০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

নচিকেতার কাছে ‘আমার সোনার বাংলা’: আমরা কি সত্যিই এ গানের পক্ষে?

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জনপ্রিয় গানের একটি লাইন হলো ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’। এই গানটি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে জোর আলোচনা চলছে। সম্প্রতি একটি রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে এই গানের পঠিত অংশের জন্য ‘দেশদ্রোহিতার’ অভিযোগ আনায় ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে এবার মুখ খুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী।

নচিকেতা বলছেন, এটি আমাদের দেশপ্রিয় গীত। রবীন্দ্রনাথের এই গানকে আমি নিজের দেশের গানে বিবেচনা করি। তিনি আরও বলেন, আসলে আমাদের দেশের কয়েকজন রাজনীতিবিদ খুবই অবজ্ঞাসূচক ও অজ্ঞ। তাদের কথায় আমি কিছু বলতে চাই না; নিজেদের বিবেকে তারা কী বুঝে না বোঝে, তা আমার ভাবনার বাইরে। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। মোদি যখন দুর্গাপুরে এসে বলে গিয়েছিলেন, ‘আমার সোনার বাংলা’, তখন কিছুই হয়নি। এর মানে পরিষ্কার, এই গানের সঙ্গে দেশের কোনো সম্পর্ক নেই—বিষয়টি তারা বুড়ো ঠাকুরের এই গানের সাথে রাজনীতি করে বিভ্রান্তি ফেলার অপচেষ্টা করছে।

নচিকেতা মঞ্চে নিজে এই গান পরিবেশন করেন। তিনি বলেন, আমি বহুবার এই গান গেয়েছি। কেন গাইবো না? রবীন্দ্রনাথের এই গান গাওয়া থেকে আমি কেন বিরত থাকবো? এভাবেই তিনি মনে করেন, এই ধরনের রাজনীতিবিদদের উচিত তাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে দেশের সত্যিকার সংবেদনগুলো বুঝতে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর আসামের কংগ্রেস নেতা বিধুভূষণ দাসের একটা মন্তব্যের জেরে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। তিনি ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি গেয়ে তোপের মুখে পড়েন। এরপরই আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা তাকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহের’ অভিযোগে মামলা করার নির্দেশ দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গানে প্রতিবাদ জানাতে উঠে আসে। এছাড়া, আন্দোলনের জেরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের অভিভাবকদের সতর্ক করে একটি চিঠি পাঠায়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দেশের ভাবাবেগের প্রশ্ন উঠে আসছে। বিষয়টি স্পষ্ট করে বোঝার জন্য আরও গভীর আলোচনা প্রয়োজন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

নচিকেতার কাছে ‘আমার সোনার বাংলা’: আমরা কি সত্যিই এ গানের পক্ষে?

প্রকাশিতঃ ১১:৫৮:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ নভেম্বর ২০২৫

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জনপ্রিয় গানের একটি লাইন হলো ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’। এই গানটি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গজুড়ে জোর আলোচনা চলছে। সম্প্রতি একটি রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে এই গানের পঠিত অংশের জন্য ‘দেশদ্রোহিতার’ অভিযোগ আনায় ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়। এই পরিস্থিতিতে এবার মুখ খুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী নচিকেতা চক্রবর্তী।

নচিকেতা বলছেন, এটি আমাদের দেশপ্রিয় গীত। রবীন্দ্রনাথের এই গানকে আমি নিজের দেশের গানে বিবেচনা করি। তিনি আরও বলেন, আসলে আমাদের দেশের কয়েকজন রাজনীতিবিদ খুবই অবজ্ঞাসূচক ও অজ্ঞ। তাদের কথায় আমি কিছু বলতে চাই না; নিজেদের বিবেকে তারা কী বুঝে না বোঝে, তা আমার ভাবনার বাইরে। তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির। মোদি যখন দুর্গাপুরে এসে বলে গিয়েছিলেন, ‘আমার সোনার বাংলা’, তখন কিছুই হয়নি। এর মানে পরিষ্কার, এই গানের সঙ্গে দেশের কোনো সম্পর্ক নেই—বিষয়টি তারা বুড়ো ঠাকুরের এই গানের সাথে রাজনীতি করে বিভ্রান্তি ফেলার অপচেষ্টা করছে।

নচিকেতা মঞ্চে নিজে এই গান পরিবেশন করেন। তিনি বলেন, আমি বহুবার এই গান গেয়েছি। কেন গাইবো না? রবীন্দ্রনাথের এই গান গাওয়া থেকে আমি কেন বিরত থাকবো? এভাবেই তিনি মনে করেন, এই ধরনের রাজনীতিবিদদের উচিত তাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে দেশের সত্যিকার সংবেদনগুলো বুঝতে।

উল্লেখ্য, গত ২৭ অক্টোবর আসামের কংগ্রেস নেতা বিধুভূষণ দাসের একটা মন্তব্যের জেরে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। তিনি ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি গেয়ে তোপের মুখে পড়েন। এরপরই আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা তাকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহের’ অভিযোগে মামলা করার নির্দেশ দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গানে প্রতিবাদ জানাতে উঠে আসে। এছাড়া, আন্দোলনের জেরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের অভিভাবকদের সতর্ক করে একটি চিঠি পাঠায়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দেশের ভাবাবেগের প্রশ্ন উঠে আসছে। বিষয়টি স্পষ্ট করে বোঝার জন্য আরও গভীর আলোচনা প্রয়োজন।