০৮:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষঃ
দেশ গঠনে সব ধর্মাবলম্বীর ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী হাম-রুবেলা প্রতিরোধে ১৮ জেলা, ৩০ উপজেলায় জরুরি টিকাদান শুরু দুর্যোগ প্রতিরোধে আরও ১২৮টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সৌজন্য সাক্ষাৎ আমেরিকার সঙ্গে কোনো গোপনীয় চুক্তি নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোনো একক ব্যক্তির নির্দেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়নি: মির্জা ফখরুল মানবসম্পদ রক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ অপরিহার্য: চিফ হুইপ বার কাউন্সিলের নির্বাচন হবে ১৯ মে ইরান যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬ প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর জাননি ইরান সংঘাতে এখনও পর্যন্ত ৬ প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত

হৃদরোগের জটিলতায় মাত্র ৩৪ বছরেই পেশাদার ফুটবলকে বিদায় বললেন অস্কার

ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার অস্কার ডস সান্তোস মাত্র ৩৪ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবল থেকে চিরতরে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। সাও পাওলো ক্লাব এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই দুর্দান্ত খেলোয়াড়ের কঠিন সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করেছে। অনেকে আক্ষেপ করছেন যে আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে সৃজনশীল মিডফিল্ডারদের একজনের ক্যারিয়ার এমন অকালেই শেষ হয়ে গেল।

অস্কারের অবসরের পেছনে মূল কারণ হলো গত বছরের নভেম্বরে সাও পাওলোর বাররা ফুন্ডা ট্রেনিং সেন্টারে এক্সারসাইজ বাইকে ফিটনেস পরীক্ষা দেওয়ার সময় ঘটে যাওয়া অহেতুক অসুস্থতা। চিকিৎসকদের মতে তিনি ‘ভাসোভাগাল সিনকোপে’ আক্রান্ত হয়েছিলেন — তীব্র আবেগ বা শারীরিক চাপের ফলে মস্তিষ্কে সাময়িক রক্তপ্রবাহ কমে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়া। ওই ঘটনার পর তাকে জটিল একটি অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং তার পরই তিনি প্রায় পাঁচ মাস মাঠের বাইরে ছিলেন। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ কেনা-বেচার শেষে অস্কার বুঝতে পেরেছেন যে উচ্চতর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফুটবলে ফিরে যাওয়া তার জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

যদিও অস্কারের সাও পাওলোর সঙ্গে চুক্তি ছিল ২০২৭ সাল পর্যন্ত, তবে জীবনের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনি চলতি সপ্তাহেই সেই চুক্তি শেষ করেছেন এবং অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। আবেগপূর্ণ এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, সাও পাওলোর হয়ে আরও অনেক কিছু দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল; তবু নিজের রোগ ও পরিবারের পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেয়ার কোনো বিকল্প ছিল না। মাঠকে বিদায় দিলেও তিনি বলেন, আজীবন ফুটবলের সঙ্গে থাকতে চান এবং একজন সমর্থক হিসেবে সাও পাওলোকে পাশে রাখবেন।

অস্কারের ক্লাব ফুটবল ক্যারিয়ার ছিল প্রশংসনীয়। ২০১২ সালে তিনি চেলসিতে যোগ দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে থাকা অবস্থায় তিনি চেলসির হয়ে দুটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা এবং একটি উয়েফা ইউরোপা লিগ জিতেছেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমের মাঝপথে প্রায় ৭৩ মিলিয়ন ডলারের একটি বড় ট্রান্সফারে তিনি চীনের সাংহাই পোর্টে (শাংহাই এসআইপিজি) যোগ দেন এবং সেখানে তিনটি সুপার লিগ শিরোপা জয় করেন। ২০২৪ সালের শেষভাগে তিনি ফ্রি এজেন্ট হিসেবে নিজ দেশে ফিরে এসে সাও পাওলোতে যোগ দিয়েছিলেন।

জাতীয় পর্যায়ে অস্কারের অবদানও উল্লেখযোগ্য ছিল। ব্রাজিল জাতীয় দলে তিনি ৪৮ ম্যাচে উপস্থিত থেকে ১২ গোল করেছেন এবং বিশেষ করে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ২০১৪ বিশ্বকাপে তার কৌশল ও খেলার ধাঁচ দর্শক ও সমর্থকদের মনে গেঁথে গেছে। ২০১৫ সালের পর কৌশলগত কারণে তাকে জাতীয় দলে কম দেখা গেলেও তার খেলাধরণ এবং মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা অনেকে মনে রাখবেন।

মাত্র ৩৪ বছর বয়সে এমন একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের বিদায় নিঃসন্দেহে ফুটবল বিশ্বের জন্য বড় ক্ষতি। ক্লাব, সহকর্মী ও অসংখ্য ভক্তরা এখন তাঁর দ্রুত সেরে ওঠা এবং ভবিষ্যতে সুখী ও সুস্থ জীবন কাটানোর জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন।

ট্যাগ :
সর্বাধিক পঠিত

হাম-রুবেলা প্রতিরোধে ১৮ জেলা, ৩০ উপজেলায় জরুরি টিকাদান শুরু

হৃদরোগের জটিলতায় মাত্র ৩৪ বছরেই পেশাদার ফুটবলকে বিদায় বললেন অস্কার

প্রকাশিতঃ ০২:২২:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার অস্কার ডস সান্তোস মাত্র ৩৪ বছর বয়সে পেশাদার ফুটবল থেকে চিরতরে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। সাও পাওলো ক্লাব এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই দুর্দান্ত খেলোয়াড়ের কঠিন সিদ্ধান্তটি নিশ্চিত করেছে। অনেকে আক্ষেপ করছেন যে আধুনিক ফুটবলের সবচেয়ে সৃজনশীল মিডফিল্ডারদের একজনের ক্যারিয়ার এমন অকালেই শেষ হয়ে গেল।

অস্কারের অবসরের পেছনে মূল কারণ হলো গত বছরের নভেম্বরে সাও পাওলোর বাররা ফুন্ডা ট্রেনিং সেন্টারে এক্সারসাইজ বাইকে ফিটনেস পরীক্ষা দেওয়ার সময় ঘটে যাওয়া অহেতুক অসুস্থতা। চিকিৎসকদের মতে তিনি ‘ভাসোভাগাল সিনকোপে’ আক্রান্ত হয়েছিলেন — তীব্র আবেগ বা শারীরিক চাপের ফলে মস্তিষ্কে সাময়িক রক্তপ্রবাহ কমে গিয়ে অচেতন হয়ে পড়া। ওই ঘটনার পর তাকে জটিল একটি অস্ত্রোপচারের মধ্য দিয়ে যেতে হয় এবং তার পরই তিনি প্রায় পাঁচ মাস মাঠের বাইরে ছিলেন। দীর্ঘ পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ কেনা-বেচার শেষে অস্কার বুঝতে পেরেছেন যে উচ্চতর প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ফুটবলে ফিরে যাওয়া তার জীবন ও স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

যদিও অস্কারের সাও পাওলোর সঙ্গে চুক্তি ছিল ২০২৭ সাল পর্যন্ত, তবে জীবনের বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনি চলতি সপ্তাহেই সেই চুক্তি শেষ করেছেন এবং অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন। আবেগপূর্ণ এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, সাও পাওলোর হয়ে আরও অনেক কিছু দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল; তবু নিজের রোগ ও পরিবারের পরামর্শ বিবেচনায় নিয়ে এই সিদ্ধান্ত নেয়ার কোনো বিকল্প ছিল না। মাঠকে বিদায় দিলেও তিনি বলেন, আজীবন ফুটবলের সঙ্গে থাকতে চান এবং একজন সমর্থক হিসেবে সাও পাওলোকে পাশে রাখবেন।

অস্কারের ক্লাব ফুটবল ক্যারিয়ার ছিল প্রশংসনীয়। ২০১২ সালে তিনি চেলসিতে যোগ দিয়ে আন্তর্জাতিক মঞ্চে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। স্ট্যামফোর্ড ব্রিজে থাকা অবস্থায় তিনি চেলসির হয়ে দুটি প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা এবং একটি উয়েফা ইউরোপা লিগ জিতেছেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমের মাঝপথে প্রায় ৭৩ মিলিয়ন ডলারের একটি বড় ট্রান্সফারে তিনি চীনের সাংহাই পোর্টে (শাংহাই এসআইপিজি) যোগ দেন এবং সেখানে তিনটি সুপার লিগ শিরোপা জয় করেন। ২০২৪ সালের শেষভাগে তিনি ফ্রি এজেন্ট হিসেবে নিজ দেশে ফিরে এসে সাও পাওলোতে যোগ দিয়েছিলেন।

জাতীয় পর্যায়ে অস্কারের অবদানও উল্লেখযোগ্য ছিল। ব্রাজিল জাতীয় দলে তিনি ৪৮ ম্যাচে উপস্থিত থেকে ১২ গোল করেছেন এবং বিশেষ করে ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত ২০১৪ বিশ্বকাপে তার কৌশল ও খেলার ধাঁচ দর্শক ও সমর্থকদের মনে গেঁথে গেছে। ২০১৫ সালের পর কৌশলগত কারণে তাকে জাতীয় দলে কম দেখা গেলেও তার খেলাধরণ এবং মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা অনেকে মনে রাখবেন।

মাত্র ৩৪ বছর বয়সে এমন একজন প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের বিদায় নিঃসন্দেহে ফুটবল বিশ্বের জন্য বড় ক্ষতি। ক্লাব, সহকর্মী ও অসংখ্য ভক্তরা এখন তাঁর দ্রুত সেরে ওঠা এবং ভবিষ্যতে সুখী ও সুস্থ জীবন কাটানোর জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন।