০২:০৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
বেসরকারি খাতের গতিশীলতায় সুদৃঢ় অর্থনীতি গড়াই সরকারের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন ৫০তম বিসিএস লিখিত ফল প্রকাশ: ৬১৬৫ জন উত্তীর্ণ সংসদের চিঠি পেলেই সিদ্ধান্ত: গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে ইসি মাছউদ প্রবাসীদের পাসপোর্ট তথ্য সংশোধনের সময়সীমা ছয় মাস বাড়ল জাতিসংঘে সুপারিশ: বাংলাদেশ ও নেপালের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি সময় বাড়াতে তথ্যমন্ত্রী: শহীদ জিয়ার ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ই অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয় একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার আটটি প্রকল্প অনুমোদন একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকার ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন ম্যানিলায় বাংলাদেশ-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব জোরদারের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

৩৩ বিলিয়নের বাড়তি রিজার্ভ, তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংগ্রহ

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সম্প্রতি ডলার কিনে বাংলাদেশের জন্য নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। চলতি মাসের মধ্যে দেশের বৈদেশিক রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দরজা। বিশেষ করে ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায় এবং ২০২১ সালে তা ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। তবে, সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ কমে ২৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল।

এছাড়াও, প্রবাসী আয় ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। চলতি মাসের ২৯ দিনে দেশে এসেছে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার, এর মধ্যে ডলার আকারে প্রবাসী আয়ে এসেছে ৩০৪ কোটি ডলার। এর ফলে দেশের অর্থনীতিতে ডলার সংকট কমার পাশাপাশি রিজার্ভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত মার্চে একটি রেকর্ডে, প্রবাসী আয় দেশের জন্য সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার হয়ে ছিল। এরপর এই মাসেও প্রবাসী আয় আবারও ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলার প্রবাসীদের থেকে এসেছে। আগের অর্থবছরে, ২০২৩-২৪ সালে এই পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৩৯১ কোটি ডলার। এর ফলে ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশি ঋণও গ্রহণ করছে। গত মঙ্গলবারই রিজার্ভ বেড়ে ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

এছাড়াও, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ২ হাজার ৮৫১ কোটি ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বর্তমানে সাতটি ব্যাংক থেকে ৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার নিলাম পদ্ধতিতে কিনেছে, যেখানে প্রতি ডলার গড়ে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে এসব ডলার কেনা হয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মোট ৩১৩ কোটি ডলার কেনাকাটা সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ডিসেম্বর মাসেই একেকটি মাত্র ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি আর্থিক কেনা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে রিজার্ভ ৩৪ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। তিনি আরও বলেন, এটি হবে দেশের নিজের শক্তি ও সক্ষমতার মাধ্যমে ডলার সংগ্রহের ফল। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা অন্যান্য সংস্থা থেকে ঋণ নয়, বরং আমাদের দেশ থেকে নিজস্বভাবে ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়ানো উচিত। এটি একটি সহজ ও কার্যকর সিদ্ধান্ত।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

চিফ হুইপ: প্রধানমন্ত্রী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছেন

৩৩ বিলিয়নের বাড়তি রিজার্ভ, তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংগ্রহ

প্রকাশিতঃ ১১:৫০:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সম্প্রতি ডলার কিনে বাংলাদেশের জন্য নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। চলতি মাসের মধ্যে দেশের বৈদেশিক রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে, যা গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ দরজা। বিশেষ করে ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো রিজার্ভ ৩৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায় এবং ২০২১ সালে তা ৪৮ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হয়। তবে, সরকারের পতনের সময় রিজার্ভ কমে ২৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল।

এছাড়াও, প্রবাসী আয় ইতিবাচক ধারায় রয়েছে। চলতি মাসের ২৯ দিনে দেশে এসেছে প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার, এর মধ্যে ডলার আকারে প্রবাসী আয়ে এসেছে ৩০৪ কোটি ডলার। এর ফলে দেশের অর্থনীতিতে ডলার সংকট কমার পাশাপাশি রিজার্ভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত মার্চে একটি রেকর্ডে, প্রবাসী আয় দেশের জন্য সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার হয়ে ছিল। এরপর এই মাসেও প্রবাসী আয় আবারও ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মোট ৩ হাজার ৩৩ কোটি ডলার প্রবাসীদের থেকে এসেছে। আগের অর্থবছরে, ২০২৩-২৪ সালে এই পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৩৯১ কোটি ডলার। এর ফলে ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনে বাংলাদেশ ব্যাংক রিজার্ভ বাড়ানোর পাশাপাশি বিদেশি ঋণও গ্রহণ করছে। গত মঙ্গলবারই রিজার্ভ বেড়ে ৩ হাজার ৩১৮ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

এছাড়াও, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ২ হাজার ৮৫১ কোটি ডলার। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বর্তমানে সাতটি ব্যাংক থেকে ৮ কোটি ৯০ লাখ ডলার নিলাম পদ্ধতিতে কিনেছে, যেখানে প্রতি ডলার গড়ে ১২২ টাকা ৩০ পয়সা দরে এসব ডলার কেনা হয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে মোট ৩১৩ কোটি ডলার কেনাকাটা সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ডিসেম্বর মাসেই একেকটি মাত্র ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি আর্থিক কেনা হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘ডিসেম্বরের মধ্যে রিজার্ভ ৩৪ থেকে ৩৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে। তিনি আরও বলেন, এটি হবে দেশের নিজের শক্তি ও সক্ষমতার মাধ্যমে ডলার সংগ্রহের ফল। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা অন্যান্য সংস্থা থেকে ঋণ নয়, বরং আমাদের দেশ থেকে নিজস্বভাবে ডলার কিনে রিজার্ভ বাড়ানো উচিত। এটি একটি সহজ ও কার্যকর সিদ্ধান্ত।