১০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আন্তর্জাতিকভাবে দাবি জানানোয় বন্দিদের মুক্তি ঘোষণা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর দোয়ার আবেদন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমারও: তারেক রহমান মৌসুমি সবজি বাজারে ভরপুর, দাম কমে গেছে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া ও মোনাজাত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য ভর্তুকির দাবি আরব আমিরাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ২৪ ব্যক্তির মুক্তি আসছে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা মনের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে দ্বন্দ্ব: তারেক রহমানের মন্তব্য বাজারে মৌসুমি সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম কমে যাচ্ছে

নচিকেতার কাছে ‘আমার সোনার বাংলা’: আমরা কি সত্যিই এ গানের পক্ষে?

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জনপ্রিয় গানের একটি লাইন হলো ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’। এই গানটি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে জোর আলোচনা চলছে। সম্প্রতি একটি রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে এই গানের পঠিত অংশের জন্য ‘দেশদ্রোহিতার’ অভিযোগ আনায় ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে এবার মুখ খুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী।

নচিকেতা বলছেন, এটি আমাদের দেশপ্রিয় গীত। রবীন্দ্রনাথের এই গানকে আমি নিজের দেশের গানে বিবেচনা করি। তিনি আরও বলেন, আসলে আমাদের দেশের কয়েকজন রাজনীতিবিদ খুবই অবজ্ঞাসূচক ও অজ্ঞ। তাদের কথায় আমি কিছু বলতে চাই না; নিজেদের বিবেকে তারা কী বুঝে না বোঝে, তা আমার ভাবনার বাইরে। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। মোদি যখন দুর্গাপুরে এসে বলে গিয়েছিলেন, ‘আমার সোনার বাংলা’, তখন কিছুই হয়নি। এর মানে পরিষ্কার, এই গানের সঙ্গে দেশের কোনো সম্পর্ক নেই—বিষয়টি তারা বুড়ো ঠাকুরের এই গানের সাথে রাজনীতি করে বিভ্রান্তি ফেলার অপচেষ্টা করছে।

নচিকেতা মঞ্চে নিজে এই গান পরিবেশন করেন। তিনি বলেন, আমি বহুবার এই গান গেয়েছি। কেন গাইবো না? রবীন্দ্রনাথের এই গান গাওয়া থেকে আমি কেন বিরত থাকবো? এভাবেই তিনি মনে করেন, এই ধরনের রাজনীতিবিদদের উচিত তাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে দেশের সত্যিকার সংবেদনগুলো বুঝতে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর আসামের কংগ্রেস নেতা বিধুভূষণ দাসের একটা মন্তব্যের জেরে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। তিনি ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি গেয়ে তোপের মুখে পড়েন। এরপরই আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা তাকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহের’ অভিযোগে মামলা করার নির্দেশ দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গানে প্রতিবাদ জানাতে উঠে আসে। এছাড়া, আন্দোলনের জেরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের অভিভাবকদের সতর্ক করে একটি চিঠি পাঠায়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দেশের ভাবাবেগের প্রশ্ন উঠে আসছে। বিষয়টি স্পষ্ট করে বোঝার জন্য আরও গভীর আলোচনা প্রয়োজন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

নচিকেতার কাছে ‘আমার সোনার বাংলা’: আমরা কি সত্যিই এ গানের পক্ষে?

প্রকাশিতঃ ১১:৫৮:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জনপ্রিয় গানের একটি লাইন হলো ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’। এই গানটি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে জোর আলোচনা চলছে। সম্প্রতি একটি রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে এই গানের পঠিত অংশের জন্য ‘দেশদ্রোহিতার’ অভিযোগ আনায় ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে এবার মুখ খুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী।

নচিকেতা বলছেন, এটি আমাদের দেশপ্রিয় গীত। রবীন্দ্রনাথের এই গানকে আমি নিজের দেশের গানে বিবেচনা করি। তিনি আরও বলেন, আসলে আমাদের দেশের কয়েকজন রাজনীতিবিদ খুবই অবজ্ঞাসূচক ও অজ্ঞ। তাদের কথায় আমি কিছু বলতে চাই না; নিজেদের বিবেকে তারা কী বুঝে না বোঝে, তা আমার ভাবনার বাইরে। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। মোদি যখন দুর্গাপুরে এসে বলে গিয়েছিলেন, ‘আমার সোনার বাংলা’, তখন কিছুই হয়নি। এর মানে পরিষ্কার, এই গানের সঙ্গে দেশের কোনো সম্পর্ক নেই—বিষয়টি তারা বুড়ো ঠাকুরের এই গানের সাথে রাজনীতি করে বিভ্রান্তি ফেলার অপচেষ্টা করছে।

নচিকেতা মঞ্চে নিজে এই গান পরিবেশন করেন। তিনি বলেন, আমি বহুবার এই গান গেয়েছি। কেন গাইবো না? রবীন্দ্রনাথের এই গান গাওয়া থেকে আমি কেন বিরত থাকবো? এভাবেই তিনি মনে করেন, এই ধরনের রাজনীতিবিদদের উচিত তাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে দেশের সত্যিকার সংবেদনগুলো বুঝতে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর আসামের কংগ্রেস নেতা বিধুভূষণ দাসের একটা মন্তব্যের জেরে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। তিনি ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি গেয়ে তোপের মুখে পড়েন। এরপরই আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা তাকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহের’ অভিযোগে মামলা করার নির্দেশ দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গানে প্রতিবাদ জানাতে উঠে আসে। এছাড়া, আন্দোলনের জেরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের অভিভাবকদের সতর্ক করে একটি চিঠি পাঠায়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দেশের ভাবাবেগের প্রশ্ন উঠে আসছে। বিষয়টি স্পষ্ট করে বোঝার জন্য আরও গভীর আলোচনা প্রয়োজন।