২০২৬ সালের প্রথম তিন মাসে আন্তর্জাতিক বক্স অফিসে নাটকীয় বদল দেখা গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ব سینে জুড়ে থাকা হলিউডের একচ্ছত্র আধিপত্য এবার ঝুঁকির মুখে পড়েছে। শীর্ষ ১০ সিনেমার তালিকায় প্রায় অর্ধেক জায়গা দখল করেছে চীনা চলচ্চিত্র, আর প্রথমবারের মতো তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ভারতের বলিউড—এই সব তথ্য গত শুক্রবার পর্যন্ত সংগৃহীত পরিসংখ্যানগুলো থেকেই স্পষ্ট।
তালিকার শীর্ষে রয়েছে চীনের মান্ডারিন ভাষার ব্লকবাস্টার ‘পেগাসাস-৩’। ২৭ ফেব্রুয়ারি মুক্তির পর থেকেই এটি বক্স অফিসে রীতিমতো তাণ্ডব চালাচ্ছে; গত এক মাসে এর মোট আয় হয়েছে ৬০ কোটি ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে হলিউডের সায়েন্স ফিকশন ‘প্রজেক্ট হেইল মেরি’—রায়ান গসলিং অভিনীত এই কাহিনী ২০ মার্চ মুক্তির পর দ্রুতই ৩৩ কোটি ডলার আয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং পশ্চিমা দর্শকের সঙ্গে এশিয়াতেও ভালো সাড়া ফেলেছে।
তৃতীয় এবং চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে অ্যানিমেল অ্যাডভেঞ্চার ‘হোপারস’ (৩০ কোটি ডলার) ও ঐতিহাসিক রোম্যান্টিক ড্রামা ‘ওয়েদারিং হাইটস’ (২৩ কোটি ডলার)। পঞ্চম স্থানে আছে জনপ্রিয় হরর ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘স্ক্রিম-৭’, যার আয় ২০ কোটি ডলার।
তারপরের ধাপে মূলত চীনা চলচ্চিত্রের আধিপত্য লক্ষ্য করা যায়। ষষ্ঠ স্থানে ‘ব্লেডস অব দ্য গার্ডিয়ানস’ (১৯.৮ কোটি ডলার), সপ্তম স্থানে স্পাই-থ্রিলার ‘স্কেয়ার আউট’ (১৮.৬ কোটি ডলার) এবং অষ্টম স্থানে অ্যানিমেশন ‘গোট’ (১৮ কোটি ডলার) রয়েছে।
এবারের সবচেয়ে বড় চমক ছিল বলিউডের ‘ধুরন্ধর ২’। সাধারণত আন্তর্জাতিক শীর্ষ ১০ তালিকায় ভারতীয় সিনেমার উপস্থিতি বিরল, কিন্তু রণবীর সিং অভিনীত এই স্পাই-থ্রিলারটি ১৯ মার্চ মুক্তির পর থেকে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ১৫ কোটি ডলারের বেশি আয় করে তালিকার নবম স্থানে উঠে এসেছে। তালিকার দশম স্থানে রয়েছে চীনের অ্যানিমেশন ‘বুনি বিয়ার্স: দ্য হিডেন প্রোটেক্টর’—এর আয় ১৪ কোটি ডলার।
এই পরিসংখ্যানগুলো দেখায় যে, এখন দর্শককে টেনে আনছে ভাষা কিংবা উৎসভিত্তিক পরিচয় নয়, বরং শক্তিশালী গল্প, আধুনিক নির্মাণশৈলি ও ব্যাপক আকর্ষণ। হলিউড এখনও বড় বাজেটের কাজ করছে, তবুও এশিয়ার কাহিনি ও প্রযোজনার মান আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত গ্রাহ্য হচ্ছে। চীন ও ভারতের এই উত্থান বিশ্ব সিনেমা বাণিজ্যে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচক হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























