০৬:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ মে ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
রামিসা হত্যা-ধর্ষণ মামলার বিচার শুরু হচ্ছে কাল হজ পরবর্তী ফিরতি অভিযানে দেশে ফিরেছেন ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি প্রধানমন্ত্রীর সান্নিধ্যে দৃষ্টিহীন নূরজাহানের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণ হজ শেষ: দেশে ফিরেছেন ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি চালুর তিন মাসে নবনির্মিত এটিসি টাওয়ার আয় ১৯৯ কোটি ২৮ লাখ ৭৩ হাজার ৮১০ টাকা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকীতে দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করলেন তারেক রহমান জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীতে সমাধিতে তারেক রহমানের শ্রদ্ধা রাজধানীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করলেন তারেক রহমান বর্জ্য অপসারণে গাফিলতির ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত ঈদের দ্বিতীয় দিনেও ঢাকাসহ সারাদেশে চলছে পশু কোরবানি

কীভাবে ১৫৫ কেজি ওজন কমালেন আদনান সামি?

মালদ্বীপ ঘুরতে গিয়েছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ভারতীয় সংগীতশিল্পী আদনান সামি। নিজের ভেরিফাইড পেইজে প্রকাশ করেছেন পারিবারিক ট্রিপের বিভিন্ন আনন্দের মুহূর্ত। ছিপছিপে আদনান সামির ছবি দেখে নতুন করে নেটিজেনদের মধ্যে কাজ করছে বিস্ময়। যদিও এই গায়কের ওজন কমানোর গল্প বেশ পুরনোই।

সেটা ছিল ২০০৬ সালের কথা। ২২০ কেজি ওজনের আদনান ছিলেন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে! কারণ চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন বাড়তি ওজন ঝরাতে না পারলে বেঁচে থাকা কঠিনই হয়ে পড়বে এই গায়কের জন্য। এরপরই আদাজল খেয়ে ওজন ঝরানোর মিশনে নেমে পড়েন এই শিল্পী। কঠিন অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে ১৫৫ কেজি ওজনকে বিদায় জানান।

এক সময় বিরিয়ানি খেতে খুব পছন্দ করতেন আদনান। ভালোবাসতেন মাখন ও স্টেক। তবে একদিন বিশাল একটি চিজকেক, সেদ্ধ আলু ও মাখন দিয়ে স্টেক খেয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন আর না! এরপরের দিন থেকেই বদলে গেলো তার জীবন। কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে দিয়ে প্রোটিনে নির্ভরশীল হওয়া শুরু করলেন আদনান। একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শে তার ওজন ঝরানোর এই কঠিন যাত্রা শুরু হয়।

শুরুতে ব্যায়াম করতে পারতেন না এই সংগীতশিল্পী। কারণ তিনি এতোটাই মেদবহুল ছিলেন যে নিচু হতে পারতেন না কোনোভাবেই। ফলে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই তাকে ঝরাতে হয়েছিল বেশ অনেকটা ওজন। সাদা ভাত, রুটি, চিনি ও জাঙ্ক ফুড খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

আদনানের পুষ্টিবিদ জানান, ‘ইমোশোনাল ইটার’ ছিলেন আদনান। মন খারাপ থাকা কিংবা ভালো থাকার উপর নির্ভর করতো তার খাদ্যাভ্যাস। শর্করা ও চিনিজাতীয় খাবার হুট করেই প্রচুর পরিমাণে খেয়ে ফেলতেন তিনি। এরপর যদিও অনুতপ্ত হতেন ব্যাপারটা নিয়ে। এই ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য পুষ্টিবিদকে সঙ্গে নিয়েই চলতেন আদনান।

এক কাপ চিনি ছাড়া চা খেয়ে শুরু হতো আদনানের দিন। দুপুরে ১ টেবিল চামচ ফ্যাট-ফ্রি সালাদ ড্রেসিং দেওয়া সবজির সালাদ ও মাছ থাকতো মেন্যুতে। রাতের খাবারে সেদ্ধ ডাল অথবা মুরগির মাংস খেতেন। কোনও ধরনের ভাত বা রুটি থাকতো না খাদ্য তালিকায়। সন্ধ্যায় খেতেন ঘরে তৈরি পপকর্ন, যেখানে থাকতো না মাখন ও লবণ।

প্রায় চল্লিশ কেজি ওজন কমে যাওয়ার পর ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শে ব্যায়াম শুরু করেন আদনান। শুরুতে ট্রেডমিলে দৌড়াতেন কিছুক্ষণ। সঙ্গে হালকা ব্যায়াম। কয়েক মাস পর আটঘাট বেঁধে শুরু হয় শরীরচর্চা। সপ্তাহে ৬ দিন কার্ডিও এক্সারসাইজ করতেন এই শিল্পী। এরপরই দ্রুত কমতে শুরু করে ওজন। সে সময় মাসে প্রায় ১০ কেজি ওজন ঝরিয়েছেন তিনি। ব্যায়াম শুরু করার পর ভীষণ উচ্ছ্বসিত আদনান জানান, এখন তিনি আগের চাইতে অনেকটাই সুস্থ বোধ করেন। অনেকক্ষণ দৌড়াতে পারেন, রাতে ঘুমও হয় ভালো।

ওজন কমানোর প্রায় পুরো বিষয়টাই মানসিক- মনে করেন আদনান সামি। এখনও টুক করে এক পিস কেক মুখে পুড়ে দেন এই শিল্পী। তবে বাড়তি ক্যালোরি ঝরিয়ে ফেলতেও ভুল হয় না তার!

তথ্য: এনডিটিভি

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

হজ পরবর্তী ফিরতি অভিযানে দেশে ফিরেছেন ৬ হাজার ১৭৫ জন হাজি

কীভাবে ১৫৫ কেজি ওজন কমালেন আদনান সামি?

প্রকাশিতঃ ১২:০৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২২

মালদ্বীপ ঘুরতে গিয়েছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ভারতীয় সংগীতশিল্পী আদনান সামি। নিজের ভেরিফাইড পেইজে প্রকাশ করেছেন পারিবারিক ট্রিপের বিভিন্ন আনন্দের মুহূর্ত। ছিপছিপে আদনান সামির ছবি দেখে নতুন করে নেটিজেনদের মধ্যে কাজ করছে বিস্ময়। যদিও এই গায়কের ওজন কমানোর গল্প বেশ পুরনোই।

সেটা ছিল ২০০৬ সালের কথা। ২২০ কেজি ওজনের আদনান ছিলেন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে! কারণ চিকিৎসকরা জানিয়ে দিয়েছিলেন বাড়তি ওজন ঝরাতে না পারলে বেঁচে থাকা কঠিনই হয়ে পড়বে এই গায়কের জন্য। এরপরই আদাজল খেয়ে ওজন ঝরানোর মিশনে নেমে পড়েন এই শিল্পী। কঠিন অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে ১৫৫ কেজি ওজনকে বিদায় জানান।

এক সময় বিরিয়ানি খেতে খুব পছন্দ করতেন আদনান। ভালোবাসতেন মাখন ও স্টেক। তবে একদিন বিশাল একটি চিজকেক, সেদ্ধ আলু ও মাখন দিয়ে স্টেক খেয়ে সিদ্ধান্ত নিলেন আর না! এরপরের দিন থেকেই বদলে গেলো তার জীবন। কার্বোহাইড্রেট কমিয়ে দিয়ে প্রোটিনে নির্ভরশীল হওয়া শুরু করলেন আদনান। একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শে তার ওজন ঝরানোর এই কঠিন যাত্রা শুরু হয়।

শুরুতে ব্যায়াম করতে পারতেন না এই সংগীতশিল্পী। কারণ তিনি এতোটাই মেদবহুল ছিলেন যে নিচু হতে পারতেন না কোনোভাবেই। ফলে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেই তাকে ঝরাতে হয়েছিল বেশ অনেকটা ওজন। সাদা ভাত, রুটি, চিনি ও জাঙ্ক ফুড খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

আদনানের পুষ্টিবিদ জানান, ‘ইমোশোনাল ইটার’ ছিলেন আদনান। মন খারাপ থাকা কিংবা ভালো থাকার উপর নির্ভর করতো তার খাদ্যাভ্যাস। শর্করা ও চিনিজাতীয় খাবার হুট করেই প্রচুর পরিমাণে খেয়ে ফেলতেন তিনি। এরপর যদিও অনুতপ্ত হতেন ব্যাপারটা নিয়ে। এই ঘটনা যেন না ঘটে সেজন্য পুষ্টিবিদকে সঙ্গে নিয়েই চলতেন আদনান।

এক কাপ চিনি ছাড়া চা খেয়ে শুরু হতো আদনানের দিন। দুপুরে ১ টেবিল চামচ ফ্যাট-ফ্রি সালাদ ড্রেসিং দেওয়া সবজির সালাদ ও মাছ থাকতো মেন্যুতে। রাতের খাবারে সেদ্ধ ডাল অথবা মুরগির মাংস খেতেন। কোনও ধরনের ভাত বা রুটি থাকতো না খাদ্য তালিকায়। সন্ধ্যায় খেতেন ঘরে তৈরি পপকর্ন, যেখানে থাকতো না মাখন ও লবণ।

প্রায় চল্লিশ কেজি ওজন কমে যাওয়ার পর ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শে ব্যায়াম শুরু করেন আদনান। শুরুতে ট্রেডমিলে দৌড়াতেন কিছুক্ষণ। সঙ্গে হালকা ব্যায়াম। কয়েক মাস পর আটঘাট বেঁধে শুরু হয় শরীরচর্চা। সপ্তাহে ৬ দিন কার্ডিও এক্সারসাইজ করতেন এই শিল্পী। এরপরই দ্রুত কমতে শুরু করে ওজন। সে সময় মাসে প্রায় ১০ কেজি ওজন ঝরিয়েছেন তিনি। ব্যায়াম শুরু করার পর ভীষণ উচ্ছ্বসিত আদনান জানান, এখন তিনি আগের চাইতে অনেকটাই সুস্থ বোধ করেন। অনেকক্ষণ দৌড়াতে পারেন, রাতে ঘুমও হয় ভালো।

ওজন কমানোর প্রায় পুরো বিষয়টাই মানসিক- মনে করেন আদনান সামি। এখনও টুক করে এক পিস কেক মুখে পুড়ে দেন এই শিল্পী। তবে বাড়তি ক্যালোরি ঝরিয়ে ফেলতেও ভুল হয় না তার!

তথ্য: এনডিটিভি