১০:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেতন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মাকছুদুরের পদত্যাগ রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করলেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি আইন অনুমোদন: আসিফ নজরুল আজও শিক্ষার্থীদের অবরোধ: রাজধানীতে অচলাবস্থা ও জনভোগান্তি ঢাকা ওয়াশিংটনের সাথে মার্কিন ভিসা স্থগিতের বিষয়ে যোগাযোগ করছে খালেদা জিয়ার নেতৃত্ব উপমহাদেশে এক অনন্য দৃষ্টান্ত: মার্শা বার্নিকাট প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান: তরুণদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন অনলাইনে প্রতারণা: ঢাকায় ৫ চীনা নাগরিকসহ গ্রেপ্তার ৮, জব্দ ৫১ হাজার সিম প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচন কেন্দ্রিক ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চেয়ে আবেদন আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

গজারিয়ায় আবাসিক হোটেলের আড়ালে দেহ ব্যবসা অভিযান

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা ভাটেরচর নতুন রাস্তার এলাকায় অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেল থেকে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন ভাটেরচর নতুন রাস্তা এলাকায় অবস্থিত ‘ফ্রেশ ভাটেরচর গেস্ট হাউস এন্ড রেস্টুরেন্টে’ এই অভিযান চালানো হয়।

আটককৃতরা হলেন, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার তমা আক্তার (২৮), জামালপুরের সাথী আক্তার (২০), পটুয়াখালীর শামীমা আক্তার (২২), গজারিয়ার বর্ষা (১৮) ও সুমন মিয়া (২৫)।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, বাড়িটির মালিক স্থানীয় রাসেল মিয়া। তবে কিছু মাস আগে নারায়ণগঞ্জের দেলোয়র হোসেন নামে একজন বাড়িটি ভাড়া নিয়ে হোটেল ব্যবসা শুরু করেন। এই হোটেলে নিয়মিত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের প্রবেশ ও আসা-যাওয়া লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে রাতে সেখানে ছেলে-মেয়েদের অবাধ বিচরণ ছিল। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও পুলিশ কয়েকজনের কাছে জানতে পারেন, এই হোটেলে দেহ ব্যবসা চলে।

রোববার দুপুরে কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে গেলে অনুপ্রবেশ করেন এবং হাতেনাতে তিন নারী যৌনকর্মী ও একজন যুবক-যুবতী যুগলকে ধরে ফেলেন। এ সময় হোটেলের পরিচালনাকারীরা ভবনের প্রধান গেট তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে তালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে। এই ঘটনায় ওই পাঁচজনকে থানায় নিয়ে আসে।

স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, ‘দিনের বেলাতে আমরা এই হোটেলে খুব কমই দেখতে পেতাম। ভাবতাম কোনো অফিস বা অন্যান্য ব্যবসা হতে পারে। তবে পরে বুঝতে পারলাম, এখানে দেহব্যবসা ও অবৈধ কার্যকলাপ চলে। যারা এই অপকর্মে জড়িত, তাদের কঠোর বিচার চাই।’

অন্য এক বাসিন্দা, মাওলানা আল আমিন বলেন, ‘গজারিয়ায় এই অপকর্মের মূল ভিত্তি রোপনকারীদের বিরুদ্ধে আমরা আলেম-উলামা এককণ্ঠে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এই ধরনের অপকর্ম গজারিয়ার মাটিতে সহ্য করব না।’

অভিযুক্ত বাড়ির মালিক রাসেল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, ‘স্থানীয়দের তত্ত্বাবধানে আমরা ওই হোটেলটিতে অভিযান চালাই। সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকায় পাঁচজনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে তিনজন পেশাদার যৌনকর্মী এবং দুজন প্রেমিক-প্রেমিকা। দণ্ডবিধির ২৯০ ধারায় তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।’

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

শেরপুরে বিএনপি নেতাদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার সিদ্ধান্ত

গজারিয়ায় আবাসিক হোটেলের আড়ালে দেহ ব্যবসা অভিযান

প্রকাশিতঃ ০১:২২:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ নভেম্বর ২০২৫

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা ভাটেরচর নতুন রাস্তার এলাকায় অবস্থিত একটি আবাসিক হোটেল থেকে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন ভাটেরচর নতুন রাস্তা এলাকায় অবস্থিত ‘ফ্রেশ ভাটেরচর গেস্ট হাউস এন্ড রেস্টুরেন্টে’ এই অভিযান চালানো হয়।

আটককৃতরা হলেন, নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার তমা আক্তার (২৮), জামালপুরের সাথী আক্তার (২০), পটুয়াখালীর শামীমা আক্তার (২২), গজারিয়ার বর্ষা (১৮) ও সুমন মিয়া (২৫)।

স্থানীয়রা জানিয়েছে, বাড়িটির মালিক স্থানীয় রাসেল মিয়া। তবে কিছু মাস আগে নারায়ণগঞ্জের দেলোয়র হোসেন নামে একজন বাড়িটি ভাড়া নিয়ে হোটেল ব্যবসা শুরু করেন। এই হোটেলে নিয়মিত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের প্রবেশ ও আসা-যাওয়া লক্ষ্য করা যায়। বিশেষ করে রাতে সেখানে ছেলে-মেয়েদের অবাধ বিচরণ ছিল। স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও পুলিশ কয়েকজনের কাছে জানতে পারেন, এই হোটেলে দেহ ব্যবসা চলে।

রোববার দুপুরে কয়েকজন সাংবাদিক সেখানে গেলে অনুপ্রবেশ করেন এবং হাতেনাতে তিন নারী যৌনকর্মী ও একজন যুবক-যুবতী যুগলকে ধরে ফেলেন। এ সময় হোটেলের পরিচালনাকারীরা ভবনের প্রধান গেট তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ এসে তালা ভেঙে তাদের উদ্ধার করে। এই ঘটনায় ওই পাঁচজনকে থানায় নিয়ে আসে।

স্থানীয় বাসিন্দা কবির হোসেন বলেন, ‘দিনের বেলাতে আমরা এই হোটেলে খুব কমই দেখতে পেতাম। ভাবতাম কোনো অফিস বা অন্যান্য ব্যবসা হতে পারে। তবে পরে বুঝতে পারলাম, এখানে দেহব্যবসা ও অবৈধ কার্যকলাপ চলে। যারা এই অপকর্মে জড়িত, তাদের কঠোর বিচার চাই।’

অন্য এক বাসিন্দা, মাওলানা আল আমিন বলেন, ‘গজারিয়ায় এই অপকর্মের মূল ভিত্তি রোপনকারীদের বিরুদ্ধে আমরা আলেম-উলামা এককণ্ঠে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এই ধরনের অপকর্ম গজারিয়ার মাটিতে সহ্য করব না।’

অভিযুক্ত বাড়ির মালিক রাসেল মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আনোয়ার আলম আজাদ বলেন, ‘স্থানীয়দের তত্ত্বাবধানে আমরা ওই হোটেলটিতে অভিযান চালাই। সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকায় পাঁচজনকে আটক করা হয়। এদের মধ্যে তিনজন পেশাদার যৌনকর্মী এবং দুজন প্রেমিক-প্রেমিকা। দণ্ডবিধির ২৯০ ধারায় তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।’