০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
অনলাইন জুয়ার লেনদেনে দিনে ৫ কোটি: টঙ্গী–কুমিল্লায় অভিযানে ছয় গ্রেফতার বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী পরিবহন-লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ে তুলুন পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী সৌদি আরব শিশুদের মানবিক গড়ে তোলায় শিক্ষকদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সৌদি আরব বাংলাদেশে পরিবহন, লজিস্টিকস ও সামুদ্রিক খাতে বিনিয়োগে আগ্রহী প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান: শিশুদের মানবিকভাবে গড়ুন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত নগর গড়তে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মানব পাচার ও প্রযুক্তি অপব্যবহার রোধে নতুন আইন কার্যকর হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ইউরোপে ইসরাইলি পণ্য বর্জনের ব্যাপক গণআন্দোলন

ইউরোপ মহাদেশে ইসরাইলি পণ্যবর্জনের চল এখন কেবল সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বা রাস্তাঘাটের প্রতিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে দেশের কর্মরত মানুষ, কূটনৈতিক পর্যায় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। আয়ারল্যান্ডের একটি সুপারমার্কেটে একজন কর্মী তাঁর ব্যক্তিগত নৈতিক অবস্থানে থেকে ইসরাইলি ফল ও সবজি বিক্রির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান, যা মূলত গাজায় চলমান ইসরাইলি সামরিক অভিযানের প্রতিবাদ। তার এই আন্দোলনের কারণে সেটি সাময়িকভাবে বরখাস্ত হলেও, ট্রেড ইউনিয়ন ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক চাপের মুখে কর্তৃপক্ষ তাকে পুনঃনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। এই ঘটনা অন্য কর্মীদের জন্য এক প্রেরণা হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যেখানে তারা নৈতিক কারণে ইসরাইলি পণ্য বাজারে নিয়ে আসা বা বিক্রি ঠেকাতে স্বেচ্ছাচারিতা করতে পারেন।

বর্তমানে আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের মতো প্রভাবশালী ট্রেড ইউনিয়নগুলো এমন প্রস্তাব পাস করেছে, যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনো কর্মীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ইসরাইলি পণ্য ব্যবহার বা বিক্রির জন্য জোর দেওয়া যাবে না। এই আন্দোলনের ফলস্বরূপ যুক্তরাজ্যের ‘কো-অপারেটিভ’ ও ইতালির ‘কো-অপ অ্যালেঞ্জা ৩.০’ নামের বড় শপিং চেইনগুলো গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে বেশ কিছু ইসরাইলি পণ্য তাদের বিক্রয় তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে নিয়ে এসেছে। মানবাধিকার কর্মীরা এই পরিস্থিতিকে ১৯৮৪ সালে আয়ারল্যান্ডের ‘ডান স্টোরস’ আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, যেখানে বর্ণবাদবিরোধী এই আন্দোলনের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত করা হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এখন ইসরাইলের বিরুদ্ধে একই রকম নাগরিক ও পেশাজীবী নেতৃত্বাধীন চাপ আরও জোরালো এবং ফলপ্রসূ হয়ে উঠছে।

রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও ইসরাইল বড় ধরনের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। স্পেন ও স্লোভেনিয়া ইতোমধ্যে দখলকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরাইলি বসতি থেকে আসা পণ্য নিষিদ্ধ করেছে। স্লোভেনিয়া ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে এবং স্পেন ২০২৬ সালের শুরু থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। এমনকি নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেও ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভের পর এই দেশের সংসদ সদস্যরা অবৈধ বসতির পণ্য নিষিদ্ধের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। আয়ারল্যান্ডে বর্তমানে ‘অকিউপাইড টেরিটরি বিল’ পাসের প্রক্রিয়া চলমান, যা কার্যকর হলে ইসরাইলি বসতির পণ্য আমদানি পুরোপুরি নিষিদ্ধ হবে। তবে কিছু রাজনীতিবিদ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি লবিস্টদের চাপের কারণেই এই বিল পাসে বিলম্ব হচ্ছে।

অন্যদিকে, এই বর্জন আন্দোলন রুখতে ইসরাইল সরকার ও তাদের পন্থিনী বিভিন্ন সংগঠন আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সক্রিয়তা চালাচ্ছে। তারা সতর্ক করে দিচ্ছে যে, ইসরাইলি পণ্য বর্জন করলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ইউরোপের ব্যবসায়িক স্বার্থক্ষুণ্ণ হতে পারে। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া কিছু নথিপত্রে দেখা গেছে, ইসরাইলের কৌশলগত বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইউরোপে এই বর্জনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ ও দমন করতে লক্ষাধিক ইউরো ব্যয় করে বিভিন্ন আইনী সংস্থা নিয়োগ করেছে। পাশাপাশি, জার্মানি ও অন্যান্য দেশের বিশেষ করে ‘ইহুদি বিদ্বেষ’ হিসেবে এ আন্দোলনকে চিহ্নিত করে এর অর্থায়ন বন্ধের দাবি উঠছে। এরইমধ্যে ইউরোপের বাজার ও রাজনীতিতে এই আন্দোলন বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, যেখানে ইসরাইলের জন্য নতুন করে বড় ধরনের মোকাবিলা শুরু হয়েছে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

ইউরোপে ইসরাইলি পণ্য বর্জনের ব্যাপক গণআন্দোলন

প্রকাশিতঃ ১১:৫৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ইউরোপ মহাদেশে ইসরাইলি পণ্যবর্জনের চল এখন কেবল সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বা রাস্তাঘাটের প্রতিবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এই আন্দোলন ব্যাপক আকার ধারণ করে দেশের কর্মরত মানুষ, কূটনৈতিক পর্যায় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। আয়ারল্যান্ডের একটি সুপারমার্কেটে একজন কর্মী তাঁর ব্যক্তিগত নৈতিক অবস্থানে থেকে ইসরাইলি ফল ও সবজি বিক্রির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান, যা মূলত গাজায় চলমান ইসরাইলি সামরিক অভিযানের প্রতিবাদ। তার এই আন্দোলনের কারণে সেটি সাময়িকভাবে বরখাস্ত হলেও, ট্রেড ইউনিয়ন ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক চাপের মুখে কর্তৃপক্ষ তাকে পুনঃনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। এই ঘটনা অন্য কর্মীদের জন্য এক প্রেরণা হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যেখানে তারা নৈতিক কারণে ইসরাইলি পণ্য বাজারে নিয়ে আসা বা বিক্রি ঠেকাতে স্বেচ্ছাচারিতা করতে পারেন।

বর্তমানে আয়ারল্যান্ড, যুক্তরাজ্য ও নরওয়ের মতো প্রভাবশালী ট্রেড ইউনিয়নগুলো এমন প্রস্তাব পাস করেছে, যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, কোনো কর্মীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ইসরাইলি পণ্য ব্যবহার বা বিক্রির জন্য জোর দেওয়া যাবে না। এই আন্দোলনের ফলস্বরূপ যুক্তরাজ্যের ‘কো-অপারেটিভ’ ও ইতালির ‘কো-অপ অ্যালেঞ্জা ৩.০’ নামের বড় শপিং চেইনগুলো গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদে বেশ কিছু ইসরাইলি পণ্য তাদের বিক্রয় তালিকা থেকে স্থায়ীভাবে সরিয়ে নিয়ে এসেছে। মানবাধিকার কর্মীরা এই পরিস্থিতিকে ১৯৮৪ সালে আয়ারল্যান্ডের ‘ডান স্টোরস’ আন্দোলনের সঙ্গে তুলনা করে বলেছেন, যেখানে বর্ণবাদবিরোধী এই আন্দোলনের মাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিত করা হয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, এখন ইসরাইলের বিরুদ্ধে একই রকম নাগরিক ও পেশাজীবী নেতৃত্বাধীন চাপ আরও জোরালো এবং ফলপ্রসূ হয়ে উঠছে।

রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও ইসরাইল বড় ধরনের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে। স্পেন ও স্লোভেনিয়া ইতোমধ্যে দখলকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরাইলি বসতি থেকে আসা পণ্য নিষিদ্ধ করেছে। স্লোভেনিয়া ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে এবং স্পেন ২০২৬ সালের শুরু থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে। এমনকি নেদারল্যান্ডসের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেও ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভের পর এই দেশের সংসদ সদস্যরা অবৈধ বসতির পণ্য নিষিদ্ধের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। আয়ারল্যান্ডে বর্তমানে ‘অকিউপাইড টেরিটরি বিল’ পাসের প্রক্রিয়া চলমান, যা কার্যকর হলে ইসরাইলি বসতির পণ্য আমদানি পুরোপুরি নিষিদ্ধ হবে। তবে কিছু রাজনীতিবিদ মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি লবিস্টদের চাপের কারণেই এই বিল পাসে বিলম্ব হচ্ছে।

অন্যদিকে, এই বর্জন আন্দোলন রুখতে ইসরাইল সরকার ও তাদের পন্থিনী বিভিন্ন সংগঠন আন্তর্জাতিক পর্যায়েও সক্রিয়তা চালাচ্ছে। তারা সতর্ক করে দিচ্ছে যে, ইসরাইলি পণ্য বর্জন করলে মার্কিন কোম্পানিগুলোর সঙ্গে ইউরোপের ব্যবসায়িক স্বার্থক্ষুণ্ণ হতে পারে। সম্প্রতি ফাঁস হওয়া কিছু নথিপত্রে দেখা গেছে, ইসরাইলের কৌশলগত বিষয়ক মন্ত্রণালয় ইউরোপে এই বর্জনের বিষয়টি পর্যবেক্ষণ ও দমন করতে লক্ষাধিক ইউরো ব্যয় করে বিভিন্ন আইনী সংস্থা নিয়োগ করেছে। পাশাপাশি, জার্মানি ও অন্যান্য দেশের বিশেষ করে ‘ইহুদি বিদ্বেষ’ হিসেবে এ আন্দোলনকে চিহ্নিত করে এর অর্থায়ন বন্ধের দাবি উঠছে। এরইমধ্যে ইউরোপের বাজার ও রাজনীতিতে এই আন্দোলন বড় চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, যেখানে ইসরাইলের জন্য নতুন করে বড় ধরনের মোকাবিলা শুরু হয়েছে।