০৮:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ভারতের আপত্তিতে নেপাল থেকে বাংলাদেশへの অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি স্থগিত অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন ইতিহাস সঠিকভাবে বললে বিকৃতকারীরা হেলিকপ্টারে পালাতে বাধ্য হন: তথ্যমন্ত্রী নারী ও শিশু অধিকার রক্ষায় আইনের কার্যকর প্রয়োগ জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী নারী-শিশু অধিকার রক্ষায় আইনের যথাযথ প্রয়োগ জরুরি: সমাজকল্যাণমন্ত্রী দেশকে শিল্পসমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করতে সরকার সর্বাত্মক উদ্যোগ নেবে: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী বৃষ্টির মধ্যেও কক্সবাজারে একদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বৃষ্টি উপেক্ষা করে কক্সবাজারে একদিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ভারত রক্ষায় ঐক্যের আহ্বান দিলেন রাহুল গান্ধী

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায় বৈঠকে দেশের স্বার্থ ও সংবিধান রক্ষার জন্য সব পক্ষকে একসঙ্গে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, জোটের ভেতরে বিভেদ বজায় থাকলে মূল লক্ষ্য ব্যাহত হবে এবং তাই প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিজেপিকে হারাতে পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুড়ি বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।

প্রায় ১৫ মিনিটের বক্তব্যে কংগ্রেসের শীর্ষ এই নেতা জোটের কিছু শরিক দলের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে নিজের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে ‘‘ভোট চুরি’’-র মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে আশানুসার সহযোগিতা না পাওয়ায় হতাশা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে যারা জোটে থাকলেও নিয়মিত কংগ্রেসের সমালোচনা করেন, তাদেরকেও তীব্রভাবেজনন সমালোচনা করেন তিনি। বৈঠকের সূত্রে জানা যায়, তার আক্রোশের মূল নিশানা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ও কিছু বামপন্থী দল।

বৈঠকে ভোটার তালিকা জালিয়াতি এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন—যাকে তারা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া বলছে—সম্পর্কিত নানা অনিয়ম নিয়ে জোটের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য গড়ে উঠেছে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এই জটিল সমস্যাগুলো বিচারিক পথে দেখতে ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে একটি যৌথ স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে। রাহুল গান্ধী যুক্তি দেখিয়েছেন যে গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে বিজেপিকে পরাজিত করা অসম্ভব নয়; তাই অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটিয়ে শক্তি বাড়াতে হবে।

পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, ২০২৪ সালের লোকসভায় বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে ২৪০ আসনে থমকে গিয়েছিল—যা ২০১৯ সালের ৩০৩ আসনের চেয়ে বেশ কম। অন্যদিকে কংগ্রেস ২০১৯ সালের ৫২ আসন থেকে উঠে আসে ৯৯ আসনে। এছাড়া সরকার প্রস্তাবিত সীমান্ত পুনর্নির্ধারণ বিলটি বিরোধীরা মিলেমিশে রুখে দিয়ে ঐক্যের শক্তি দেখিয়েছিল।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও ১৭ এপ্রিল লোকসভায় ওই বিতর্কিত বিল প্রতিহত করা জোটের ঐক্যের এক বড় উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি, সামাজিক নীতি ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ঢেকে পড়া সমস্যা মোকাবিলায় এই সংহতি আরও জোরদার করা দরকার।

সাম্প্রতিক চার রাজ্যের নির্বাচনের ফলের পরেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল—যেখানে আসাম ও বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন করেছে, কেরালায় কংগ্রেস জয়ী হয়েছে এবং তামিলনাড়ুতে সুপারস্টার বিজয়ের বড় জয় ছিল। তিন বছর আগের गठবन्धনটি এখন থেকে প্রতি দুই মাস অন্তর বৈঠক করবে এবং পরবর্তী সভা আগামী আগস্টে হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠক থেকে পাঠানো স্পষ্ট বার্তাটি হলো: বেঠিক অভ্যন্তরীণ মনোমালিন্য ফেলে জোটকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে হবে, নইলে বড় রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হবে—এই কথাই উঠে আসে রাহুল গান্ধীর আবেদন ও বিপুল সতর্কবার্তায়।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

অর্থ ও আইন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন

ভারত রক্ষায় ঐক্যের আহ্বান দিলেন রাহুল গান্ধী

প্রকাশিতঃ ০২:২৪:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায় বৈঠকে দেশের স্বার্থ ও সংবিধান রক্ষার জন্য সব পক্ষকে একসঙ্গে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেন, জোটের ভেতরে বিভেদ বজায় থাকলে মূল লক্ষ্য ব্যাহত হবে এবং তাই প্রতিদ্বন্দ্বী দল বিজেপিকে হারাতে পারস্পরিক কাদা ছোঁড়াছুড়ি বন্ধ করে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।

প্রায় ১৫ মিনিটের বক্তব্যে কংগ্রেসের শীর্ষ এই নেতা জোটের কিছু শরিক দলের ভূমিকা নিয়ে প্রকাশ্যে নিজের ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে ‘‘ভোট চুরি’’-র মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে আশানুসার সহযোগিতা না পাওয়ায় হতাশা দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে যারা জোটে থাকলেও নিয়মিত কংগ্রেসের সমালোচনা করেন, তাদেরকেও তীব্রভাবেজনন সমালোচনা করেন তিনি। বৈঠকের সূত্রে জানা যায়, তার আক্রোশের মূল নিশানা ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস ও কিছু বামপন্থী দল।

বৈঠকে ভোটার তালিকা জালিয়াতি এবং বিশেষ নিবিড় সংশোধন—যাকে তারা ‘এসআইআর’ প্রক্রিয়া বলছে—সম্পর্কিত নানা অনিয়ম নিয়ে জোটের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্য গড়ে উঠেছে। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এই জটিল সমস্যাগুলো বিচারিক পথে দেখতে ভারতের প্রধান বিচারপতির কাছে একটি যৌথ স্মারকলিপি জমা দেওয়া হবে। রাহুল গান্ধী যুক্তি দেখিয়েছেন যে গত লোকসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রমাণ করে বিজেপিকে পরাজিত করা অসম্ভব নয়; তাই অভ্যন্তরীণ কোন্দল মেটিয়ে শক্তি বাড়াতে হবে।

পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি বলেছিলেন, ২০২৪ সালের লোকসভায় বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে ২৪০ আসনে থমকে গিয়েছিল—যা ২০১৯ সালের ৩০৩ আসনের চেয়ে বেশ কম। অন্যদিকে কংগ্রেস ২০১৯ সালের ৫২ আসন থেকে উঠে আসে ৯৯ আসনে। এছাড়া সরকার প্রস্তাবিত সীমান্ত পুনর্নির্ধারণ বিলটি বিরোধীরা মিলেমিশে রুখে দিয়ে ঐক্যের শক্তি দেখিয়েছিল।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেও ১৭ এপ্রিল লোকসভায় ওই বিতর্কিত বিল প্রতিহত করা জোটের ঐক্যের এক বড় উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতি, সামাজিক নীতি ও পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে ঢেকে পড়া সমস্যা মোকাবিলায় এই সংহতি আরও জোরদার করা দরকার।

সাম্প্রতিক চার রাজ্যের নির্বাচনের ফলের পরেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল—যেখানে আসাম ও বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন করেছে, কেরালায় কংগ্রেস জয়ী হয়েছে এবং তামিলনাড়ুতে সুপারস্টার বিজয়ের বড় জয় ছিল। তিন বছর আগের गठবन्धনটি এখন থেকে প্রতি দুই মাস অন্তর বৈঠক করবে এবং পরবর্তী সভা আগামী আগস্টে হায়দরাবাদে অনুষ্ঠিত হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠক থেকে পাঠানো স্পষ্ট বার্তাটি হলো: বেঠিক অভ্যন্তরীণ মনোমালিন্য ফেলে জোটকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে হবে, নইলে বড় রাজনৈতিক লক্ষ্য অর্জন করা কঠিন হবে—এই কথাই উঠে আসে রাহুল গান্ধীর আবেদন ও বিপুল সতর্কবার্তায়।