তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, আধুনিক যুগে উপাত্ত বা ডেটা ছাড়া যে কোনো তথ্য কেবল ব্যক্তিগত অভিমত বা ধারণাই থাকে। সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ উপাত্ত ছাড়া জনসংযোগ বা প্রচার কার্যক্রম ভীতিহীন ও অনির্ভরযোগ্য হয়ে পড়ে, তাই জনসংযোগ কর্মকর্তাদের বার্তা গঠনে নির্দিষ্ট ও অকাট্য উপাত্তের ওপর নির্ভর করার আহ্বান জানান তিনি।
রোববার (২৪ মে) সকালেই তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সময়টা নিখুঁত ডেটা বা উপাত্তের যুগ। মাঠ পর্যায়ে কী কাজ হচ্ছে এবং সরকারের বার্তা জনগণের কাছে কিভাবে পৌঁছাচ্ছে—এসব কেবল মুখে বলা কথায় বা ধারণার ওপর ভিত্তি করে নিরূপণ করা সম্ভব নয়। তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও সত্যতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে তার পেছনে অবশ্যই অকাট্য উপাত্ত থাকতে হবে। উপাত্তহীন কোনো তথ্য সমাজে সহজেই একজন ব্যক্তির মতামত হিসেবে গণ্য হবে, যার কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা বস্তুনিষ্ঠ মূল্য থাকবে না।
জনসংযোগ আধুনিকায়নের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী ‘সাইকোগ্রাফি’ ও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বিশ্লেষণের গুরুত্বে আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট বিশ্লেষণ করে সুনির্দিষ্ট উপাত্ত বের করা এখন অত্যন্ত সহজ; কোনো সংবাদ বা পোস্টে মানুষের প্রতিক্রিয়া—কতটি লাইক, ডিসলাইক বা কেমন মন্তব্য এসেছে—এই ধরনের ডেটা বিশ্লেষণ করে জনমতের নিখুঁত গ্রাফ তৈরি করা যায়।
মন্ত্রী আরও বলেন, এই বৈজ্ঞানিক উপাত্ত ব্যবহার করেই জনসংযোগ কর্মকর্তাদের পারসেপশন ম্যানেজমেন্ট করতে হবে এবং নেতিবাচক প্রচারণা মোকাবিলা করতে হবে। তিনি তথ্য ক্যাডারকে নিজেদেরকে দক্ষ ‘ডিজিটাল ফোর্স’ হিসেবে গড়ে তুলতে বললেন। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন ও সাফল্য উপাত্ত বা পরিসংখ্যানের মাধ্যমে জনগণের সামনে উপস্থাপন করলে তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়। উপাত্তভিত্তিক প্রচারণাই বিভ্রান্তি দূর করে জনমনে সঠিক ধারণা তৈরি করতে পারে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ। তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. শাহ আলম ও মো. ইয়াসীন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























