০৩:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

সংস্কারের ফলে ব্যাংকখাতে অর্থপাচার কমেছে: টিআইবি

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ব্যাংক খাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের ফলে ঢালাওভাবে অর্থপাচার কিছুটা বন্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে পূর্বের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অর্থপাচার বৈকল্য কমে এসেছে। ব্যাংক খাত ছিল মূলত অর্থপাচারের অন্যতম ক্ষেত্র, যেখানে নানা ধরনের অনিয়মের সুযোগ ছিল। তবে এখন কিছুটা নিয়ন্ত্রণ এসেছে এবং অনেক জড়িত অ্যাক্টর বিচারপ্রক্রিয়ার আওতায় এসেছে বা দেশের বাইরেও রয়েছে। তবে তিনি যোগ করেন, নতুন অ্যাক্টরদের সৃষ্টি বা তাদের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও জানান, ব্যাংক খাতে এখনো বেশ কিছু সংস্কার দরকার। মোটামুটি কিছু অগ্রগতি হয়েছে, বিশেষ করে বিশাল অর্থপাচারকারী পদ্ধতিগুলোর নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনার পাশাপাশি অর্থপাচার প্রতিরোধে আরও বেশি প্রচেষ্টার প্রয়োজন। প্রবাসীরা থেকে পাঠানো অর্থও হুন্ডি বা অন্যান্য অসাধু উপায়ে পাচার হতো, তবে এখন মোটামুটি পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ রয়েছ। আবার, মিস ইনভয়েসিং বা আমদানি-রপ্তানি চালানের জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থপাচার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুদক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হলে অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। তিনি বলেন, অর্থপাচার যেন আর না হয়, সে জন্য অগ্রাধিকার দিয়ে চলা হচ্ছে।

ফ্রাঁসোয়া ভ্যালেরিয়াঁর বক্তব্যে উঠে আসে, সাংবাদিকরা না থাকলে গণতন্ত্র অচল হয়ে পড়ে, আর গণতন্ত্র না থাকলে ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে লড়াইও সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বছরখানেক ধরে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন মনোযোগ দিয়ে দেখছেন, যেখানে তরুণ, নারী ও শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী স্বৈরতন্ত্রের উত্থান যখন বৃদ্ধির পথে, তখন বাংলাদেশে উল্টো ঘটনা ঘটেছে। এসব কারণে বাংলাদেশের বিশ্বজগতের কাছে সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছে। এই সময়ে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম চলছে, যেমন সংস্কার কমিশন, ঐকমত্য কমিশন ইত্যাদি, যেগুলোর অনেকটাই বাংলাদেশের টিআই এর সুপারিশ অনুযায়ী। তিনি বিশ্বাস করেন, এই সংস্কারগুলো টেকসই হওয়া দরকার, দেশের প্রশাসনিক কাঠামো ও ক্ষমতা ব্যবহারে পরিবর্তন জরুরি। নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই পদক্ষেপগুলো সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্বৈরশাসনের পতনের পর মানুষ আগ্রহী যে সরকার দুর্নীতি কমিয়ে আনবে, তবে এই প্রশ্নে তিনি বলেন, না, একদমই না। দুর্নীতির সমস্যা এখনও বিদ্যমান রয়েছে, কারণ যেখানে ক্ষমতা থাকবে, সেখানে অপব্যবহারের আশঙ্কাও থাকবে। এ জন্য টিআই বা অন্য কোনও সংস্থার কাজ কখনো শেষ হবে না।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

সংস্কারের ফলে ব্যাংকখাতে অর্থপাচার কমেছে: টিআইবি

প্রকাশিতঃ ১০:৪৮:৫৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, ব্যাংক খাতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের ফলে ঢালাওভাবে অর্থপাচার কিছুটা বন্ধ হয়েছে। তিনি বলেন, কিছু প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে পূর্বের বৈশিষ্ট্যপূর্ণ অর্থপাচার বৈকল্য কমে এসেছে। ব্যাংক খাত ছিল মূলত অর্থপাচারের অন্যতম ক্ষেত্র, যেখানে নানা ধরনের অনিয়মের সুযোগ ছিল। তবে এখন কিছুটা নিয়ন্ত্রণ এসেছে এবং অনেক জড়িত অ্যাক্টর বিচারপ্রক্রিয়ার আওতায় এসেছে বা দেশের বাইরেও রয়েছে। তবে তিনি যোগ করেন, নতুন অ্যাক্টরদের সৃষ্টি বা তাদের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও জানান, ব্যাংক খাতে এখনো বেশ কিছু সংস্কার দরকার। মোটামুটি কিছু অগ্রগতি হয়েছে, বিশেষ করে বিশাল অর্থপাচারকারী পদ্ধতিগুলোর নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনার পাশাপাশি অর্থপাচার প্রতিরোধে আরও বেশি প্রচেষ্টার প্রয়োজন। প্রবাসীরা থেকে পাঠানো অর্থও হুন্ডি বা অন্যান্য অসাধু উপায়ে পাচার হতো, তবে এখন মোটামুটি পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ রয়েছ। আবার, মিস ইনভয়েসিং বা আমদানি-রপ্তানি চালানের জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থপাচার পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, দুদক সংস্কার কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হলে অর্থপাচার নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হবে। তিনি বলেন, অর্থপাচার যেন আর না হয়, সে জন্য অগ্রাধিকার দিয়ে চলা হচ্ছে।

ফ্রাঁসোয়া ভ্যালেরিয়াঁর বক্তব্যে উঠে আসে, সাংবাদিকরা না থাকলে গণতন্ত্র অচল হয়ে পড়ে, আর গণতন্ত্র না থাকলে ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে লড়াইও সম্ভব নয়। তিনি বলেন, বছরখানেক ধরে ছাত্র-জনতার গণআন্দোলন মনোযোগ দিয়ে দেখছেন, যেখানে তরুণ, নারী ও শ্রমজীবী সাধারণ মানুষ দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, বিশ্বব্যাপী স্বৈরতন্ত্রের উত্থান যখন বৃদ্ধির পথে, তখন বাংলাদেশে উল্টো ঘটনা ঘটেছে। এসব কারণে বাংলাদেশের বিশ্বজগতের কাছে সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছে। এই সময়ে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম চলছে, যেমন সংস্কার কমিশন, ঐকমত্য কমিশন ইত্যাদি, যেগুলোর অনেকটাই বাংলাদেশের টিআই এর সুপারিশ অনুযায়ী। তিনি বিশ্বাস করেন, এই সংস্কারগুলো টেকসই হওয়া দরকার, দেশের প্রশাসনিক কাঠামো ও ক্ষমতা ব্যবহারে পরিবর্তন জরুরি। নাগরিক সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই পদক্ষেপগুলো সফল হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্বৈরশাসনের পতনের পর মানুষ আগ্রহী যে সরকার দুর্নীতি কমিয়ে আনবে, তবে এই প্রশ্নে তিনি বলেন, না, একদমই না। দুর্নীতির সমস্যা এখনও বিদ্যমান রয়েছে, কারণ যেখানে ক্ষমতা থাকবে, সেখানে অপব্যবহারের আশঙ্কাও থাকবে। এ জন্য টিআই বা অন্য কোনও সংস্থার কাজ কখনো শেষ হবে না।