০৪:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

ইলিশের বদলে জালে ধরা পড়ছে পাঙাশ, কোরাল, আইর ও অন্যান্য মাছ

গত ২৫ অক্টোবর মধ্যরাতে শেষ হয়েছে নদী ও সাগরে মাছ ধরার ওপর ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। এই নিষেধাজ্ঞার পরও নদীতে জেলেদের জালে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা আর পাওয়া যায়নি। বিকল্প হিসেবে জালে ধরা পড়ছে পাঙাশ, কোরাল, চিংড়ি, আইর, বোয়াল, পোয়া এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের মাছ। এই মাছ জেলেরা আড়তগুলোতে বিক্রি করে খরচ চালাচ্ছেন, যা নতুন বাস্তবতার প্রমাণ।

সদর এলাকার মেঘনা নদী তীরবর্তী কাচিয়া কাঠিরমাথা মাছঘাট, ধনিয়া তুলাতুলি মাছঘাট, এবং শিবপুরের ভোলারখাল মাছঘাটের কাছাকাছি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেকে জাল-ট্রলারসহ মাঝি-মাল্লাদের নিয়ে নদীতে ইলিশ শিকার করতে যাচ্ছেন। তবে অধিকাংশ জেলেই এখন কবুলি মাছ বিক্রি করছেন, যার মধ্যে প্রধানত পাঙাশ, কোরাল, চিংড়ি এবং পোয়া রয়েছে। আড়তগুলোতেও এসব মাছের প্রতি কেজি দাম বেশি: কোরালের বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, পাঙাশের ৭৫০ টাকা, আর ২০০ গ্রাম ওজনের চিংড়ির দামে পৌঁছেছে ১৩৫০ টাকা। আইড় মাছের দাম ১৩০০ টাকা, বড় সাইজের বোয়াল বিক্রি হচ্ছে ১১ থেকে ১২০০ টাকা প্রতি কেজি।

নদী থেকে মাছ সংগ্রহ করে আড়তে এনে বিক্রি করছেন মাঝি রফিক ও জামাল। তারা বলছেন, ২২ দিন ধরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর এখন ইলিশের দেখা পাননি। তবে পাঙাশ, কোরাল ও আইরসহ অন্যান্য মাছ বিক্রি করে খরচের কিছুটা সমাধান হচ্ছে। নদীতে মাছ ধরা তাদের একমাত্র পেশা, এবং সেটিই পালন করতে বাধ্য।

মাঝিরা আরও জানাচ্ছেন, রাতের সময় তিন-চারজন মাঝি গাঙ্গে স্বল্প সময়ে জাল ফেলেন, যেখানে ট্রলারের তেলসহ নানা খরচের জন্য প্রায় ১৬০০ টাকা খরচ হয়। এভাবেই তারা কিছু ছোট ইলিশ ও পাঙাশ সংগ্রহ করে আড়তে নিয়ে আসে, বিক্রি করে যা দিয়ে তাদের খরচ চলে। কিছু দিন পর তারা বলছেন, বড় ইলিশ বা কাঙ্ক্ষিত মাছ পাওয়া দুষ্কর। খুব বেশি মাছ না পাওয়ায় তারা আগের ঋণ পরিশোধও করতে পারেননি। বছর শেষের দিকে থাকলেও, ঝুঁকি নিয়ে নদীতে যেতে হচ্ছেন তারা, কারণ অন্য কাজ জানে না।

ভোলার বিভিন্ন মাছঘাটের আড়ৎদাররা বলছেন, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে ২২ দিন তারা বন্ধ থাকায় ক্ষতি হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা নদীতে গিয়ে তেমন ইলিশ পাচ্ছেন না, ফলে মাছের যোগানও কম। মোকামগুলোতেও দাদনের জন্য চাপ পড়ছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না থাকায় বাধ্য হয়ে চাপে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের পর সাধারণত ইলিশের মৌসুম শেষ হয়ে যায়। এ বছর সরকার দ্বারা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সফল বাস্তবায়নের ফলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে জেলেরা এখন পাঙাশ, কোরালসহ অন্যান্য মাছ বেশি পাচ্ছেন। তা থেকে তারা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

ইলিশের বদলে জালে ধরা পড়ছে পাঙাশ, কোরাল, আইর ও অন্যান্য মাছ

প্রকাশিতঃ ১১:৫৪:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ নভেম্বর ২০২৫

গত ২৫ অক্টোবর মধ্যরাতে শেষ হয়েছে নদী ও সাগরে মাছ ধরার ওপর ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। এই নিষেধাজ্ঞার পরও নদীতে জেলেদের জালে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা আর পাওয়া যায়নি। বিকল্প হিসেবে জালে ধরা পড়ছে পাঙাশ, কোরাল, চিংড়ি, আইর, বোয়াল, পোয়া এবং অন্যান্য বিভিন্ন ধরনের মাছ। এই মাছ জেলেরা আড়তগুলোতে বিক্রি করে খরচ চালাচ্ছেন, যা নতুন বাস্তবতার প্রমাণ।

সদর এলাকার মেঘনা নদী তীরবর্তী কাচিয়া কাঠিরমাথা মাছঘাট, ধনিয়া তুলাতুলি মাছঘাট, এবং শিবপুরের ভোলারখাল মাছঘাটের কাছাকাছি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেকে জাল-ট্রলারসহ মাঝি-মাল্লাদের নিয়ে নদীতে ইলিশ শিকার করতে যাচ্ছেন। তবে অধিকাংশ জেলেই এখন কবুলি মাছ বিক্রি করছেন, যার মধ্যে প্রধানত পাঙাশ, কোরাল, চিংড়ি এবং পোয়া রয়েছে। আড়তগুলোতেও এসব মাছের প্রতি কেজি দাম বেশি: কোরালের বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা, পাঙাশের ৭৫০ টাকা, আর ২০০ গ্রাম ওজনের চিংড়ির দামে পৌঁছেছে ১৩৫০ টাকা। আইড় মাছের দাম ১৩০০ টাকা, বড় সাইজের বোয়াল বিক্রি হচ্ছে ১১ থেকে ১২০০ টাকা প্রতি কেজি।

নদী থেকে মাছ সংগ্রহ করে আড়তে এনে বিক্রি করছেন মাঝি রফিক ও জামাল। তারা বলছেন, ২২ দিন ধরে সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার পর এখন ইলিশের দেখা পাননি। তবে পাঙাশ, কোরাল ও আইরসহ অন্যান্য মাছ বিক্রি করে খরচের কিছুটা সমাধান হচ্ছে। নদীতে মাছ ধরা তাদের একমাত্র পেশা, এবং সেটিই পালন করতে বাধ্য।

মাঝিরা আরও জানাচ্ছেন, রাতের সময় তিন-চারজন মাঝি গাঙ্গে স্বল্প সময়ে জাল ফেলেন, যেখানে ট্রলারের তেলসহ নানা খরচের জন্য প্রায় ১৬০০ টাকা খরচ হয়। এভাবেই তারা কিছু ছোট ইলিশ ও পাঙাশ সংগ্রহ করে আড়তে নিয়ে আসে, বিক্রি করে যা দিয়ে তাদের খরচ চলে। কিছু দিন পর তারা বলছেন, বড় ইলিশ বা কাঙ্ক্ষিত মাছ পাওয়া দুষ্কর। খুব বেশি মাছ না পাওয়ায় তারা আগের ঋণ পরিশোধও করতে পারেননি। বছর শেষের দিকে থাকলেও, ঝুঁকি নিয়ে নদীতে যেতে হচ্ছেন তারা, কারণ অন্য কাজ জানে না।

ভোলার বিভিন্ন মাছঘাটের আড়ৎদাররা বলছেন, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে ২২ দিন তারা বন্ধ থাকায় ক্ষতি হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা নদীতে গিয়ে তেমন ইলিশ পাচ্ছেন না, ফলে মাছের যোগানও কম। মোকামগুলোতেও দাদনের জন্য চাপ পড়ছে, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না থাকায় বাধ্য হয়ে চাপে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের পর সাধারণত ইলিশের মৌসুম শেষ হয়ে যায়। এ বছর সরকার দ্বারা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সফল বাস্তবায়নের ফলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে জেলেরা এখন পাঙাশ, কোরালসহ অন্যান্য মাছ বেশি পাচ্ছেন। তা থেকে তারা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।