০৫:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬, ৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ডুয়েটে উপাচার্য নিয়োগকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ১৫ দুই দিনব্যাপী সফরে ঢাকায় কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সামিখ আল মাররি সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহার জানাজায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত শাহজালালে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালু — একযোগে প্রায় ৩৭,৫০০ যাত্রী পাবেন উচ্চগতির ইন্টারনেট শাহরাস্তিতে সমাবেশে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান তিন প্রতিমন্ত্রী কর্ণফুলী ড্রাই ডক পরিদর্শনে কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করার আশ্বাস দিলেন তারেক রহমান চাঁদপুর শাহরাস্তিতে বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সমাবেশ হাম ও উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশুর মৃত্যু ঋণের জালে চিড়েচ্যাপ্টা অর্থনীতি — কর বাড়ছে জনগণের কাঁধে

টি-টোয়েন্টিতে অনন্য বিশ্বরেকর্ড: এক ম্যাচে ছয় হাফসেঞ্চুরি, ইডেনে কলকাতার জয়

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ইতিহাস রচনা করে কলকাতা নাইট রাইডার্স ও গুজরাট টাইটান্সের মধ্যকার লড়াইটি। গত শনিবার ইডেন গার্ডেনে অনুষ্ঠিত এই সফরী দ্বিপাক্ষিক ম্যাচে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে প্রথমবারের মতো এক ম্যাচে ছয়টি হাফসেঞ্চুরি দেখা গেছে — যা এখন অনন্য এক বিশ্বরেকর্ড।

কোথায় কেমন ম্যাচ ছিল তা বোঝার সহজ সূত্র: কলকাতা প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ২ উইকেট খুইয়ে ২৪৭ রান সংগ্রহ করে, জবাবে গুজরাট ২১৮ রানে থামায়। সমগ্র ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে ৪৬৫ রান উঠে — হাই-স্কোরিং এবং উচ্চ-তারঙের এক ম্যাচ। শেষপর্যন্ত কলকাতা গুজরাটকে ২৯ রানে হারিয়ে নেয়।

ব্যাটিং আক্রমণের সূচনা করে কলকাতার ব্যাটাররা। ফিন অ্যালেন মাত্র ৩৫ বল খেলে ঝড়ো ৯৩ রান করেন, অঙ্ক্রিশ রঘুবংশী ৪৪ বলের ইনিংসে ৮২ করে দলের রান বাড়ান এবং ক্যামেরন গ্রিন ২৮ বলে ৫২ রান যোগ করে ইনিংসকে আরও বিস্তৃত করে। এই তিনটি হাফসেঞ্চুরি কলকাতার বিশাল সংগ্রহ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গুজরাটের তিন ব্যাটারও ঝাঁপিয়ে পড়ে। অধিনায়ক শুভমান গিল ৪৯ বলে ৮৫, জস বাটলার ৩৫ বলে ৫৭ এবং সাই সুদর্শন ২৮ বলে ৫৩ রান করেন — তারা সবাই পঞ্চাশোর্ধ্ব পার করেন এবং ম্যাচটিকে নজরকাড়ার রূপ দেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কোনো ম্যাচে ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি না থাকতেই ছয়টি হাফসেঞ্চুরি হওয়া এতটাই বিরল যে সেটাই এই লড়াইকে ইতিহাসে আলাদা জায়গা দিয়েছে।

কিন্তু ব্যাটিং উৎসবের পাশাপাশিই বোলিংয়ে কড়া আঘাত লক্ষ্য করা গেছে। গুজরাটের বিশ্বখ্যাত লেগ-স্পিনার রশিদ খান নির্ধারিত ৪ ওভারে উইকেটশূন্য থেকে ৫৭ রান দেন — যা তাঁর আইপিএল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্পেল। অন্যদিকে ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শ করেছেন সাই সুদর্শন; মাত্র ৭৮ ইনিংসে ৩০০০ টি-টোয়েন্টি রান পূর্ণ করে তিনি দ্রুততম ব্যাটারের রেকর্ডে শোন মার্শ (৮৫ ইনিংস)কে ছাড়িয়ে গেছেন। এছাড়া শুভমান গিল অধিনায়ক হিসেবে টানা দ্বিতীয় আসরে ৫০০ রানের গণ্ডি পার করে শচীন টেন্ডুলকার ও বিরাট কোহলিদের মত কিংবদন্তিদের পাশে নিজের নাম লেখিয়েছেন।

কলকাতার এই ইনিংস ক্লাব ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের মর্যাদা পায় এবং ইনিংসে ২২টি ছয় হাঁকার মাধ্যমে আইপিএলে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছয়ের রেকর্ডও গড়ে তোলে। বিপরীত পাশে গুজরাটের ফিল্ডিং ত্রুটি চোখে পড়ে — তারা চারটি ক্যাচ মিস করে বিব্রতকর রেকর্ডের অংশীদার হয়।

টুর্নামেন্ট পর্যায়ে এ ম্যাচও বড় প্রভাব ফেলেছে: এই আসরের ৬০তম ম্যাচ হিসেবে মোট ৫২ বার দলীয়ভাবে ২০০-এর ওপরে ইনিংসের রেকর্ড স্পর্শ হয়েছে, যা ২০২৫ সালের গত আসরের সর্বোচ্চ রেকর্ডের সমান। টুর্নামেন্টে এখনও ১৪টি ম্যাচ বাকি থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইডেনের এই রুদ্ধশ্বাস লড়াই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটারদের আগ্রাসী মানসিকতার এবং বোলারদের সামনে যে চ্যালেঞ্জ দাঁড়ায় তা আবারও ফুটিয়ে তুলেছে। কলকাতার সুনীল নারিন বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচটির মোড় ঘুরিয়ে দেন এবং দলের পয়েন্ট টেবিলে অবস্থান শক্ত করেন। অন্যপিঠে, গুজরাটকে তাদের বোলিং ও ফিল্ডিং নিয়ে এখন নতুন করে ভাবতে হবে।

ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এটা ছিল শুধু একটি ম্যাচ নয়—এটি ছিল রেকর্ড, নাটক এবং ব্যাটিং মহোৎসবের এক অভাবনীয় প্রদর্শনী।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

দুই দিনব্যাপী সফরে ঢাকায় কাতারের শ্রমমন্ত্রী ড. আলী বিন সামিখ আল মাররি

টি-টোয়েন্টিতে অনন্য বিশ্বরেকর্ড: এক ম্যাচে ছয় হাফসেঞ্চুরি, ইডেনে কলকাতার জয়

প্রকাশিতঃ ০৭:২২:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ মে ২০২৬

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে ইতিহাস রচনা করে কলকাতা নাইট রাইডার্স ও গুজরাট টাইটান্সের মধ্যকার লড়াইটি। গত শনিবার ইডেন গার্ডেনে অনুষ্ঠিত এই সফরী দ্বিপাক্ষিক ম্যাচে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে প্রথমবারের মতো এক ম্যাচে ছয়টি হাফসেঞ্চুরি দেখা গেছে — যা এখন অনন্য এক বিশ্বরেকর্ড।

কোথায় কেমন ম্যাচ ছিল তা বোঝার সহজ সূত্র: কলকাতা প্রথমে ব্যাট করে মাত্র ২ উইকেট খুইয়ে ২৪৭ রান সংগ্রহ করে, জবাবে গুজরাট ২১৮ রানে থামায়। সমগ্র ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে ৪৬৫ রান উঠে — হাই-স্কোরিং এবং উচ্চ-তারঙের এক ম্যাচ। শেষপর্যন্ত কলকাতা গুজরাটকে ২৯ রানে হারিয়ে নেয়।

ব্যাটিং আক্রমণের সূচনা করে কলকাতার ব্যাটাররা। ফিন অ্যালেন মাত্র ৩৫ বল খেলে ঝড়ো ৯৩ রান করেন, অঙ্ক্রিশ রঘুবংশী ৪৪ বলের ইনিংসে ৮২ করে দলের রান বাড়ান এবং ক্যামেরন গ্রিন ২৮ বলে ৫২ রান যোগ করে ইনিংসকে আরও বিস্তৃত করে। এই তিনটি হাফসেঞ্চুরি কলকাতার বিশাল সংগ্রহ গড়তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে গুজরাটের তিন ব্যাটারও ঝাঁপিয়ে পড়ে। অধিনায়ক শুভমান গিল ৪৯ বলে ৮৫, জস বাটলার ৩৫ বলে ৫৭ এবং সাই সুদর্শন ২৮ বলে ৫৩ রান করেন — তারা সবাই পঞ্চাশোর্ধ্ব পার করেন এবং ম্যাচটিকে নজরকাড়ার রূপ দেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কোনো ম্যাচে ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি না থাকতেই ছয়টি হাফসেঞ্চুরি হওয়া এতটাই বিরল যে সেটাই এই লড়াইকে ইতিহাসে আলাদা জায়গা দিয়েছে।

কিন্তু ব্যাটিং উৎসবের পাশাপাশিই বোলিংয়ে কড়া আঘাত লক্ষ্য করা গেছে। গুজরাটের বিশ্বখ্যাত লেগ-স্পিনার রশিদ খান নির্ধারিত ৪ ওভারে উইকেটশূন্য থেকে ৫৭ রান দেন — যা তাঁর আইপিএল ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল স্পেল। অন্যদিকে ব্যক্তিগত মাইলফলক স্পর্শ করেছেন সাই সুদর্শন; মাত্র ৭৮ ইনিংসে ৩০০০ টি-টোয়েন্টি রান পূর্ণ করে তিনি দ্রুততম ব্যাটারের রেকর্ডে শোন মার্শ (৮৫ ইনিংস)কে ছাড়িয়ে গেছেন। এছাড়া শুভমান গিল অধিনায়ক হিসেবে টানা দ্বিতীয় আসরে ৫০০ রানের গণ্ডি পার করে শচীন টেন্ডুলকার ও বিরাট কোহলিদের মত কিংবদন্তিদের পাশে নিজের নাম লেখিয়েছেন।

কলকাতার এই ইনিংস ক্লাব ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের মর্যাদা পায় এবং ইনিংসে ২২টি ছয় হাঁকার মাধ্যমে আইপিএলে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছয়ের রেকর্ডও গড়ে তোলে। বিপরীত পাশে গুজরাটের ফিল্ডিং ত্রুটি চোখে পড়ে — তারা চারটি ক্যাচ মিস করে বিব্রতকর রেকর্ডের অংশীদার হয়।

টুর্নামেন্ট পর্যায়ে এ ম্যাচও বড় প্রভাব ফেলেছে: এই আসরের ৬০তম ম্যাচ হিসেবে মোট ৫২ বার দলীয়ভাবে ২০০-এর ওপরে ইনিংসের রেকর্ড স্পর্শ হয়েছে, যা ২০২৫ সালের গত আসরের সর্বোচ্চ রেকর্ডের সমান। টুর্নামেন্টে এখনও ১৪টি ম্যাচ বাকি থাকায় এই সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ইডেনের এই রুদ্ধশ্বাস লড়াই টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটারদের আগ্রাসী মানসিকতার এবং বোলারদের সামনে যে চ্যালেঞ্জ দাঁড়ায় তা আবারও ফুটিয়ে তুলেছে। কলকাতার সুনীল নারিন বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচটির মোড় ঘুরিয়ে দেন এবং দলের পয়েন্ট টেবিলে অবস্থান শক্ত করেন। অন্যপিঠে, গুজরাটকে তাদের বোলিং ও ফিল্ডিং নিয়ে এখন নতুন করে ভাবতে হবে।

ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এটা ছিল শুধু একটি ম্যাচ নয়—এটি ছিল রেকর্ড, নাটক এবং ব্যাটিং মহোৎসবের এক অভাবনীয় প্রদর্শনী।