মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাত এক মাস পেরিয়ে গেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে জানিয়েছে, কাঁটাযুদ্ধের এই পর্যায়ে অন্তত ১৩ জন মার্কিন সৈন্য নিহত এবং ৩৬৫ জন আহত হয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাও এই সংখ্যা নিশ্চিত করেছে।
আহত ৩৬৫ জনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, সবচেয়ে বড় অংশই যুক্তরাষ্ট্রের স্থলবাহিনীর। পেন্টাগনের তথ্যমতে সেনাবাহিনীর ২৪৭ জন সদস্য বিভিন্ন পর্যায়ের আঘাত নিয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। এছাড়া নৌবাহিনীর ৬৩ জন, বিমান বাহিনীর ৩৬ জন এবং মেরিন কোরের ১৯ জন সদস্যও আহতদের তালিকায় রয়েছেন। পর্যাপ্ত সামরিক উপস্থিতি ও উন্নত প্রযুক্তির পরেও এত উচ্চ মাত্রার ক্ষয়ক্ষতি পেন্টাগনের কৌশল ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে নতুন চাপ সৃষ্টি করছে।
এক উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, গতকাল ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে তারা দুটি আধুনিক মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। তবে পেন্টাগনের প্রকাশিত হতাহতের তালিকায় বিমান বিধ্বংস বা বিমানের ক্রুদের বিষয়ে কোনো স্পষ্ট উল্লেখ নেই। বিমান দুর্ঘটনায় ক্রুদের উদ্ধার বা তাদের পরিস্থিতি সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি, ফলে সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা সামনে গিয়ে আরও বাড়তে পারে।
সংঘাতটি ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে এখন দ্বিতীয় মাসে পা দিতে যাচ্ছে। ইরানের মূল ভূখণ্ডে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার জবাবে ইরান প্রতিহত করা, পাল্টা আঘাত ও ড্রোন হামলা চালানোর ফলে মার্কিন সেনাদের ওপর ঝুঁকি ক্রমশ বাড়ছে। ওয়াশিংটনে এই ক্রমবর্ধমান মানবিক ও সামরিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দ্রুত যুদ্ধ শেষের প্রতিশ্রুতি দিলেও মাঠে নিয়মিত সেকেন্ডারি হতাহতের খবর প্রশাসনের ওপর নতুন মনস্তাত্ত্বিক ও রাজনৈতিক চাপ তৈরি করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল রণক্ষেত্রে সামনের দিনগুলোতে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে থাকায় নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো থেকে আসা পরবর্তী আপডেট নজর রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























