০৭:১৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ঈদের আগেই পাইলট শুরু: ইমাম-পুরোহিতরা পাচ্ছেন মাসিক সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা বাজারে ভোজ্যতেলের কৃত্রিম সংকট: ভোক্তারা দিচ্ছেন বেশি দাম তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত এখনও করা হয়নি: জ্বালানিমন্ত্রী ঢাকা ওয়াসার এমডি আব্দুস সালাম ব্যাপারী অপসারণ, এক ঘণ্টার মধ্যে সিআইডি’র অর্থপাচার তদন্ত শুরু সোমবার ফ্যামিলি কার্ডের সংবাদ সম্মেলন, মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী আগামী ১৬ মার্চ দেশের খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন ঈদের ছুটির মাঝে ১৮ মার্চেও সরকারি ছুটি ঘোষণা হাইকোর্টে চার মামলায় জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক খালেদা জিয়া পেলেন ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা, জাইমা রহমান গ্রহণ করলেন খালেদা জিয়াকে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ সম্মাননা, পুরস্কার গ্রহণ করেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

জ্বালানি সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত দামে বিক্রি: ব্যবসায়ীদের নানা অভিযোগ

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের উপর অস্থিতিশীলতার কারণে দেশে জ্বালানি সংকটের ধুম পড়ে গেছে। এর মধ্যে ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাত দিয়ে অতিরিক্ত দাম হাতিয়ে নিচ্ছেন, যা সাধারণ ভোক্তাদের অসহনীয় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বলছেন, অনেক ব্যবসায়ী প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে মজুদ করেছেন, যার ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই পরিস্থিতি চলছে মহামারির মতো। ফলস্বরূপ, যানবাহন চালক, কৃষক, শ্রমিক, ইঞ্জিনচালিত নৌকা মালিক ও সাধারণ ভোক্তারা পড়েছেন বিপদে।

কুমিল্লার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, কোথাও কোথাও পেট্রোল ও অকটেনের স্বল্পতা দেখা গেছে। তেল নিতে আসা অনেক গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালককে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। কেউ কেউ নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি তেল নিতে চাচ্ছেন, যা আইনত এরূপ নয়। এর ফলে, অনেক যানবাহন আবার তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। চকবাজারের নুরুল হুদা পাম্পের ম্যানেজার ইকবাল হোসেন বলেন, সরকারি নির্দেশনা মেনে অনেক চালকই তেল নিচ্ছেন না, কিন্তু অনেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বেশি নিতে আগ্রহী।

আরেকদিকে, চালকদের অভিযোগ, নির্ধারিত পরিমাণের বেশি তেল দেওয়া হয় না বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। বাহন চালক আবদুল আওয়াল বলেন, লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অনেক সময় অপার্থিব কষ্টে পড়তে হচ্ছে, কারণ পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ থাকলেও সিন্ডিকেটের জন্য খামখেয়ালিভাবে সংকটের সৃষ্টি করা হয়।

অন্যদিকে, পাম্প মালিকরাও দাবি করেন, হঠাৎ করে অতিরিক্ত তেল নেওয়ার প্রবণতা বেড়ে গেছে, যার ফলে সরবরাহের চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে তারা বলছেন, সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারির ফলে পাচার রোধে সহযোগিতা হবে।

এছাড়া মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে তেলের সংকট। অধিকাংশ কৃষক শুধু সেচের জন্য ডিজেল ব্যবহার করেন। চরাঞ্চলে নৌকা চালানোর জন্যও এই জ্বালানি অপরিহার্য। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, বেশি দামে তেল কিনলেও সরবরাহের অভাবে তাদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন বাজারে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে তেল কিনতে চাচ্ছেন গ্রাহকরা, কারণ দেখেছেন, বেশি দাম দিলেও মিলছে তেল।

গাংনী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কৃষকরা জানান, ডিজেল না থাকায় তাদের ধান চাষ ও সেচের কাজ চাপের মধ্যে পড়েছে। অনেক খুচরা দোকানও তেল না থাকায় তাদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে, জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানাচ্ছেন, কেউ সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মেহেরপুরে দেখা গেছে, অধিক তেল মজুতের কারণে বেশিরভাগ পাম্প বন্ধ রেখেছেন মালিকরা। ফলে সাধারণ ক্রেতারা সীমিত সংখ্যক পাম্প থেকে তেল সংগ্রহে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষকরা উদ্বিগ্ন, এই অবস্থা চলতে থাকলে বোরো ধানের ক্ষয়ক্ষতি হবে বলে তাদের আশঙ্কা।

চাষি ফয়সাল উদ্দিন ও কাওছার আলী জানান, তারা যথাক্রমে ১০ বিঘা ও ২ বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপণের জন্য অপ্রতুল পানি নিশ্চিত করতে পারছেন না। ডিজেল সংকটের কারণে সেচের কাজও ব্যাহত হচ্ছে। ট্রাকচালকরাও অসুবিধার মধ্যে পড়েছেন, জেনে গেছেন তারা নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে বেশি তেল নিতে পারবেন না, যা বড় সমস্যা সৃষ্টি করছে।

অবশেসে, অর্থনৈতিক ও কৃষির ক্ষতি ঠেকাতে সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে নানা পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হচ্ছে না সরকার। তবে নিশ্চিত করেছেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে তীব্র আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকছে প্রশাসন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

ঈদের আগেই পাইলট শুরু: ইমাম-পুরোহিতরা পাচ্ছেন মাসিক সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা

জ্বালানি সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত দামে বিক্রি: ব্যবসায়ীদের নানা অভিযোগ

প্রকাশিতঃ ১১:৪৮:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের উপর অস্থিতিশীলতার কারণে দেশে জ্বালানি সংকটের ধুম পড়ে গেছে। এর মধ্যে ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাত দিয়ে অতিরিক্ত দাম হাতিয়ে নিচ্ছেন, যা সাধারণ ভোক্তাদের অসহনীয় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তারা বলছেন, অনেক ব্যবসায়ী প্রয়োজনের তুলনায় বেশি তেল কিনে মজুদ করেছেন, যার ফলে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই পরিস্থিতি চলছে মহামারির মতো। ফলস্বরূপ, যানবাহন চালক, কৃষক, শ্রমিক, ইঞ্জিনচালিত নৌকা মালিক ও সাধারণ ভোক্তারা পড়েছেন বিপদে।

কুমিল্লার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, কোথাও কোথাও পেট্রোল ও অকটেনের স্বল্পতা দেখা গেছে। তেল নিতে আসা অনেক গাড়ি ও মোটরসাইকেল চালককে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। কেউ কেউ নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বেশি তেল নিতে চাচ্ছেন, যা আইনত এরূপ নয়। এর ফলে, অনেক যানবাহন আবার তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। চকবাজারের নুরুল হুদা পাম্পের ম্যানেজার ইকবাল হোসেন বলেন, সরকারি নির্দেশনা মেনে অনেক চালকই তেল নিচ্ছেন না, কিন্তু অনেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বেশি নিতে আগ্রহী।

আরেকদিকে, চালকদের অভিযোগ, নির্ধারিত পরিমাণের বেশি তেল দেওয়া হয় না বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, যার ফলে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। বাহন চালক আবদুল আওয়াল বলেন, লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অনেক সময় অপার্থিব কষ্টে পড়তে হচ্ছে, কারণ পর্যাপ্ত তেল সরবরাহ থাকলেও সিন্ডিকেটের জন্য খামখেয়ালিভাবে সংকটের সৃষ্টি করা হয়।

অন্যদিকে, পাম্প মালিকরাও দাবি করেন, হঠাৎ করে অতিরিক্ত তেল নেওয়ার প্রবণতা বেড়ে গেছে, যার ফলে সরবরাহের চাপ তৈরি হচ্ছে। তবে তারা বলছেন, সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারির ফলে পাচার রোধে সহযোগিতা হবে।

এছাড়া মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় কৃষকদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়েছে তেলের সংকট। অধিকাংশ কৃষক শুধু সেচের জন্য ডিজেল ব্যবহার করেন। চরাঞ্চলে নৌকা চালানোর জন্যও এই জ্বালানি অপরিহার্য। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, বেশি দামে তেল কিনলেও সরবরাহের অভাবে তাদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন বাজারে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে তেল কিনতে চাচ্ছেন গ্রাহকরা, কারণ দেখেছেন, বেশি দাম দিলেও মিলছে তেল।

গাংনী উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কৃষকরা জানান, ডিজেল না থাকায় তাদের ধান চাষ ও সেচের কাজ চাপের মধ্যে পড়েছে। অনেক খুচরা দোকানও তেল না থাকায় তাদের কাজ ব্যাহত হচ্ছে। এদিকে, জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর জানাচ্ছেন, কেউ সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মেহেরপুরে দেখা গেছে, অধিক তেল মজুতের কারণে বেশিরভাগ পাম্প বন্ধ রেখেছেন মালিকরা। ফলে সাধারণ ক্রেতারা সীমিত সংখ্যক পাম্প থেকে তেল সংগ্রহে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষকরা উদ্বিগ্ন, এই অবস্থা চলতে থাকলে বোরো ধানের ক্ষয়ক্ষতি হবে বলে তাদের আশঙ্কা।

চাষি ফয়সাল উদ্দিন ও কাওছার আলী জানান, তারা যথাক্রমে ১০ বিঘা ও ২ বিঘা জমিতে বোরো ধান রোপণের জন্য অপ্রতুল পানি নিশ্চিত করতে পারছেন না। ডিজেল সংকটের কারণে সেচের কাজও ব্যাহত হচ্ছে। ট্রাকচালকরাও অসুবিধার মধ্যে পড়েছেন, জেনে গেছেন তারা নির্দিষ্ট পরিমাণের চেয়ে বেশি তেল নিতে পারবেন না, যা বড় সমস্যা সৃষ্টি করছে।

অবশেসে, অর্থনৈতিক ও কৃষির ক্ষতি ঠেকাতে সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে নানা পদক্ষেপ নিতে সক্ষম হচ্ছে না সরকার। তবে নিশ্চিত করেছেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে তীব্র আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রস্তুত থাকছে প্রশাসন।