ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে তীব্রভাবে বাড়া উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে আঞ্চলিক কয়েকটি দেশের সক্রিয় মধ্যস্থতার ফলে। পাকিস্তান, মিসর, তুরস্ক ও কাতারের সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তির মধ্যে চলমান সংঘাতের তাপ কিছুটা নামার চিহ্ন পাওয়া গেছে।
যদিও তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে এখনো সরাসরি টেবিল বৈঠক হয়নি, এসব দেশ দুপক্ষের কাছে বার্তা পৌঁছে দিতে ও বোঝাপড়া তৈরিতে ব্যস্ত। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, ওই চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা নিয়মিতভাবে দুই পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে শান্তির সম্ভাবনা সম্প্রসারণের চেষ্টা করছেন। তাঁরা পৃথকভাবে মার্কিন প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করে উত্তেজনার পারদ নামানোর উপায় খুঁজছেন।
এ কূটনৈতিক অগ্রগতির মধ্যে এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, সাম্প্রতিক আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে এবং সংঘাত নিরসনে একটি অনুকূল পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।
তবে হোয়াইট হাউসের এই দাবি পুরোপুরি মেনে নেয়নি তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি যোগাযোগ হয়নি। তাদের ভাষ্য—কিছু আঞ্চলিক বন্ধু রাষ্ট্র নিজ উদ্যোগে উত্তেজনা কমাতে কাজ করছে, এবং যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগত ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় সাময়িকভাবে তাদের সামরিক কৌশল পরিবর্তন করতে পারে।
ঘটনাক্রমের পূর্বে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিল। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও মার্কিন ও মিত্র শক্তিগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় বড় ধরনের হামলার হুমকি দিতেই উত্তেজনা তীব্র হয়। এই উত্তেজনা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলতে থাকে—তেলের দাম উঠে যায় এবং আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দেয়।
সামনেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার প্রয়াস হিসেবে গত রবিবার মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি যুক্তরাষ্ট্র, ইরান, পাকিস্তান, তুরস্ক ও কাতারের প্রতিনিধিদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে তিনি অঞ্চলজুড়ে সংঘাত না ছড়িয়ে পড়ার জন্য সব পক্ষকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানান।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিনের আস্থা সংকট থাকলেও পাকিস্তান ও তুরস্কের মতো মধ্যবর্তী দেশগুলোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সরাসরি উচ্চ পর্যায়ের সংলাপ না হলেও এই ধরনের পরোক্ষ মধ্যস্থতা বড় ধরনের প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক ধ্বস ঠেকাতে সহায়ক হতে পারে।
এখনও বড় কোনো সামরিক অভিযানের খবর না পাওয়ায় আপাতত উত্তেজনা কিছুটা কমে এসেছে—তবে স্থায়ী সমাধানের জন্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক মনোযোগ এখন কয়েকদিনের কূটনৈতিক মোড়ের দিকে, যা নির্ধারণ করবে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা কতটা সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।
শ্রীমঙ্গল২৪ ডেস্ক 























