০২:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
শ্রীমঙ্গলে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথমবারের মতো দেশে ‘মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল’ গড়ার সিদ্ধান্ত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সাংবাদিকরা সবসময় পাশে ছিলেন: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী প্রতিহিংসার মানসিকতা বদলাতে হবে — প্রধানমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বিজিবি মহাপরিচালকের সাক্ষ্যকে ‘গোপন বৈঠক’ বলা ভিত্তিহীন: বিজিবির ব্যাখ্যা অসৌজন্যমূলক আচরণে ভারতের সফর বাতিল করে দেশে ফিরেছেন জাহেদ উর রহমান অমিত শাহের সঙ্গে মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ ‘গোপন বৈঠক’ নয়: বিজিবির ব্যাখ্যা দিল্লি বিমানবন্দরে অসৌজন্যমূল্যের প্রতিবাদে ভারত সফর বাতিল করেছেন ডা. জাহেদ উর রহমান প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ: ঢাকার ভেতর থেকে সরানো হবে তিনটি দূরপাল্লা বাস টার্মিনাল সম্পূরক বাজেটে ব্যয় কমিয়ে ৭ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা; ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ কোটি

স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি কেনার চূড়ান্ত অনুমোদন

হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় জ্বালানি আমদানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় সরকার খোলাবাজার থেকে এলএনজি আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশীয় ক্রমবর্ধমান গ্যাস চাহিদা মেটাতে এবং ভাঙচুর-সংকট এড়িয়ে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্পট মার্কেট থেকে দুইটি কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আন্তর্জাতিক কোটেশন পদ্ধতিতে মোট তিনটি কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব দিয়েছিল, যার আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ১১২ কোটি টাকা। তবে বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের কথা বিবেচনা করে ক্রয় কমিটি প্রথম ধাপে দুই কার্গো কেনার অনুমোদন দিয়েছে; এর আনুমানিক খরচ হবে প্রায় ১ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের জানান, হরমুজ প্রণালিতে লক্ষ্যযোগ্য অস্থিরতার কারণে বহু বিদেশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফোর্স মেজর’ ধারার কথা বলছে, ফলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে ঠিক সময়ে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। সেই কারণেই দেশের ভিতরে আসন্ন জুন ও জুলাই মাসের শুরুতে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন না ঘটানোর লক্ষ্যে তাত্ক্ষণিকভাবে স্পট মার্কেট থেকে এই জরুরি ক্রয় করা হচ্ছে।

সচিব আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বর্তমানে কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ায় তৃতীয় কার্গো কেনার বিষয়ে সরকার অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখা হবে, এই সময়ের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির কোনো চালান দেশে পৌঁছায় কিনা। তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন, সাম্প্রতিক সংকট ধীরে ধীরে কমবে, তবে এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা ও আমদানি কৌশল পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করেছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

১ জুলাই থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে ফ্যামিলি, কৃষক ও ইমাম কার্ড বিতরণ শুরু হবে: আইনমন্ত্রী

স্পট মার্কেট থেকে দুই কার্গো এলএনজি কেনার চূড়ান্ত অনুমোদন

প্রকাশিতঃ ১০:৩৯:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে চলমান ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার ফলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় জ্বালানি আমদানিতে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় সরকার খোলাবাজার থেকে এলএনজি আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দেশীয় ক্রমবর্ধমান গ্যাস চাহিদা মেটাতে এবং ভাঙচুর-সংকট এড়িয়ে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে স্পট মার্কেট থেকে দুইটি কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৭ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ আন্তর্জাতিক কোটেশন পদ্ধতিতে মোট তিনটি কার্গো এলএনজি কেনার প্রস্তাব দিয়েছিল, যার আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছিল প্রায় ২ হাজার ১১২ কোটি টাকা। তবে বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি ও সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ের কথা বিবেচনা করে ক্রয় কমিটি প্রথম ধাপে দুই কার্গো কেনার অনুমোদন দিয়েছে; এর আনুমানিক খরচ হবে প্রায় ১ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব সাংবাদিকদের জানান, হরমুজ প্রণালিতে লক্ষ্যযোগ্য অস্থিরতার কারণে বহু বিদেশি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফোর্স মেজর’ ধারার কথা বলছে, ফলে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিতে ঠিক সময়ে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। সেই কারণেই দেশের ভিতরে আসন্ন জুন ও জুলাই মাসের শুরুতে গ্যাস সরবরাহে বিঘ্ন না ঘটানোর লক্ষ্যে তাত্ক্ষণিকভাবে স্পট মার্কেট থেকে এই জরুরি ক্রয় করা হচ্ছে।

সচিব আরও জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির দাম বর্তমানে কিছুটা নিম্নমুখী হওয়ায় তৃতীয় কার্গো কেনার বিষয়ে সরকার অপেক্ষা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখা হবে, এই সময়ের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির কোনো চালান দেশে পৌঁছায় কিনা। তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন, সাম্প্রতিক সংকট ধীরে ধীরে কমবে, তবে এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জ্বালানি নিরাপত্তা ও আমদানি কৌশল পুনর্বিবেচনার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট করেছে।