০৯:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
আন্তর্জাতিকভাবে দাবি জানানোয় বন্দিদের মুক্তি ঘোষণা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর দোয়ার আবেদন প্রধান উপদেষ্টার সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা আমারও: তারেক রহমান মৌসুমি সবজি বাজারে ভরপুর, দাম কমে গেছে উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ সভায় খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনায় দোয়া ও মোনাজাত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য ভর্তুকির দাবি আরব আমিরাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ২৪ ব্যক্তির মুক্তি আসছে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা মনের আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে দ্বন্দ্ব: তারেক রহমানের মন্তব্য বাজারে মৌসুমি সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি ও দাম কমে যাচ্ছে

জেলেনস্কি প্রস্তুত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় কাজ করতে

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত একটি পরিকল্পনা অনুযায়ী রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের জন্য কাজ করতে প্রস্তুত। তবে তারা মনে করছেন, এই পরিকল্পনাটি মূলত রাশিয়ার স্বার্থে বেশি সুবিধা দেবে। বৃহস্পতিবার তার কার্যালয় নিশ্চিত করে বলেছে, প্রেসিডেন্ট জেলেনেনস্কি হাতে পেয়েছেন ওই পরিকল্পনার একটি খসড়া। ভবিষ্যতের কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করবেন। তবে এই অপ্রকাশিত পরিকল্পনা সম্পর্কে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি জেলেনেস্কির কার্যালয়। তারা বলেছে, তিনি আশা করছেন, কূটনৈতিক মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় মূল বিষয়গুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় বসবেন। সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ২৮ দফার এই পরিকল্পনায় ইউক্রেনকে কিছু অঞ্চল আর অস্ত্র ছাড়তে হবে। এক মার্কিন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানিয়েছেন, তাতে পূর্ব ইউক্রেনের কিছু অঞ্চল রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। এর পরিবর্তে, রাশিয়ার হুমকি থেকে নিরাপদ থাকতে ইউক্রেন ও ইউরোপকে ভবিষ্যতে রাশিয়া থেকে সুরক্ষা দেওয়া হবে বলে পরিকল্পনায় বলা হয়েছে। এই খসড়া প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এক মাস ধরে কাজ করছেন। মন্তব্য নেওয়া হচ্ছে উভয় পক্ষের মানুষের কাছ থেকে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ট্রাম্প এই পরিকল্পনার বিষয়টি ব্রিফ করেছেন ও তিনি সমর্থন দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন দুজনের জন্যই এটি একটি ভালো পরিকল্পনা। আশা করা যায়, এ পরিকল্পনা গ্রহণযোগ্য হবে এবং দু’পক্ষই কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি পরে বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি সেক্রেটারি ড্যানিয়েল ড্রিসকলের সঙ্গে এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। অন্যদিকে, রাশিয়া এই নতুন উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে মনে করছে ক্রেমলিন। রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, এখনো কোনো আলোচনা চলছে না, কিছু তথ্য বিনিময় হচ্ছে। তবে, এর সঙ্গে যোগাযোগের কোনো প্রক্রিয়া চলছে না বলে জানান। জেলেনস্কি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও, ইউরোপীয় মিত্ররা এ ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করছেন। ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলছেন, ইউক্রেনের মানুষ শান্তি চায়, তবে সেটি আত্মসমর্পণ নয়। তারা আরও বলছেন, এমন শান্তি অবশ্যই স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোন আক্রমণের আশঙ্কা না থাকে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য সদস্যরাও জানিয়েছেন, যেকোনো চুক্তির জন্য তাদের পরামর্শ ও সমর্থন প্রয়োজন। রাশিয়া হামলার ফলে ইউক্রেনীয় সেনারা পূর্বাঞ্চলে পিছু হটছে। এই পরিস্থিতিতে, যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কূটনৈতিক উদ্যোগে যোগ দিতে জেলেনস্কির চাপ বাড়ছে। গত অক্টোবরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছিলেন, চলতি বছর তারা ইউক্রেনের কয়েক হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করে নিয়েছেন। তবে, ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার বলেছে, আসলে মাত্র ৩৪৩৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল হয়েছে, যা পুতিনের দাবি থেকে কম।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

জেলেনস্কি প্রস্তুত রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনায় কাজ করতে

প্রকাশিতঃ ১১:৫৯:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ নভেম্বর ২০২৫

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত একটি পরিকল্পনা অনুযায়ী রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের জন্য কাজ করতে প্রস্তুত। তবে তারা মনে করছেন, এই পরিকল্পনাটি মূলত রাশিয়ার স্বার্থে বেশি সুবিধা দেবে। বৃহস্পতিবার তার কার্যালয় নিশ্চিত করে বলেছে, প্রেসিডেন্ট জেলেনেনস্কি হাতে পেয়েছেন ওই পরিকল্পনার একটি খসড়া। ভবিষ্যতের কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করবেন। তবে এই অপ্রকাশিত পরিকল্পনা সম্পর্কে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি জেলেনেস্কির কার্যালয়। তারা বলেছে, তিনি আশা করছেন, কূটনৈতিক মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় মূল বিষয়গুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় বসবেন। সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ২৮ দফার এই পরিকল্পনায় ইউক্রেনকে কিছু অঞ্চল আর অস্ত্র ছাড়তে হবে। এক মার্কিন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানিয়েছেন, তাতে পূর্ব ইউক্রেনের কিছু অঞ্চল রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। এর পরিবর্তে, রাশিয়ার হুমকি থেকে নিরাপদ থাকতে ইউক্রেন ও ইউরোপকে ভবিষ্যতে রাশিয়া থেকে সুরক্ষা দেওয়া হবে বলে পরিকল্পনায় বলা হয়েছে। এই খসড়া প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এক মাস ধরে কাজ করছেন। মন্তব্য নেওয়া হচ্ছে উভয় পক্ষের মানুষের কাছ থেকে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, ট্রাম্প এই পরিকল্পনার বিষয়টি ব্রিফ করেছেন ও তিনি সমর্থন দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া ও ইউক্রেন দুজনের জন্যই এটি একটি ভালো পরিকল্পনা। আশা করা যায়, এ পরিকল্পনা গ্রহণযোগ্য হবে এবং দু’পক্ষই কার্যকর ব্যবস্থা নেবে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি পরে বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি সেক্রেটারি ড্যানিয়েল ড্রিসকলের সঙ্গে এই পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। অন্যদিকে, রাশিয়া এই নতুন উদ্যোগকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে মনে করছে ক্রেমলিন। রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানান, এখনো কোনো আলোচনা চলছে না, কিছু তথ্য বিনিময় হচ্ছে। তবে, এর সঙ্গে যোগাযোগের কোনো প্রক্রিয়া চলছে না বলে জানান। জেলেনস্কি ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও, ইউরোপীয় মিত্ররা এ ব্যাপারে সংশয় প্রকাশ করছেন। ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বলছেন, ইউক্রেনের মানুষ শান্তি চায়, তবে সেটি আত্মসমর্পণ নয়। তারা আরও বলছেন, এমন শান্তি অবশ্যই স্থায়ী ও গ্রহণযোগ্য হতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোন আক্রমণের আশঙ্কা না থাকে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্য সদস্যরাও জানিয়েছেন, যেকোনো চুক্তির জন্য তাদের পরামর্শ ও সমর্থন প্রয়োজন। রাশিয়া হামলার ফলে ইউক্রেনীয় সেনারা পূর্বাঞ্চলে পিছু হটছে। এই পরিস্থিতিতে, যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কূটনৈতিক উদ্যোগে যোগ দিতে জেলেনস্কির চাপ বাড়ছে। গত অক্টোবরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দাবি করেছিলেন, চলতি বছর তারা ইউক্রেনের কয়েক হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করে নিয়েছেন। তবে, ওয়াশিংটনভিত্তিক সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার বলেছে, আসলে মাত্র ৩৪৩৪ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল হয়েছে, যা পুতিনের দাবি থেকে কম।