০২:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

ক্লাসরুমে ‘ভাতের হোটেল’ ও থাকার ঘর: মৌলভীবাজারে বিদ্যালয়ের নিন্দা

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কালারাই বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক অস্বাভাবিক ও নিন্দনীয় ঘটনা ধরা পড়েছে। বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির এক কক্ষকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে সেখানে রান্নার ব্যবস্থা, খাট-বিছানা ও গৃহস্থালি সামগ্রী রাখা হয়েছে—যার ফলে সেই শ্রেণিকক্ষটি শিখনক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার অযোগ্য হয়ে উঠেছে।

বিদ্যালয়টি আগে পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের জন্য সুপরিচিত ছিল। কিন্তু কোমলমতি শিশুরা যে নিরাপদ ও উপযুক্ত শ্রেণিকক্ষে বসে পড়তে দাবী করে, তা এভাবে হোস্টেল বা ‘ভাতের হোটেল’ ও থাকার ঘরে পরিণত হলে শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। তারা বলছেন, এমন কায়দায় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ হারাচ্ছে এবং মানসিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা সরেজমিনে শ্রেণিকক্ষটি দেখে জানিয়েছেন সেখানে রান্নার সরঞ্জাম, খাট-বিছানা ও নানা গৃহস্থালি সামগ্রী রাখা রয়েছে। এই দৃশ্য স্থানীয় সচেতন মহলকে স্তম্ভিত করেছে এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থার দাবি তীব্রভাবে উঠেছে।

ঘটনার বিষয়ে যোগাযোগ করার পর বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুনমুন বনিক ঘটনাটি গ্রহণ করে বলেছেন, ‘‘যা হওয়ার হয়েছিল হয়ে গেছে। দুই-এক দিনের মধ্যে সব সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলা হবে এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।’’ যদিও তিনি বিষয়টির জন্য কেন এমন হয়েছে বা কে দায়ী তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেননি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবর জানিয়েছেন যে তিনি প্রথমবার বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তিনি বলেছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে জানান, ‘‘একটি সরকারি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা মান গ্রহণ্য নয়। বিষয়টি জানার পরপরই তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’’

অভিভাবকরা এখন প্রশাসনকে দৃশ্যমান ও দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছেন। তারা চান কেবল অস্থায়ী সরঞ্জাম সরানোই নয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে যথাযথ দায়মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিখনপরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।

এই ঘটনা সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আচার-আচরণ ও তত্ত্বাবধানে উদ্বেগের সঞ্চার করেছে। স্থানীয় নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় দ্রুত তদন্ত ও সঠিক সিদ্ধান্ত কার্যকর না হলে এখানকার শিক্ষাব্যবস্থার সুনাম ও শিশুদের ভবিষ্যৎ যাতে আর ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষাপনস্কদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি কাম্য।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

ক্লাসরুমে ‘ভাতের হোটেল’ ও থাকার ঘর: মৌলভীবাজারে বিদ্যালয়ের নিন্দা

প্রকাশিতঃ ১০:৩৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী কালারাই বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক অস্বাভাবিক ও নিন্দনীয় ঘটনা ধরা পড়েছে। বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির এক কক্ষকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে সেখানে রান্নার ব্যবস্থা, খাট-বিছানা ও গৃহস্থালি সামগ্রী রাখা হয়েছে—যার ফলে সেই শ্রেণিকক্ষটি শিখনক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার অযোগ্য হয়ে উঠেছে।

বিদ্যালয়টি আগে পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের জন্য সুপরিচিত ছিল। কিন্তু কোমলমতি শিশুরা যে নিরাপদ ও উপযুক্ত শ্রেণিকক্ষে বসে পড়তে দাবী করে, তা এভাবে হোস্টেল বা ‘ভাতের হোটেল’ ও থাকার ঘরে পরিণত হলে শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। তারা বলছেন, এমন কায়দায় শিক্ষার্থীদের মনোযোগ হারাচ্ছে এবং মানসিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকরা সরেজমিনে শ্রেণিকক্ষটি দেখে জানিয়েছেন সেখানে রান্নার সরঞ্জাম, খাট-বিছানা ও নানা গৃহস্থালি সামগ্রী রাখা রয়েছে। এই দৃশ্য স্থানীয় সচেতন মহলকে স্তম্ভিত করেছে এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থার দাবি তীব্রভাবে উঠেছে।

ঘটনার বিষয়ে যোগাযোগ করার পর বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুনমুন বনিক ঘটনাটি গ্রহণ করে বলেছেন, ‘‘যা হওয়ার হয়েছিল হয়ে গেছে। দুই-এক দিনের মধ্যে সব সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলা হবে এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।’’ যদিও তিনি বিষয়টির জন্য কেন এমন হয়েছে বা কে দায়ী তা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেননি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবর জানিয়েছেন যে তিনি প্রথমবার বিষয়টি সাংবাদিকদের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। তিনি বলেছেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান ঘটনাটিকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে জানান, ‘‘একটি সরকারি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা মান গ্রহণ্য নয়। বিষয়টি জানার পরপরই তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।’’

অভিভাবকরা এখন প্রশাসনকে দৃশ্যমান ও দ্রুত পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছেন। তারা চান কেবল অস্থায়ী সরঞ্জাম সরানোই নয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে যথাযথ দায়মোকাবিলা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপদ শিখনপরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য স্থায়ী উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।

এই ঘটনা সরকারের প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আচার-আচরণ ও তত্ত্বাবধানে উদ্বেগের সঞ্চার করেছে। স্থানীয় নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় দ্রুত তদন্ত ও সঠিক সিদ্ধান্ত কার্যকর না হলে এখানকার শিক্ষাব্যবস্থার সুনাম ও শিশুদের ভবিষ্যৎ যাতে আর ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে শিক্ষাপনস্কদের তীক্ষ্ণ দৃষ্টি কাম্য।