০৫:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানির প্রয়াণে আজ বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক এলডিসিদের টেকসই উত্তরণে বৈশ্বিক সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান

বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী তার ঘনিষ্ঠজনের হাতে খুন হন: জাতিসংঘ

পৃথিবীর কোথাও না কোথাও প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী তার ঘনিষ্ঠ কারো হাতে খুন হচ্ছেন, এই ভয়ঙ্কর সত্যটি জানিয়েছেন জাতিসংঘ। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা রোধে বিশ্বব্যাপী কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এখনও পরিলক্ষিত হয়নি। এ খবর এএফপি সংবাদ সংস্থার।

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয় এবং নারী সংস্থার যৌথ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে সঙ্গী বা পরিবারের কাছের মানুষদের হাতে নিহত হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার নারী বা মেয়ে। এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে নারীর মৃত্যুর মোট ৬০ শতাংশই হচ্ছে তাদের ঘনিষ্ঠ কারো হাতে, যেমন বাবা, চাচা, মামা, মা বা ভাই। এরপরও, পুরুষের ক্ষেত্রে এই হার খুবই কম—মাত্র ১১ শতাংশ।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৭৭টি দেশের তথ্য ভিত্তিতে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী তার প্রিয়জন বা কাছের ব্যক্তির হাতে মারা যান। এ বছর ২০২৩ এর তুলনায় নিহতের সংখ্যা কিছুটা কম হতে দেখা গেলেও, এর কারণ হলো বিভিন্ন দেশে তথ্য সংগ্রহে অসুবিধা ও বিভ্রান্তি। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতির চিত্র অনেকটাই আলাদা।

প্রতিবেদনে অবাক করা তথ্যও উঠে এসেছে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, নারী ও মেয়েদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, বিশেষ করে তাদের নিজস্ব বাসস্থানে। প্রাচীন ও নতুন সব ধরনের সহিংসতার মধ্যে নারীর জীবন ঝুঁকির বিষয়টি উদ্বেগজনক।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটছে আফ্রিকায়, যেখানে গত বছর প্রায় ২২ হাজার নারী আপনজনের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন।

জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা, সারাহ হেন্ড্রিকস, বলেছেন, “নারী হত্যা একক কোনো ঘটনা নয়, এটি অপ্রতিরোধ্য সহিংসতার ধারাবাহিকতা। আধিপত্য, হুমকি, হয়রানি, এবং অনলাইনে হয়রানি—এসবই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নারীদের ওপর সহিংসতা বেড়েছে। নতুন ধরনের সহিংসতাও সৃষ্টি হয়েছে, যেমন—নারীর অনুমতি ছাড়াই ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ, ডিপফেইক ভিডিও তৈরি ও প্রচার। এতে নারী ও মেয়েদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

হেন্ড্রিকস বলেন, “আমাদের অবশ্যই এমন আইন প্রণয়ন ও কার্যকর করতে হবে, যা অনলাইনে ও অফলাইনে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আগেই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন

বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী তার ঘনিষ্ঠজনের হাতে খুন হন: জাতিসংঘ

প্রকাশিতঃ ১২:০০:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

পৃথিবীর কোথাও না কোথাও প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী তার ঘনিষ্ঠ কারো হাতে খুন হচ্ছেন, এই ভয়ঙ্কর সত্যটি জানিয়েছেন জাতিসংঘ। তারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা রোধে বিশ্বব্যাপী কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এখনও পরিলক্ষিত হয়নি। এ খবর এএফপি সংবাদ সংস্থার।

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক কার্যালয় এবং নারী সংস্থার যৌথ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০২৪ সালে সঙ্গী বা পরিবারের কাছের মানুষদের হাতে নিহত হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার নারী বা মেয়ে। এই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে নারীর মৃত্যুর মোট ৬০ শতাংশই হচ্ছে তাদের ঘনিষ্ঠ কারো হাতে, যেমন বাবা, চাচা, মামা, মা বা ভাই। এরপরও, পুরুষের ক্ষেত্রে এই হার খুবই কম—মাত্র ১১ শতাংশ।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৭৭টি দেশের তথ্য ভিত্তিতে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী তার প্রিয়জন বা কাছের ব্যক্তির হাতে মারা যান। এ বছর ২০২৩ এর তুলনায় নিহতের সংখ্যা কিছুটা কম হতে দেখা গেলেও, এর কারণ হলো বিভিন্ন দেশে তথ্য সংগ্রহে অসুবিধা ও বিভ্রান্তি। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতির চিত্র অনেকটাই আলাদা।

প্রতিবেদনে অবাক করা তথ্যও উঠে এসেছে, যেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, নারী ও মেয়েদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, বিশেষ করে তাদের নিজস্ব বাসস্থানে। প্রাচীন ও নতুন সব ধরনের সহিংসতার মধ্যে নারীর জীবন ঝুঁকির বিষয়টি উদ্বেগজনক।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ধরনের হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটছে আফ্রিকায়, যেখানে গত বছর প্রায় ২২ হাজার নারী আপনজনের হাতে প্রাণ হারিয়েছেন।

জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা, সারাহ হেন্ড্রিকস, বলেছেন, “নারী হত্যা একক কোনো ঘটনা নয়, এটি অপ্রতিরোধ্য সহিংসতার ধারাবাহিকতা। আধিপত্য, হুমকি, হয়রানি, এবং অনলাইনে হয়রানি—এসবই এই হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে নারীদের ওপর সহিংসতা বেড়েছে। নতুন ধরনের সহিংসতাও সৃষ্টি হয়েছে, যেমন—নারীর অনুমতি ছাড়াই ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ, ডিপফেইক ভিডিও তৈরি ও প্রচার। এতে নারী ও মেয়েদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।

হেন্ড্রিকস বলেন, “আমাদের অবশ্যই এমন আইন প্রণয়ন ও কার্যকর করতে হবে, যা অনলাইনে ও অফলাইনে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আগেই অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”