মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘর্ষের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অস্থিরতা বেড়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বাংলাদেশ সরকার এখন বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানির আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিয়েছে।
সরকার প্রধান সূত্রে জানা গেছে, পরম্পরাগত উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও কাজাখস্তান থেকে জরুরি ভিত্তিতে জ্বালানি তেল আনার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। বিষয়টি চূড়ান্ত করার জন্য গত বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার এক বিশেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের জানান, আন্তর্জাতিক সরবরাহ লাইন যে কোনো সময় বিঘ্নিত হতে পারে—তাই আগে থেকেই বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি ছিল।
মন্ত্রিসভা সম্পর্কিত ক্রয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পিটি ভুমি সিয়াক পাসাকো জাপিন থেকে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) চুক্তির মাধ্যমে ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল কেনার প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কাজাখস্তানের ‘এক্সন মবিল কাজাখস্তান’ থেকে সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে আরও ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানি করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। মালয়েশিয়া থেকেও আমদানির প্রক্রিয়া জোরালোভাবে চলছে এবং একটি জ্বালানিবাহী জাহাজ ইতিমধ্যেই চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও সাধারণ মানুষকে অতিরিক্ত আর্থিক চাপ পড়তে না দেওয়ার জন্য সরকার জ্বালানি ভর্তুকি অব্যাহত রাখবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের কাছে অন্তত এক মাসের পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদ রয়েছে—এমনটাই তিনি আশ্বস্ত করেছেন। তিনি জনগণকে অনুরোধ করেছেন আতঙ্কিত হয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে তেল সিঁটিয়ে রাখা থেকে বিরত থাকার জন্য।
প্রধানমন্ত্রী নিজে পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন এবং যদি পরিস্থিতি আরও তীব্র হয়, তাতে দ্রুত স্পট মার্কেট থেকেও জ্বালানি সংগ্রহের নির্দেশনা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা রয়েছে—জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার একটি কড়া সাশ্রয়ী কর্মসূচিও গ্রহন করেছে। এর অংশ হিসেবে অফিসের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং বিদ্যুত সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে সব শপিং মল ও বিপণিবিতান বন্ধ করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে (আগে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকত)। সরকার মনে করছে, এসব উদ্যোগ দেশের শিল্প উৎপাদন সচল রাখতে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সহায়তা করবে।
ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের এই উদ্যোগকে অর্থনীতিবিদরা সময়োপযোগী বলছেন। তারা মনে করেন, আমদানি উৎস বৈচিত্র্য করার মাধ্যমে সরবরাহ ঝুঁকি কমবে এবং শিঘ্রই পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সম্ভাবনা শক্তিশালী হবে।
সরকারের এই প্রস্তুতি ও চালিকা পদক্ষেপ সামগ্রিকভাবে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বজায় রাখার লক্ষ্যে নেওয়া হচ্ছে—যাতে শিল্প-কারখানা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত যেন সরবরাহে বিঘ্ন না ঘটে এবং মূল্যস্ফীতি প্রতিরোধ করা যায়।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























