১০:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আন্তর্জাতিকভাবে দাবি জানানোয় বন্দিদের মুক্তি ঘোষণা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর দোয়ার আবেদন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমারও: তারেক রহমান মৌসুমি সবজি বাজারে ভরপুর, দাম কমে গেছে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া ও মোনাজাত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য ভর্তুকির দাবি আরব আমিরাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ২৪ ব্যক্তির মুক্তি আসছে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা মনের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে দ্বন্দ্ব: তারেক রহমানের মন্তব্য বাজারে মৌসুমি সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম কমে যাচ্ছে

শুধু হিট নয়, সিনেমাটি হয়ে উঠেছিল সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি

পঁচিশ বছর আগে, সে সময়ের হিন্দি সিনেমাগুলো ছিল সাধারণত নানা ধরণের। পুরনো তারকা, পুরনো গল্প এবং পরিচিত স্টাইলের ঐতিহ্যবাহী ধারা ছিল সিনেমার প্রধান বৈশিষ্ট্য। তবে হঠাৎ করে এক সিনেমা পুরো চিত্রটাই পরিবর্তন করে দিয়ে দিচ্ছিল। সেটি হলো ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’। এই সিনেমা রাকেশ রোশনের পরিচালনায়, তার ছেলে হৃতিক রোশনকে নিয়ে নির্মিত এক রোমান্টিক গল্প, যা শুধু ব্যবসা সফলই হয়নি, বরং এক সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সূচনা করেছিল। এর মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল এক নতুন প্রজন্মের ‘সুপারস্টার’। প্রেম, নাচ এবং গানে ভরা এই ছবিতে হৃতিক রোশন তার নতুন পরিচিতি অর্জন করেন। তিনি মাত্র দুই দশকে জায়গা করে নেন দর্শকদের হৃদয়ে, নিজের উজ্জ্বলতা বজায় রেখে চলেছেন আজও।

হৃতিক রোশন সেই একমাত্র তারকা, যিনি প্রথম সিনেমায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তার নাচের ভঙ্গি ছিল সম্পূর্ণ আধুনিক—মিঠুন বা গোবিন্দের প্রচলিত ব্রেকডান্সের বদলে এসেছিল স্মার্ট, কুল স্টাইল, কালো নেট সিঙ্গেলেট এবং সানগ্লাসের আড়ালে লুকানো এক নতুন প্রজন্মের নায়ক।

‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ সিনেমায় হৃতিকের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন আমিশা পাটেল। এছাড়াও এতে ছিলেন অনুপম খের, মোহনিশ বেহল, দালীপ তাহিল, আশিস বিদ্যার্থী, সতীস সাহাসহ আরও অনেক তারকা। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে হৃতিক নিজেই জানিয়েছেন, এই সিনেমার মুক্তির পর তিনি পেয়েছিলেন ৩০ হাজারের বেশি বিয়ের প্রস্তাব।

এছাড়াও, এই ছবির অভিনয় ও সাফল্যের জন্য হৃতিক ফিল্মফেয়ার পুরস্কার লাভ করেন, সেরা অভিনেতা ও সেরা নবাগত অভিনেতা হিসেবে। ২০০৩ সালে, ‘লিমকা বুক অব রেকর্ডস’ এই সিনেমার নাম স্থান পেয়েছিল। এই ছবিটি অনেক পুরস্কার পেয়েছিল, মোট ১০২টি পুরস্কার ঝুলিতে ভরেছিল।

‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ এর বিশাল সাফল্যের ফলে হৃতিক এক সময় নাবালকদের জন্য ‘নবীন স্টার’ হিসেবে উঠে আসেন, এবং তাঁর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তখনকার তিন তারকাঃ শাহরুখ খান, সালমান খান ও আমির খান। তবে পরবর্তীতে ‘কোই মিল গিয়া’ কিংবা ‘কৃষ’ সিরিজের সাফল্য সত্ত্বেও তিনি বলিউডের শীর্ষে আর ধরে রাখতে পারেননি।

২০২৫ সালে এসে দেখা যায়, তিন খান এখনও বলিউডের রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, হৃতিকের জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। সর্বশেষ তাকে দেখা গেছে সিনেমা ‘ওয়ার ২’ এর প্রচারে, যেখানে দর্শকদের উৎসাহে ছবিটিকে সিনেমা হলে ব্যর্থ হওয়ার পরেও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বিদ্রূপের বিষয় হলো, এই পর্দার তারকা এখন দর্শকদের অনুরোধ করেছেন অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে তাঁর সিনেমা দেখার জন্য। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শুধু হিট নয়, সিনেমাটি হয়ে উঠেছিল সংস্কৃতির প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিতঃ ১১:৫৮:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৭ নভেম্বর ২০২৫

পঁচিশ বছর আগে, সে সময়ের হিন্দি সিনেমাগুলো ছিল সাধারণত নানা ধরণের। পুরনো তারকা, পুরনো গল্প এবং পরিচিত স্টাইলের ঐতিহ্যবাহী ধারা ছিল সিনেমার প্রধান বৈশিষ্ট্য। তবে হঠাৎ করে এক সিনেমা পুরো চিত্রটাই পরিবর্তন করে দিয়ে দিচ্ছিল। সেটি হলো ‘কহো না পেয়ার হ্যায়’। এই সিনেমা রাকেশ রোশনের পরিচালনায়, তার ছেলে হৃতিক রোশনকে নিয়ে নির্মিত এক রোমান্টিক গল্প, যা শুধু ব্যবসা সফলই হয়নি, বরং এক সাংস্কৃতিক বিপ্লবের সূচনা করেছিল। এর মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল এক নতুন প্রজন্মের ‘সুপারস্টার’। প্রেম, নাচ এবং গানে ভরা এই ছবিতে হৃতিক রোশন তার নতুন পরিচিতি অর্জন করেন। তিনি মাত্র দুই দশকে জায়গা করে নেন দর্শকদের হৃদয়ে, নিজের উজ্জ্বলতা বজায় রেখে চলেছেন আজও।

হৃতিক রোশন সেই একমাত্র তারকা, যিনি প্রথম সিনেমায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তার নাচের ভঙ্গি ছিল সম্পূর্ণ আধুনিক—মিঠুন বা গোবিন্দের প্রচলিত ব্রেকডান্সের বদলে এসেছিল স্মার্ট, কুল স্টাইল, কালো নেট সিঙ্গেলেট এবং সানগ্লাসের আড়ালে লুকানো এক নতুন প্রজন্মের নায়ক।

‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ সিনেমায় হৃতিকের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন আমিশা পাটেল। এছাড়াও এতে ছিলেন অনুপম খের, মোহনিশ বেহল, দালীপ তাহিল, আশিস বিদ্যার্থী, সতীস সাহাসহ আরও অনেক তারকা। এর আগে এক সাক্ষাৎকারে হৃতিক নিজেই জানিয়েছেন, এই সিনেমার মুক্তির পর তিনি পেয়েছিলেন ৩০ হাজারের বেশি বিয়ের প্রস্তাব।

এছাড়াও, এই ছবির অভিনয় ও সাফল্যের জন্য হৃতিক ফিল্মফেয়ার পুরস্কার লাভ করেন, সেরা অভিনেতা ও সেরা নবাগত অভিনেতা হিসেবে। ২০০৩ সালে, ‘লিমকা বুক অব রেকর্ডস’ এই সিনেমার নাম স্থান পেয়েছিল। এই ছবিটি অনেক পুরস্কার পেয়েছিল, মোট ১০২টি পুরস্কার ঝুলিতে ভরেছিল।

‘কহো না পেয়ার হ্যায়’ এর বিশাল সাফল্যের ফলে হৃতিক এক সময় নাবালকদের জন্য ‘নবীন স্টার’ হিসেবে উঠে আসেন, এবং তাঁর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তখনকার তিন তারকাঃ শাহরুখ খান, সালমান খান ও আমির খান। তবে পরবর্তীতে ‘কোই মিল গিয়া’ কিংবা ‘কৃষ’ সিরিজের সাফল্য সত্ত্বেও তিনি বলিউডের শীর্ষে আর ধরে রাখতে পারেননি।

২০২৫ সালে এসে দেখা যায়, তিন খান এখনও বলিউডের রাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন। অন্যদিকে, হৃতিকের জনপ্রিয়তা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। সর্বশেষ তাকে দেখা গেছে সিনেমা ‘ওয়ার ২’ এর প্রচারে, যেখানে দর্শকদের উৎসাহে ছবিটিকে সিনেমা হলে ব্যর্থ হওয়ার পরেও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বিদ্রূপের বিষয় হলো, এই পর্দার তারকা এখন দর্শকদের অনুরোধ করেছেন অনলাইন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে তাঁর সিনেমা দেখার জন্য। সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস