‘হাওয়া’–এর আকাশচুম্বী সাফল্যের পর প্রায় চার বছরের বিরতির পর নির্মাতা মেজবাউর রহমান সুমন আবারও বড় পর্দায় ফিরছেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষার শেষে ঘোষণা করা হয়েছে, তাঁর নতুন ছবিটিও—‘রইদ’—আগামী ঈদুল আজহার সময় দেশজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে দেখানো হবে। চলচ্চিত্রটি আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রশংসা কুড়ানোর পর এবার দেশীয় দর্শকদের জন্য সম্পূর্ণভাবে প্রস্তুত বলে জানান নির্মাণ টিম।
প্রথমদিকে সুমন চেয়েছিলেন ছবিটি ঈদের ভিড় এড়িয়ে একটু নিরিবিলি সময়ে মুক্তি দেবেন। তাঁর মত ছিল যে উৎসবের শোরগোল ছাড়া একটি শান্ত পরিবেশে দর্শকরা ছবির গল্প ও দৃশ্যের সূক্ষ্মতা আরও গভীরভাবে অনুভব করতে পারবেন। কিন্তু সময়সূচি ও কৌশলগত বিবেচনা এবং বিশেষ করে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের কারণে কিছটা পুনর্বিবেচনা করতে হয়েছে। বিশ্বকাপের উত্তেজনার মাঝে পরে মুক্তি দিলে প্রচারণা ও ব্যবসায়িক লক্ষ্যে ক্ষতি হতে পারে বলে তিনি সিদ্ধান্ত নেন—তাই মুক্তির সেরা মুহূর্ত হিসেবে ঈদুল আজহা বেছে নেওয়া হয়েছে।
‘রইদ’ ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের জন্য একটি গৌরবোজ্জ্বল মুহূর্ত এনে দিয়েছে। বিশ্বের মর্যাদাশীল উৎসব ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল রটারড্যামের প্রধান প্রতিযোগিতা বিভাগ ‘টাইগার কম্পিটিশন’–এ ছবিটি অফিশিয়ালি নির্বাচিত হয়ে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।
ছবির কেন্দ্রীয় ভূমিকায় দেখা যাবে মোস্তাফিজুর নূর ইমরান এবং নাজিফা তুষিকে। তাদের সঙ্গে আছে গুণী অভিনেতা গাজী রাকায়েত ও আহসাবুল ইয়ামিন রিয়াদসহ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে পারদর্শী অভিনেতা। শক্তিশালী এই অভিনয়শিল্পীদের সমন্বয় ছবিকে আরও জীবন্ত করে তুলবে বলে নির্মাণ টিমের অভিমত।
মুক্তির প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সম্প্রতি সিনেমার প্রথম গান ‘রইদে আইলা গা জুড়াইতে’ প্রকাশ করা হয়েছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুতই সাড়া ফেলে দিয়েছে। ‘সহজিয়া’ ব্যান্ডের রাজীব আহমেদ রাজু কথায় ও সুরে গানটি রচিত এবং রাশীদ শরীফ শোয়েব সংগীত পরিচালনা করেছেন। পরিচালক জানিয়েছেন, মূল শুটিং শুরু হওয়ার প্রায় এক বছর আগে থেকেই গানটির কাজ শুরু হয়—তাই তিনি এটিকে ছবির কাব্যিক সূচনা হিসেবে দেখেন।
‘হাওয়া’র জাদুকরী ছোঁয়া কাটিয়ে ‘রইদ’ নতুন এক সিনেম্যাটিক অভিজ্ঞতা দেবেই—এমন প্রত্যাশা দর্শক ও ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে। নির্মাতা ও টিম এখন দেশের দর্শকেদের জন্য ছবিটি নিয়ে পুরো প্রস্তুত।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 

























