১০:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
ত্রিমুখী চ্যালেঞ্জে অর্থনীতি: জ্বালানি, মূল্যস্ফীতি ও ডলারের চাপ জ্বালানি সঙ্কটে অফিস সময় বদল — সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা জ্বালানি সাশ্রয়ে রাত ৮টার মধ্যে দোকান-শপিংমল বন্ধের ঘোষণা হরমুজ এড়িয়ে ইয়ানবু থেকে বিকল্প পথে ১ লক্ষ টন তেল চট্টগ্রামে আসছে সাইয়েদ বিন আব্দুল্লাহ প্রধানমন্ত্রীর যুব কর্মসংস্থান বিষয়ক বিশেষ সহকারী নিযুক্ত দেশে ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র, মোট ক্ষমতা ২৮,৯১৯ মেগাওয়াট: বিদ্যুৎমন্ত্রী এলপি গ্যাসের দাম একলাফে বাড়ল, ১২ কেজি সিলিন্ডার এখন ১,৭২৮ টাকা বিজন কান্তি সরকার প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী হিসেবে নিযুক্ত আগামী ঈদে সড়ক ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হবে: সেতু ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ত্রয়োদশ সংসদের সংসদ কমিটির তৃতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত

চিরবিদায় নিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নজরুলসংগীতশিল্পী ডালিয়া নওশীন

দেশের বরেণ্য নজরুলসংগীত শিল্পী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা ডালিয়া নওশীন আর নেই। বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি; গত ২৭ মার্চ শারীরিক অবস্থার তীব্র অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সব চিকিৎসা ও প্রচেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত তিনি চলে গেলেন না-ফেরার দেশে।

ডালিয়া নওশীনের প্রয়াণের সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর খালাতো বোন ও প্রখ্যাত নজরুলসংগীত শিল্পী সাদিয়া আফরিন মল্লিক। পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছে, আজ বাদ মাগরিব গুলশান সোসাইটি মসজিদে মরহুমার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং এরপর রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মর্যাদায় বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। ব্যক্তিগতভাবে তিনি দুই সন্তানের জননী; তার দুই সন্তান বর্তমানে যথাক্রমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেনে বসবাস করছেন। ডালিয়া নওশীন ছিলেন দেশের প্রখ্যাত স্থপতি মাজহারুল ইসলামের সুযোগ্য কন্যা।

ডালিয়া নওশীন বাংলাদেশের সংগীত ও ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল অধ্যায়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সরব কণ্ঠ ছিলেন; তাঁর উদ্দীপনামূলক গানগুলো তখনকার মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মনোবল বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা করেছে। বছরের পর বছর নজরুলসংগীতের শুদ্ধচর্চা ও প্রসারে তাঁর অবদান অনবদ্য।

সংগীতে অসাধারণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২০ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করে। তাঁর প্রয়াণে সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা সংগঠন থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

ডালিয়া নওশীনের সুর, সাহসিকতা ও দেশপ্রেম দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বারবার স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর গাওয়া গান ও সংগ্রামী মনোবল আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

জ্বালানি সঙ্কটে অফিস সময় বদল — সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা

চিরবিদায় নিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত নজরুলসংগীতশিল্পী ডালিয়া নওশীন

প্রকাশিতঃ ০৭:২১:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

দেশের বরেণ্য নজরুলসংগীত শিল্পী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা ডালিয়া নওশীন আর নেই। বুধবার (১ এপ্রিল) রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। দীর্ঘদিন ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছিলেন তিনি; গত ২৭ মার্চ শারীরিক অবস্থার তীব্র অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সব চিকিৎসা ও প্রচেষ্টার পরও শেষ পর্যন্ত তিনি চলে গেলেন না-ফেরার দেশে।

ডালিয়া নওশীনের প্রয়াণের সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন তাঁর খালাতো বোন ও প্রখ্যাত নজরুলসংগীত শিল্পী সাদিয়া আফরিন মল্লিক। পারিবারিক সূত্রে জানানো হয়েছে, আজ বাদ মাগরিব গুলশান সোসাইটি মসজিদে মরহুমার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং এরপর রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক মর্যাদায় বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে। ব্যক্তিগতভাবে তিনি দুই সন্তানের জননী; তার দুই সন্তান বর্তমানে যথাক্রমে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও স্পেনে বসবাস করছেন। ডালিয়া নওশীন ছিলেন দেশের প্রখ্যাত স্থপতি মাজহারুল ইসলামের সুযোগ্য কন্যা।

ডালিয়া নওশীন বাংলাদেশের সংগীত ও ইতিহাসে একটি উজ্জ্বল অধ্যায়। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সরব কণ্ঠ ছিলেন; তাঁর উদ্দীপনামূলক গানগুলো তখনকার মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মনোবল বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা করেছে। বছরের পর বছর নজরুলসংগীতের শুদ্ধচর্চা ও প্রসারে তাঁর অবদান অনবদ্য।

সংগীতে অসাধারণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২০ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করে। তাঁর প্রয়াণে সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা সংগঠন থেকে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

ডালিয়া নওশীনের সুর, সাহসিকতা ও দেশপ্রেম দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বারবার স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর গাওয়া গান ও সংগ্রামী মনোবল আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।