০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
২৩ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ: বাংলাদেশের অর্থনীতি ঝুঁকিতে নূরুল ইসলাম মনি ত্রয়োদশ সংসদের চীফ হুইপ নিযুক্ত ডুবোচর ও বর্জ্যে ইলিশহীন পায়রা, সংকটে ১৪,৬৮৯ জেলে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সৌজন্য সাক্ষাৎ নরসিংদীতে কিশোরী ধর্ষণ ও হত্যা: এজাহারভুক্ত আরও এক আসামি গ্রেফতার মিশরের প্রেসিডেন্ট আল-সিসি তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী: নিজেকে দক্ষ ও মানবিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে গড়ে তুলুন মধ্যপ্রাচ্য সংকটে আটকা পড়া প্রবাসীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জয়পুরহাটে আমন ধানের লোকসান গুনছে কৃষকরা

চলমান অগ্রহায়ণ মাসে কৃষকেরা আমন ধান ঘরে তোলার জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতি বছর এই সময়ে সারাদেশের মতোই জয়পুরহাটে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ধুম পড়ে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার আমন মাঠগুলো এখন সোনালি রঙে ঝলমল করছে, যা দেখে কৃষকেরা ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আধুনিক কৃষি যন্ত্রের ব্যবহারে অনেক কৃষক মাঠে ধান কাটা, মাড়াই করছে, আবার কেউ কেউ বাড়ির উঠানে ধান মাড়াইয়ের কাজ করছেন।

তবে, এ বছর অসময়ের বৃষ্টি, নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও তুষারঝড়ের কারণে আমন ধানের ফলনে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কিছু এলাকায়, বিশেষ করে কালাই উপজেলায়, অগ্রিম ধানের বাম্পার ফলন হলেও বেশিরভাগ এলাকার ফলন কম হয়েছে। বর্তমানে প্রতি বিঘায় ফলন হয়েছে ১৬ থেকে ১৮ মন, যা গত বছরের চেয়ে চার থেকে ছয় মন কম। বাজারে ধানের দাম কম থাকায় অনেক কৃষক অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই জেলায় মোট আমন ধান চাষ হয়েছে ৭০ হাজার ৯৫ হেক্টর জমিতে। তবে ঘূর্ণিঝড় ও অসময়ের বৃষ্টিপাতে ১১৩ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চাষের ক্ষেত্র কমে দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ৯৮২ হেক্টরে। বিঘাপ্রতি ধানের ফলন দাঁড়িয়েছে ১৬ থেকে ১৮ মন, যা গত বছর থেকে চার থেকে ছয় মন কম।

সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠগুলো ঘুরে দেখা যায়, দিগন্ত বিস্তৃত সোনালী ধানের মাঠে বাতাসে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্নের ক্ষেতে। চারদিকে মধুর সোনালী গন্ধের প্রশস্ততা, এবং ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ধুম বেশ চোখে পড়ছে। বর্তমানে নবান্নের উৎসবে আমন ধান কাটা-মাড়াই উৎসাহের সঙ্গে চলমান। সকলেই ধান ঘরে তোলার জন্য উচ্ছ্বসিত, বাড়িতে ও কৃষি জমিতে ধান রেখে ধানমাড়াই খরচ চালাচ্ছেন। পুরো মৌসুমে ধান কাটা ও মাড়াই কার্যক্রম এখন তুঙ্গে পৌঁছেছে, যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কৃষকের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি করেছে।

সদর উপজেলার সোটাহার ধারকী গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, এবার আমি ৮ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছিলাম। তবে, গত বছরের তুলনায় প্রতি বিঘায় ধান কম হয়েছে চার থেকে ছয় মন। এর ওপর বাজারে ধানের দাম কম থাকায়, প্রতি বিঘা ধান বিক্রি করে প্রায় পাঁচ হাজার টাকার ক্ষতি হতে চলছে।

কালাই উপজেলার পাঁচগ্রামের কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন, আমি এই বছর ১০ বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছি। ধান ঘরে তোলার জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা প্রতি বিঘায়, কিন্তু ধান বিক্রি করে মুনাফা পাওয়ার কথা ছেড়ে এখন পর্যন্ত হয়ত কিছুটা লাভ হয়নি, বরং লাভ থেকে অনেক দূরে। বাজারে বর্তমানে মোটা আমন ধান প্রতি মণে ১২০০ টাকা, আর চিকন ধান বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৩০০ টাকা মণে।

জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, এবার জেলায় মোট আউটে ধান উৎপাদনের আশাবাদ রাখা হচ্ছে ৩ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন। তবে দাম কম থাকায় কৃষকদের জন্য এই মৌসুম শেষের দিকে ধান বিক্রি করে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার কিছু পরামর্শ দেন তিনি।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

২৩ কোটি টাকা মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

জয়পুরহাটে আমন ধানের লোকসান গুনছে কৃষকরা

প্রকাশিতঃ ০১:২২:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

চলমান অগ্রহায়ণ মাসে কৃষকেরা আমন ধান ঘরে তোলার জন্য ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতি বছর এই সময়ে সারাদেশের মতোই জয়পুরহাটে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ধুম পড়ে যায়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। জেলার বিস্তীর্ণ এলাকার আমন মাঠগুলো এখন সোনালি রঙে ঝলমল করছে, যা দেখে কৃষকেরা ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। আধুনিক কৃষি যন্ত্রের ব্যবহারে অনেক কৃষক মাঠে ধান কাটা, মাড়াই করছে, আবার কেউ কেউ বাড়ির উঠানে ধান মাড়াইয়ের কাজ করছেন।

তবে, এ বছর অসময়ের বৃষ্টি, নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও তুষারঝড়ের কারণে আমন ধানের ফলনে ব্যাপক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। কিছু এলাকায়, বিশেষ করে কালাই উপজেলায়, অগ্রিম ধানের বাম্পার ফলন হলেও বেশিরভাগ এলাকার ফলন কম হয়েছে। বর্তমানে প্রতি বিঘায় ফলন হয়েছে ১৬ থেকে ১৮ মন, যা গত বছরের চেয়ে চার থেকে ছয় মন কম। বাজারে ধানের দাম কম থাকায় অনেক কৃষক অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এই জেলায় মোট আমন ধান চাষ হয়েছে ৭০ হাজার ৯৫ হেক্টর জমিতে। তবে ঘূর্ণিঝড় ও অসময়ের বৃষ্টিপাতে ১১৩ হেক্টর জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চাষের ক্ষেত্র কমে দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ৯৮২ হেক্টরে। বিঘাপ্রতি ধানের ফলন দাঁড়িয়েছে ১৬ থেকে ১৮ মন, যা গত বছর থেকে চার থেকে ছয় মন কম।

সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মাঠগুলো ঘুরে দেখা যায়, দিগন্ত বিস্তৃত সোনালী ধানের মাঠে বাতাসে দোল খাচ্ছে কৃষকের স্বপ্নের ক্ষেতে। চারদিকে মধুর সোনালী গন্ধের প্রশস্ততা, এবং ধান কাটা ও মাড়াইয়ের ধুম বেশ চোখে পড়ছে। বর্তমানে নবান্নের উৎসবে আমন ধান কাটা-মাড়াই উৎসাহের সঙ্গে চলমান। সকলেই ধান ঘরে তোলার জন্য উচ্ছ্বসিত, বাড়িতে ও কৃষি জমিতে ধান রেখে ধানমাড়াই খরচ চালাচ্ছেন। পুরো মৌসুমে ধান কাটা ও মাড়াই কার্যক্রম এখন তুঙ্গে পৌঁছেছে, যা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কৃষকের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি করেছে।

সদর উপজেলার সোটাহার ধারকী গ্রামের কৃষক লুৎফর রহমান বলেন, এবার আমি ৮ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছিলাম। তবে, গত বছরের তুলনায় প্রতি বিঘায় ধান কম হয়েছে চার থেকে ছয় মন। এর ওপর বাজারে ধানের দাম কম থাকায়, প্রতি বিঘা ধান বিক্রি করে প্রায় পাঁচ হাজার টাকার ক্ষতি হতে চলছে।

কালাই উপজেলার পাঁচগ্রামের কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন, আমি এই বছর ১০ বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছি। ধান ঘরে তোলার জন্য খরচ হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার টাকা প্রতি বিঘায়, কিন্তু ধান বিক্রি করে মুনাফা পাওয়ার কথা ছেড়ে এখন পর্যন্ত হয়ত কিছুটা লাভ হয়নি, বরং লাভ থেকে অনেক দূরে। বাজারে বর্তমানে মোটা আমন ধান প্রতি মণে ১২০০ টাকা, আর চিকন ধান বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৩০০ টাকা মণে।

জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ এ কে এম সাদিকুল ইসলাম বলেন, এবার জেলায় মোট আউটে ধান উৎপাদনের আশাবাদ রাখা হচ্ছে ৩ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টন। তবে দাম কম থাকায় কৃষকদের জন্য এই মৌসুম শেষের দিকে ধান বিক্রি করে ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার কিছু পরামর্শ দেন তিনি।