঞ্চলে ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।

সাম্প্রতিক এই ফলাফলের ফলে ঢাকার সামান্য ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে। বিএনপির নেতা তারেক রহমান যখন ক্ষমতা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন তিনি বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে বৃহৎ ক্ষমতার প্রতিযোগিতার মুখোমুখি হচ্ছেন। তারা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ অর্থাৎ দেশের স্বার্থকে সর্বোপরি রাখার নীতিতে জোর দিচ্ছেন, যেখানে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নির্বাচনের ফল দক্ষিণ এশিয়াকে নতুনভাবে গুছিয়ে নেওয়ার এক সুযোগ দিয়েছে, যা এখন আর কারো জন্য ‘আউটসাইডার’ বা পরের বিষয় হয়ে থাকবে না। ঢাকা সম্ভবত ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে ও চীনের সঙ্গে বন্ধুত্ব 확대 করতে সচেষ্ট থাকবে। একই সঙ্গে, যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে নজর দেবে। এই পরিবর্তনগুলো আঞ্চলিক Stability ও শান্তির জন্য নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।